| বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ | প্রিন্ট | 64 বার পঠিত
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ যেন কর্তৃত্ব ফলাতে না পারে সে প্রস্তুতি চলছে
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন অটুট রাখার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রস্তুতি নিচ্ছি। আশা করি তিন-চার মাসের মধ্যে ক্যাবিনেটে (মন্ত্রিপরিষদ সভায়) নিয়ে যেতে পারব। এর লক্ষ্য হবে পরবর্তীকালে যখন আবার রাজনৈতিক চর্চা শুরু হবে, তখন যেন রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কম হয় এবং এফআইডির মতো প্রতিষ্ঠান (আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ) যেন এখানে কর্তৃত্ব ফলাতে না পারে।’
রাজধানীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে গতকাল বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত দুই দিনব্যাপী এক সম্মেলনের শেষদিনে তিনি এ কথা বলেন। ‘রিকমেন্ডেশনস বাই দ্য টাস্কফোর্স অন রিস্ট্রাটেজাইজিং দ্য ইকোনমি’ শীর্ষক এ সম্মেলনে মোট আটটি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনের সপ্তম অধিবেশন ‘ম্যাক্রোইকোনমিক পলিসি অ্যান্ড গভর্ন্যান্স ইন দ্য ব্যাংকিং সেক্টর’-এ ভার্চুয়ালি যোগ দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি সুশাসনের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোকে পুনর্গঠন করার জন্য। সব ব্যাংক যে বেঁচে যাবে, তা নয়। কিছু ব্যাংকের বাঁচার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। কারণ আমরা দেখেছি, কোনো কোনো ক্ষেত্রে এনপিএল (নন-পারফর্মিং লোন) ৮৭ শতাংশ হয়ে গেছে এবং একই পরিবার এটার জন্য পুরোপুরিভাবে দায়ী।’
গভর্নর আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘দুটি ব্যাংক (ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি ও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি) মোটামুটি গ্র্যাজুয়েটেড (দুরবস্থা কাটিয়ে উঠবে) হয়ে যাবে। তারা নতুন করে কোনো আর্থিক সহায়তা চাচ্ছে না এবং দরকারও নেই। তাদের ওপর যে বিধিনিষেধগুলো আছে, সেগুলো আস্তে আস্তে কী করে তুলে নেয়া যায়, তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। বাকি ব্যাংকগুলোকে আমরা পর্যবেক্ষণের মধ্যে রেখেছি। তাদের অ্যাসেট কোয়ালিটি পর্যালোচনা করছি। এপ্রিলের মাঝামাঝি নাগাদ হয়তো আমরা সেগুলো নিয়ে চিন্তা করতে পারব।’
বাংলাদেশ ব্যাংক এ মুহূর্তে নতুন করে ডিজিটাল ব্যাংকের অনুমোদন দেয়ার পরিবর্তে মোবাইলভিত্তিক আর্থিক সেবাকে আন্তঃলেনদেনযোগ্য করার বিষয়ে চিন্তা করছে বলেও জানান ড. আহসান এইচ মনসুর।
দুদিনব্যাপী সম্মেলনের শেষদিনে অনুষ্ঠিত বাকি অধিবেশনগুলো হলো ‘এডুকেশন, ইয়ুথ আনএমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট’, ‘সোশ্যাল ইনইক্যুয়ালিটি অ্যান্ড পভার্টি অ্যালিভিয়েশন’ ও ‘ইনস্টিটিউশনাল গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ওয়ে ফরওয়ার্ড’।
সমাপনী অধিবেশনে ‘টাস্কফোর্স অন রিস্ট্রাটেজাইজিং দ্য ইকোনমির চেয়ারম্যান ড. কেএএস মুর্শিদ বলেন, ‘আমরা অনেকগুলো সুপারিশ করেছি। এর মধ্যে অবশ্যই কিছু বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে। কিন্তু কোনটির চেয়ে কোনটি বাস্তবায়ন করা সহজ হবে, সে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার বা মন্ত্রণালয়। আমাদের পক্ষে এ বিবেচনা করা সম্ভব নয়। তবে আমাদের প্রধান একটি ফোকাস থাকা উচিত অর্থনৈতিক বিষয়ে। অর্থনৈতিক অপরাধই অনেকাংশে আমাদেরকে বর্তমান জায়গায় নিয়ে এসেছে। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হচ্ছে, অর্থনৈতিক অপরাধ চিহ্নিত হয়, কিন্তু প্রজিকিউটেড (মামলা-মোকদ্দমা) হয় না।’
সম্মেলনের শেষদিনে বিভিন্ন অধিবেশনে আরো বক্তব্য রাখেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদ, সিপিডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান, দুর্নীতি দমন সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. ইফতেখারুজ্জামান, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রধান আবদুল মুয়ীদ চৌধুরী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু প্রমুখ।
Posted ৪:২২ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
bankbimarkhobor.com | Mr. Islam