| রবিবার, ২৯ জুন ২০২৫ | প্রিন্ট | 150 বার পঠিত
প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সাবেক চেয়ারম্যান, এমডিসহ দুর্নীতিবাজ পরিচালকদের বিরুদ্ধে মামলা
দুর্নীতি ও জালিয়াতির মাধ্যমে প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্সের বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় অবশেষে কোম্পানিটির সাবেক চেয়ারম্যান নাসির আলী শাহ, তার শ্যালক ও পরিচালক নাজিম তাজিক চৌধুরী এবং সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. এ করিমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। কোম্পানির পক্ষে শেয়ারহোল্ডার ও পরিচালক প্রদীপ সেন বাদি হয়ে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে এই মামলা করেছেন।
দন্ডবিধির ৪০৬, ৪০৯, ৪২০, ১০৯ ও ৩৪ ধারায় দায়ের করা ওই মামলা ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০১১ সালে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের ৯১ তম সভার সিদ্ধান্তে তিনটি প্লটে ২০.৬২ কাঠা জমি কেনা হয়। ২০১৭ সালে যার দুটি প্লট রেজিস্ট্রি করে ৭২ লাখ ৬০ হাজার টাকা দলিল মূল্য দেখানো হয়। কিন্তু দুর্নীতিবাজ এই পরিচালকরা ২০১১ সালের ১২ জুলাই থেকে ২০১৭ সালের ২৮ মে পর্যন্ত ২১ টি চেকের মাধ্যমে জমি বিক্রেতা ইস্টার্ন হাউজিংকে ২৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকা পরিশোধ দেখান। পরবর্তীতে মেসার্স হুদা ভাসি চৌধুরি অ্যান্ড কোং চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্টস ফার্মের ব্যবস্থাপনা নিরীক্ষা প্রতিবেদনে দেখা যায়, রাজধানীর আফতাব নগর প্রকল্পের ওই জমিতে তৎকালীন বাজার মূল্যের চেয়ে ১৬ কোটি ৭০ লাখ ৪০ হাজার টাকা বেশি দাম দেখানো হয়েছে। অডিট আপত্তি ছাড়াও বিভিন্ন সূত্রে এই জমি ক্রয়ে জালজালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠে আসে। যার ফলশ্রুতিতে কোম্পানির ১৪৫, ১৪৬ ও ১৭৭ তম পর্ষদ সভায় এই আর্থিক দুর্নীতি নিয়ে আলোচনা হয় এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। অডিট প্রতিবেদনে এই জমি ক্রয়ে অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতে কোম্পানির আরো কিছু কর্মকর্তা জড়িত বলে প্রতীয়মাণ হয়।
সূত্র জানায়, প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পরিচালনা পর্ষদের ১৪৫, ১৪৬ ও ১৭৭ তম সভায় নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান হুদা ভাসি চৌধুরীর ব্যবস্থাপনা নিরীক্ষা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ২০০৯ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত কোম্পানির ১১৪ কোটি ২১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা আত্মসাতের ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানটির ওই প্রতিবেদনে দেখা যায়, প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির এই দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট ভুয়া অনুমোদনহীন এজেন্টকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে কোটি কোটি টাকা প্রদান, আবাসিক প্রকল্পে প্লট ক্রয়, চট্টগ্রাম ও সিলেটে জমি ক্রয়, গাড়ি কেনা, ইসলামী (তাকাফুল) বীমার সার্ভিস বন্ধ করে দেয়ার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাত করেছে । কোম্পানির ৯ টি খাত থেকে এই অর্থ আত্মসাত করে নাসির আলী শাহ, এম. এ করিম, নাজিম তাজিক চৌধুরী সিন্ডিকেট।
এরমধ্যে ২০০৯-২০১২ সাল পর্যন্ত অতিরিক্ত প্রিমিয়াম ইনকাম এবং উচ্চ ব্যবস্থাপনা ব্যয় দেখিয়ে আত্মসাত করেন ৫৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। কোম্পানির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এবং সিনিয়র স্টাফদের সমন্বয়ে ১২২৮টি পিআর বই জালিয়াতির মাধ্যমে পলিসি গ্রাহকদের নিকট থেকে টাকা নেওয়া হয়, কিন্তু টাকা কোম্পানির অ্যাকাউন্টে জমা না করে নিজেরা আত্মসাত করে। আত্মসাতকৃত টাকার পরিমাণ ৩০ কোটি ১৯ লাখ। উক্ত টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালে ঢাকার চীফ মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। যার মামলা নং- ১৪৫৮/২০১৮, সেকশন: ২০৪/৪২০/৪০৬, পেনাল কোড- ১৮৬০।
২০০৯-২০১২ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রামের আগ্রবাদে অবস্থিত জহুরা টাওয়ারে ফ্লোর ক্রয়ের নামে ৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকা আত্মসাত করেছে। ২০০৯-২০১২ পর্যন্ত কোম্পানির বিভিন্ন বন্ধ সার্ভিস সেল এর শাখা অফিসসমূহ থেকে পেটি ক্যাশের মাধ্যমে, ক্যাশ ইন-হ্যান্ড এবং দীর্ঘ বকেয়া ব্যালেন্স দেখিয়ে ৬ কোটি ২৫ লাখ ৭৬ হাজার টাকা আত্মসাৎ করে।
কোম্পানির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এবং সিনিয়র স্টাফ কর্তৃক একই পিআর নম্বর কেটে পলিসি গ্রাহকদের নিকট থেকে ৪০ লাখ ৪৭ হাজার ৫৮২ টাকা আত্মসাত। কোম্পানির সাবেক এমডি এম এ করিম দায়িত্বে থাকাকালীন অবৈধভাবে নিজের বেতন ২,৫০,০০০ – ৬,০০,০০০/- টাকা পর্যন্ত বর্ধিত করে প্রায় ৪ বছর ধরে নেন এবং ভুয়া কর্মকর্তা/কর্মচারীদের নাম দেখিয়ে ৩৮ লাখ ১৪ হাজার ৭৮৬ টাকা আত্মসাত করেন। তৎকালীণ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বীমা আইন লঙ্ঘন করে জালিয়াতির মাধ্যমে অবৈধভাবে বিভিন্ন সার্ভিস সেল এর এজেন্টদের বৈধ লাইসেন্স বা অনুপস্থিতি ছাড়াই ডাবল কমিশন বিল দেখিয়ে ৭৯ লাখ ৬৭ হাজার ১২৩ টাকা আত্মসাৎ করেন।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এম. এ করিম বলেন,মামলার অভিযোগগুলো সঠিক নয়। যে মামলা করেছে তার সম্পর্কে আগে জানতে হবে। আমরা আদালতে মোকাবিলা করবো। নাজিম তাজিক চৌধুরী বলেন, আমি বিকল্প পরিচালক ছিলাম। এসব অভিযোগের দায়ভার তো আমার উপর আসতে পারে না। বেশির ভাগ মামলা সম্পর্কে আমি জানি না, তবে সিআইডি তদন্ত করছে সেটি জানি। এ বিষয়ে নাসির আলী শাহ’র মন্তব্য জানতে চাইলে টেলিফোনে তাকে পাওয়া যায়নি।
Posted ১০:১৭ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ২৯ জুন ২০২৫
bankbimarkhobor.com | Mr. Islam