| রবিবার, ১৮ মে ২০২৫ | প্রিন্ট | 92 বার পঠিত
শীর্ষ আয়কারী অ্যাথলিট রোনালদো
এক বছরে (১ মে ২০২৪ থেকে ১ মে ২০২৫) রোনালদো আয় করেছেন ২৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার (প্রায় ৩ হাজার ৩৪৩ কোটি টাকা), যা গতবারের চেয়ে দেড় কোটি ডলার বেশি। আমেরিকান বাস্কেটবল খেলোয়াড় স্টিফেন কারি ১৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার আয় করে দুইয়ে, বক্সার টাইসন ফিউরি ১৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার আয় করে তিনে, আমেরিকান ফুটবলের তারকা ডাক প্রেসকট ১৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার নিয়ে চারে ও আর্জেন্টাইন ফুটবল সুপারস্টার লিওনেল মেসি ১৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার আয় করে পাঁচে অবস্থান করছেন।
এরপরে রয়েছেন বাস্কেটবল সুপারস্টার লেব্রন জেমস (১৩ কোটি ৩৮ লাখ ডলার), বেসবল তারকা হুয়ান সোতো (১১ কোটি ৪০ লাখ ডলার), ফুটবল সুপারস্টার করিম বেনজেমা (১০ কোটি ৪০ লাখ ডলার), বেসবল তারকা শোহেই ওহতানি (১০ কোটি ২৫ লাখ ডলার) ও বাস্কেটবল সুপারস্টার কেভিন ডুর্যান্ট (১০ কোটি ১৪ লাখ ডলার)। শীর্ষ ফুটবল খেলোয়াড় সম্মিলিতভাবে ২০২৫ সালে ১৪০ কোটি ডলার আয় করেছেন।
এক বছরে রোনালদোর চেয়ে বেশি আয়ের কীর্তি আছে শুধু একজনের। ২০১৫ সালে ৩০ কোটি ডলার আয় করেছিলেন আমেরিকান বক্সার ফ্লয়েড মেওয়েদার। তিনি ২০১৮ সালে আয় করেছিলেন ২৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার। ২০২৫ সালে রোনালদোর আয় করা ২৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার ইতিহাসের তৃতীয় সেরা।
৪০ বছর বয়সী রোনালদো ২০২২ সালের ডিসেম্বরে সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসেরে নাম লেখান। পারিশ্রমিক হিসেবে তাকে বছরে ২০ কোটি ডলার দিচ্ছে আল নাসের। সেই সঙ্গে মাঠের বাইরের নানা উৎস থেকে আয় করেন তিনি। যেমন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে বিশাল আয় করেন। সব ধরনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মিলিয়ে তার অনুসারী ৯৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার।
১৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার আয় করে তালিকার ছয় নম্বরে এনবিএ সুপারস্টার স্টিফেন কারি, যিনি গত মাসে এনবিএর প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ৪ হাজার ক্যারিয়ার থ্রি-পয়েন্টার্স অর্জন করেন।
গত ডিসেম্বরে ইউক্রেনের ওলেকসান্দার উসিককে হারিয়ে বিশ্ব হেভিওয়েট শিরোপা জয় করা ব্রিটিশ বক্সার টাইসন ফিউরি ১৪৬ মিলিয়ন ডলার আয় করে তালিকার চারে অবস্থান করছেন। নেটফ্লিক্সের টেলিভিশন রিয়ালিটি শো আর মাল্টার পর্যটনের সঙ্গে চুক্তি থেকে তিনি বেশি আয় করেন।
তিন থেকে পাঁচে নেমে গেছেন মাঠে ও মাঠের বাইরে রোনালদোর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মেসি। যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারের দল ইন্টার মায়ামিতে খেলায় আয় কমেছে তার।
রোনালদো কতটা আধিপত্য করেছেন তা তালিকা দেখেই অনুমান করে নেয়া যায়। দ্বিতীয় স্থানধারী স্টিফেন কারির চেয়ে ১১৯ মিলিয়ন ডলার বেশি আয় করেছেন তিনি। রোনালদোর চেয়ে অনেক পিছিয়ে থাকলেও কারির ১৫৬ মিলিয়ন ডলার আবার তার খেলাটিতে রেকর্ড। গত বছর ১২৮ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলার আয় করে রেকর্ড গড়েছিলেন লেব্রন জেমস। এবার সেটিকে টপকে গেলেন কারি। অবশ্য লেব্রন জেমস এবারই ক্যারিয়ারসেরা ১৩৩ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলার আয় করেছেন।
ন্যাশনাল ফুটবল লিগ ও মেজর লিগ বেসবলে আয়ের রেকর্ড গড়েছেন ডালাস কাউবয়েজের কোয়ার্টার ব্যাক ডাক প্রেসকট (১৩৭ মিলিয়ন ডলার) ও নিউইয়র্ক মেটসের মিডফিল্ডার হুয়ান সোতো (১১৪ মিলিয়ন ডলার)।
শীর্ষ ১০ জনের আয় করা ১৪০ কোটি ডলারও নতুন রেকর্ড। গত বছর শীর্ষ ১০ অ্যাথলিট মিলে আয় করেছিলেন ১৩৮ কোটি ডলার। ১৯৯০ সালে ফোর্বস আয়ের র্যাংকিং চালু করার পর ১৪০ কোটি ডলারই সর্বোচ্চ।
কারি ও ওহতানি গত ১২ মাসে মাঠের বাইরের ঈর্ষণীয় আয়ে ৯ অঙ্কের ফিগারে ঢুকে পড়েছেন। এনডোর্সমেন্ট, উপস্থিতি, মেমোরাবিলিয়া ও লাইসেন্সিং ফি মিলিয়ে দুজনই আয় বাড়িয়েছেন। মাত্র তিনজন সক্রিয় খেলোয়াড় মাঠের বাইরে থেকে এক বছরে ১০ কোটি ডলারের বেশি আয় করেছেন। তারা হলেন এমএমএ ফাইটার কনোর ম্যাকগ্রেগর (১৫৮ মিলিয়ন ডলার, ২০২১ সাল), গলফার টাইগার উডস (১০৫ মিলিয়ন ডলার, ২০০৯ ডলার) ও টেনিস খেলোয়াড় রজার ফেদেরার (১০০ মিলিয়ন ডলার, ২০২০ সাল)।
কারি কিংবা ওহতানি কারোরই সৌদি আরবের সঙ্গে ব্যবসায়িক যোগসূত্র গড়ে ওঠেনি। ‘স্পোর্টসওয়াশ’-এর মাধ্যমে সব ধরনের খেলার শীর্ষ তারকাদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি। এরই মধ্যে লিভ গলফ আয়োজন করেছে তারা, যেখানে শীর্ষ ১০ গলফারের চারজনই অংশ নিয়েছেন। রিয়াদে দু-দুবার উসিকের সঙ্গে লড়াই করেছেন টাইসন ফিউরি। সৌদি আরবের পর্যটন বিভাগের সঙ্গে দূত হিসেবে চুক্তিবদ্ধ মেসি পাচ্ছেন ৭৫ মিলিয়ন ডলার। করিম বেনজেমা তো সেখানকার ক্লাব আল-ইত্তিহাদে খেলে থাকেন।
এরপর তো রোনালদো। পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী রোনালদোর চুক্তিটা আড়াই বছরের। তিনি বছরে ২০ কোটি ডলারেরও বেশি পাচ্ছেন। যদিও আল নাসেরের হয়ে এখনো কোনো শিরোপা জিততে পারেননি তিনি।
সৌদি আরবের চুক্তিটাই অন্যদের চেয়ে রোনালদোকে যোজন যোজন এগিয়ে রেখেছে। অথচ ২০১৬ সালে প্রথমবার তিনি যখন ফোর্বসের তালিকায় শীর্ষস্থান পান তখন তার আয় ছিল মাত্র ৮৮ মিলিয়ন ডলার। এক বছর পরই তার আয় বাড়ে ৯৩ মিলিয়ন ডলার।
হয়তো চমক এখানেই শেষ নয়। গুঞ্জন রয়েছে আল নাসেরের সঙ্গে তিনি চুক্তি নবায়ন করতে পারেন কিংবা না করলেও অন্য কোথাও আকর্ষণীয় চুক্তি করতে চলেছেন।
বিশ্বের শীর্ষ আয়কারী ৫০ অ্যাথলিটের মধ্যে জায়গা করে নেয়া কখনই সহজ কথা নয়। এবার তো কাজটা আরো কঠিন। কারণ এবার ৫০তম অ্যাথলিটকে আয় করতে হয়েছে ৫ কোটি ৩৬ লাখ ডলার, যা ২০২৪ সালের ৪ কোটি ৫২ লাখ ডলারের চেয়ে ১৯ শতাংশ বেশি এবং ২০১৭ সালের প্রায় দ্বিগুণ। মাত্র আট বছর আগেও ৫০ নম্বরের এ আয় দিয়ে ছয় নম্বরে জায়গা করে নেয়া যেত। অথচ এ বছর ষষ্ঠ হওয়া লস অ্যাঞ্জেলেস লেকার্সের ফরোয়ার্ড লেব্রন জেমস গত ১২ মাসে আয় করেছেন ১৩ কোটি ৩৮ লাখ ডলার। তা-ও আবার শীর্ষস্থানধারী রোনালদোর ধারেকাছেও নেই তিনি। রোনালদো আয় করেছেন ২৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার।
এ বছর শীর্ষ ৫০ অ্যাথলিট মিলে আয় করেছেন ৪২৩ কোটি ডলার, গত বছর যা ছিল ৩৮৮ কোটি ডলার। নতুন এ অংকের মধ্যে ১০৪ কোটি ডলার এসেছে অ্যাথলিটদের এনডোর্সমেন্ট, উপস্থিতি আর অন্যান্য ব্যবসায়িক প্রচেষ্টা থেকে। এ খাত থেকে ২০২৪ সালে এসেছিল ৯৩ কোটি ৬০ লাখ ও ২০২৩ সালে ১০৮ কোটি ডলার।
Posted ৪:৫৫ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ১৮ মে ২০২৫
bankbimarkhobor.com | Mr. Islam