শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে দেশের অর্থনীতি ও পাঁচ কোটি মানুষের ভালো-মন্দ জড়িত

  |   মঙ্গলবার, ১৩ মে ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   133 বার পঠিত

ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে দেশের অর্থনীতি ও পাঁচ কোটি মানুষের ভালো-মন্দ জড়িত

ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে দেশের অর্থনীতি ও পাঁচ কোটি মানুষের ভালো-মন্দ জড়িত

মো. ওমর ফারুক খান। দায়িত্ব পালন করছেন ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে। ১৯৮৬ সালে শরিয়াহভিত্তিক এ ব্যাংকটির কর্মকর্তা হিসাবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন তিনি। দেশের সর্ববৃহৎ এ ব্যাংকের বিপর্যয়, বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ইমামূল হাছান আদনান

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির গত সাত-আট বছরের কার্যক্রম নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?

ইসলামী ব্যাংকের প্রতিষ্ঠা, বিকাশ ও অনন্য উচ্চতায় পৌঁছানো ছিল বাংলাদেশের জনগণের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। এটি ছিল দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার শরিয়াহভিত্তিক প্রথম ব্যাংক। ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ব্যাংকটি জনসাধারণের সহযোগিতা, সমর্থন ও ভালোবাসা পেয়েছে। এ দেশের মানুষ ব্যাংকটিকে নিজেদের আমানতের জিম্মাদার ও সমৃদ্ধির বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছিল। ফলে ইসলামী ব্যাংক দেশের শীর্ষ ব্যাংকে রূপান্তর হতে পেরেছিল। ২০১২ সালে যুক্তরাজ্যভিত্তিক ম্যাগাজিন ‘দ্য ব্যাংকার’ কর্তৃক প্রকাশিত বিশ্বের শীর্ষ এক হাজার ব্যাংকের তালিকায় এ ব্যাংক স্থান পেয়েছিল। পরের বছরগুলোতেও সাফল্যের এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত ছিল।

ইসলামী ব্যাংকের অভূতপূর্ব সাফল্য দেশের কিছু মানুষ মেনে নিতে পারেনি। তাদের দীর্ঘদিনের ষড়যন্ত্রের চূড়ান্ত রূপ দেখা যায় ২০১৭ সালে। ওই বছর গায়ের জোরে ব্যাংকটির মালিকানা ও পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তন আনা হয়। এর পর থেকে ব্যাংকটি সুশাসনের রীতিনীতি মেনে পরিচালিত হয়নি। গত কয়েক বছরে জনবল নিয়োগ, বিনিয়োগসহ প্রায় সব ক্ষেত্রেই অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছে। এটি না হলে ইসলামী ব্যাংক আরো বিস্তৃত হতো। দেশের অর্থনীতিতেও আরো উজ্জ্বল ভূমিকা রাখতে পারত। তবে আশার কথা, ইসলামী ব্যাংক পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান গভর্নর ব্যাংকটির ঘুরে দাঁড়ানোকে ‘মিরাকল’ সম্বোধন করেছেন।

এ ব্যাংকের বর্তমান অবস্থার জন্য আপনি কাকে বেশি দায়ী করবেন?

এ ব্যাংককে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেয়ার জন্য এককভাবে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা বেশ কঠিন। কারণ এক্ষেত্রে রাষ্ট্রের একাধিক পক্ষের ভূমিকা ও ব্যর্থতা জড়িত। এটি ঘটেছে সামষ্টিক যোগসাজশে। ২০১৭ সালে পরিবর্তনের পর ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ প্রভাবশালী গোষ্ঠীর চাপের কাছে নতি স্বীকার করেছিল। এক্ষেত্রে এস আলম গ্রুপের সংশ্লিষ্টতা ও হস্তক্ষেপ ছিল বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ বিভিন্ন নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। একাধিক আন্তর্জাতিক নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান বর্তমানে ইসলামী ব্যাংকে অডিট করছে। অডিট রিপোর্টে নির্দিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও তাদের ভূমিকার বিষয়ে আরো সুস্পষ্ট তথ্য আসতে পারে।

ব্যাংকের পরীক্ষিত কর্মী হিসেবে আপনাদের ভূমিকা কী ছিল? প্রতিবাদ করতে পারলেন না কেন?

গণ-অভ্যুত্থান-পূর্ববর্তী বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থা ও পরিবেশ বিরাজ করেছিল। প্রতিটি খাতেই ফ্যাসিবাদ জেঁকে বসায় তেমন কেউই প্রতিবাদ করতে পারেনি। ইসলামী ব্যাংকও ব্যতিক্রম ছিল না। অনিয়মের প্রতিবাদ করতে গিয়ে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। অনেকে চাকরিচ্যুতও হয়েছিলেন। অনেক শাখা ব্যবস্থাপককে অব্যাহতি দেয়া হয়েছিল। অনেককে দূরবর্তী স্থানে বদলি করে মানসিক নির্যাতন করা হয়েছিল। প্রতিবাদী অনেক কর্মকর্তাকে অপপ্রচার ছড়ানোর অপরাধ দেখিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এ ব্যাংকটি একটি মাফিয়া গোষ্ঠীর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়েছে। আমাকেও এ ব্যাংক ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল। ২০২২ সালের মার্চে একদিনের নোটিসে আমাকে পদত্যাগ করতে বলা হয়। ওই বছরের ২৮ মার্চ পদত্যাগ করে আমি অন্য ব্যাংকে চলে গিয়েছিলাম। গত বছরের ৫ আগস্টের পর ফিরে আসি। এখন সবাইকে নিয়ে ব্যাংকটিকে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছি।

ভবিষ্যতে আবারো একই পরিস্থিতি তৈরি হলে চাপের মুখে নতি স্বীকার করবেন?

অবশ্যই না। গত পাঁচ-সাত বছরে আমরা অনেক কিছু দেখেছি, শিখেছি। বিচ্ছিন্নভাবে প্রতিবাদ করেছি। কিন্তু মাফিয়াতন্ত্রের প্রভাব এত বেশি ছিল যে টিকে থাকতে পারিনি। আবারো যদি কখনো একই পরিস্থিতি তৈরি হয়, কিংবা অপেশাদার কোনো কাজের চাপ আসে, তাহলে সম্মিলিতভাবে প্রতিবাদ করব। প্রয়োজনে ঘোষণা দিয়ে দায়িত্ব ছেড়ে দেব। আমানতদারিতার প্রশ্নে আপস করব না।

এখন ইসলামী ব্যাংক কী অবস্থায় আছে?

গত কয়েক বছরে ইসলামী ব্যাংকের যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা অন্য কোনো ব্যাংকে হলে সেটি ঘুরে দাঁড়াতে পারত বলে আমার বিশ্বাস হয় না। বিস্ময়কর হলেও সত্য, ব্যাংকটি অল্প সময়ের মধ্যেই ঘুরে দাঁড়িয়েছে। সিআরআর হিসাবে বাংলাদেশ ব্যাংকে আমাদের ৬ হাজার ৩০০ কোটি টাকা জমা থাকার কথা। কিন্তু গত বছরের ৫ আগস্ট সিআরআর জমা তো দূরের কথা উল্টো ২ হাজার ৩০৮ কোটি টাকা ঘাটতি ছিল। সে ঘাটতি আমরা এরই মধ্যে কাটিয়ে উঠেছি। চলতি মাসের মধ্যেই আমাদের সিআরআর উদ্বৃত্ত থাকবে। গত বছরের ৫ আগস্ট ইসলামী ব্যাংকের এসএলআর ঘাটতি ছিল ১ হাজার ৬৫ কোটি টাকা। বর্তমানে এসএলআর উদ্বৃত্ত রয়েছে।

গণ-অভ্যুত্থানের পর ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনার প্রচেষ্টায় গত ১০ মাসে আমাদের ব্যাংকে ১৮ লাখ ৬৮ হাজার গ্রাহক নতুন হিসাব খুলেছেন। আমরা এখন আড়াই কোটি গ্রাহকের ব্যাংক। আগস্ট-পরবর্তী সময়ে আমরা ২৪ হাজার ৭০০ কোটি টাকার বেশি নতুন আমানত সংগ্রহ করেছি। গত এপ্রিলে আমানত স্থিতি ছিল ১ লাখ ৬৬ হাজার কোটি টাকা। ইসলামী ব্যাংকের চলতি হিসাব ঋণাত্মক ছিল, ফলে আন্তঃব্যাংক লেনদেন বিঘ্নিত হচ্ছিল। গত বছরের ৫ আগস্টের পর দ্রুত আমরা এ সমস্যা থেকে বেরিয়ে এসেছি। এখন চলতি হিসাব ইতিবাচক হওয়ায় আরটিজিএস, এনপিএসবি ও ক্লিয়ারিং ব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়েছে। বর্তমানে গ্রাহকরা নির্বিঘ্নে লেনদেন ও যখন খুশি ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে পারছেন। বৈদেশিক বাণিজ্য তথা আমদানি-রফতানিও স্বাভাবিক হয়েছে।

গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে ইসলামী ব্যাংকের ওপর বেশকিছু নিরীক্ষা হয়েছে। সেসব নিরীক্ষায় এখন পর্যন্ত বেনামি বিনিয়োগের (ঋণ) পরিমাণ কত পাওয়া গেল? বেনামি ঋণগুলো আদায় কতটা সম্ভব?

বেনামি ঋণ বলতে এমন বিনিয়োগকে বোঝায়, যা কাগুজে বা নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের নামে দেয়া হয়, বাস্তবে যার ব্যবসায়িক কার্যক্রম থাকে না। এ ঋণগুলো প্রায়ই প্রকৃত সুবিধাভোগী যেমন বড় বড় শিল্পগোষ্ঠী বা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের হাতে পৌঁছায়। অনেক ক্ষেত্রে অর্থ পাচারের মাধ্যমে দেশের বাইরে চলে যায়। বিগত সময়ে ইসলামী ব্যাংক থেকে যে পরিমাণ টাকা নিয়েছে তার বেশির ভাগই বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিনিয়োগের একটি বড় অংশ কাগুজে প্রতিষ্ঠানের নামে দেয়া হয়েছিল। আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার জটিলতার কারণে এ অর্থ পুনরুদ্ধার অত্যন্ত কঠিন।

গত বছরের আগস্টে বাংলাদেশ ব্যাংক এ ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে দিয়ে এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণমুক্ত করেছে। নতুন পর্ষদ দায়িত্ব নেয়ার পর ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কাঠামোয় সুশাসন ফিরেছে। বিনিয়োগ আদায় প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়েছে। তবে অতীত অভিজ্ঞতায় আমরা দেখেছি, সোনালী ব্যাংকের হলমার্ক কেলেঙ্কারির অর্থ আদায় কিংবা পিকে হালদারের পাচারকৃত অর্থ এখনো ফেরানো সম্ভব হয়নি। যে ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে টাকা পাচার হয়েছে, তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা গেলে বেশকিছু টাকা আদায় সম্ভব হবে। তবে এটি আইনি প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করবে। যদি বিদেশে পাচারকৃত অর্থের হদিস পাওয়া যায় এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থার সহযোগিতা পাওয়া যায়, তবে আদায়ের পরিমাণ বাড়তে পারে। এ প্রক্রিয়া অনেকটাই জটিল ও সময়সাপেক্ষ। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো যেভাবে কাজ করছে তাতে আমরা বেশ আশাবাদী।

ইসলামী ব্যাংকের ঋণপত্রের (এলসি) দায় পরিশোধের সর্বশেষ অবস্থা কী? এলসি খোলায় যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, সেটি কতটা কাটল?

ইসলামী ব্যাংকে এলসি খোলার জটিলতা এখন নেই। ৫ আগস্টের আগে তারল্য সংকট ও বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতির কারণে নতুন এলসি খোলার প্রক্রিয়ায় ধীরতা থাকলেও এখন কেটে গেছে। নিয়মিত এলসি দায়ও পরিশোধ করা হচ্ছে। শিগগিরই ব্যাংক আবার হারানো গৌরব ফিরে পাবে বলে আমার বিশ্বাস।

শীর্ষ নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর মৌলিক কোন সংস্কার করলেন? আগামীতে কোনগুলো করতে চান?

দায়িত্ব নেয়ার পর পরই বিভিন্ন খাতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া শুরু হয়েছে। ব্যাংক খাতে রেমিট্যান্স সংগ্রহে ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষস্থান ধরে রাখতে এবং ঈদের আগে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স দ্রুত ও নিরাপদে পৌঁছানোর লক্ষ্যে মাসব্যাপী রেমিট্যান্স সেবা ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে। আমানত বাড়ানোর জন্য বিশেষ কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। খেলাপি বিনিয়োগ আদায়েও বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছি। কর্মীদের উজ্জীবিত রাখতে নিয়মিত সরাসরি ও ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে আলোচনা, সেমিনার ও প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।

ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নানা আঞ্চলিক গ্রুপের কথা শোনা যায়। সেটি কাটানোর জন্য কী ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছেন?

বিগত সরকারের সময়ে ব্যাংকে একচেটিয়া নিয়োগ, পদায়ন ও পদোন্নতির মাধ্যমে একটি আঞ্চলিক গ্রুপের সংস্কৃতি গড়ে ওঠে। নির্দিষ্ট একটি অঞ্চলের জনশক্তিকেই প্রাধান্য দেয়ায় সুশাসন প্রায় ভেঙে পড়েছিল। সুশাসন পুনরুদ্ধারের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পেশাদারত্ব ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পদায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কোন্নয়নের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ, কর্মশালা ও টিম বিল্ডিংয়ে জোর দেয়া হচ্ছে। শাখা ব্যবস্থাপকদের দৈনন্দিন ব্যাংকিং কার্যক্রম ও দায়িত্ব বণ্টনে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, যাতে কোনো নির্দিষ্ট গ্রুপ বা অঞ্চলের প্রতি পক্ষপাতিত্ব না হয়।

এ ব্যাংক পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে কত সময় লাগতে পারে? এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, ব্যাংকের কর্মী ও গ্রাহকদের কাছে আপনার প্রত্যাশা কী?

আগস্ট-পরবর্তী নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠনের পর ব্যাংকের সমস্যা থেকে উত্তরণ ও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে তিনটি ধাপে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। প্রথম ধাপে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বরে মধ্যে ব্যাংকের তারল্য সংকট কাটিয়ে ওঠার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছিল। দ্বিতীয় ধাপে ২০২৫-২৬ সালকে ব্যাংকের ‘ঘুরে দাঁড়ানোর বছর’ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। তৃতীয় ধাপে ২০২৭-২৯ সাল পর্যন্ত ব্যাংককে ‘এগিয়ে যাওয়ার বছর’ হিসেবে নির্ধারিত হয়। প্রথম ধাপে সফলতা অর্জন করেছি। তারল্য সংকট কেটে ওঠায় গ্রাহক নির্বিঘ্নে লেনদেন করতে পারছেন। এখন দ্বিতীয় ধাপে। ২০২৫-২৬ সাল হবে এ ব্যাংকের ঘুরে দাঁড়ানোর বছর। তবে আমরা যেভাবে কাজ করছি, তাতে নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই ব্যাংক দৃঢ় অবস্থানে পৌঁছবে বলে আমার বিশ্বাস। ব্যাংককে পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, গণমাধ্যম, ব্যাংকের কর্মী, গ্রাহক ও শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতা কামনা করছি। কারণ এ ব্যাংকের সঙ্গে দেশের অর্থনীতি ও অন্তত পাঁচ কোটি মানুষের ভালো-মন্দও জড়িত।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৪:৫৯ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১৩ মে ২০২৫

bankbimarkhobor.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

[abm_bangladesh_map]
advertisement
advertisement
advertisement
সম্পাদক
মোঃ ইসলাম শেখ
কার্যালয়

৭৯, সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোড, (৩য় তলা, বাম দিক), সিদ্ধেশ্বরী, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭

01760742336

bankbimarkhobor@gmail.com