শেখ মোহাম্মদ মারুফ: আগে যেসব ব্যাংক দুর্বল হয়ে পড়েছিল সেগুলোর অনিয়ম এখনকার মতো এত ব্যাপক ছিল না। তখন দুর্বল ব্যাংকগুলো সঠিক পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
এখন কয়েকটি ব্যাংকের যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা সঠিক পরিচালনা, কার্যকর ব্যবস্থাপনা ও সরকারি তারল্য–সহায়তার মাধ্যমে সামলানো সম্ভব। এটি করতে ৫ থেকে ১০ বছর বা আরও বেশি সময় লাগতে পারে। শোনা যায়, কোনো কোনো ব্যাংকের ৮০ শতাংশ ঋণ অনাদায়ী হয়ে পড়েছে। এ রকম ব্যাংক যথাযথ তারল্য–সহায়তা ও সুশাসন নিশ্চিতের মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়াতে পারে। আশপাশের দেশগুলোর উদাহরণ দেখলে বোঝা যাবে, সুসংগঠিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ব্যাংকগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব।
ঢাকা ব্যাংকের ৩০ বছরের যাত্রায় ধারাবাহিক অগ্রগতি দেখা গেছে। আপনি সম্প্রতি দায়িত্ব নিয়েছেন। সামনের পরিকল্পনা কী?
শেখ মোহাম্মদ মারুফ: ঢাকা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ খুবই দূরদর্শী। যার ফলে ব্যাংকটি ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। আমাদের জনবল দক্ষ, তবে অপ্রয়োজনীয় জনবল নেই। এখন পরবর্তী ধাপে যেতে হলে সঠিক দিকনির্দেশনা প্রয়োজন, যা আমরা পেয়েছি।
সময় বদলেছে, তাই আমরা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশের প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছাতে চাই। দেশের ও আমাদের গ্রাহকদের প্রয়োজন অনুযায়ী করপোরেট ঋণ আগের মতোই থাকবে। তবে এর পাশাপাশি খুচরা ঋণ, এসএমই, কৃষিঋণ ও ক্রেডিট কার্ড খাতে আরও মনোযোগ দেওয়া হবে। এসব ঋণের প্রবাহ ও বিতরণ যুগোপযোগী করা হবে। আমরা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণ দিতে চাই, যাতে কম খরচে বেশি মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়।
পাশাপাশি রপ্তানি খাত, খাদ্য উৎপাদন, জনশক্তি উন্নয়নে এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে অর্থায়ন করতে চাই, যা ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আমরা শুধু মুনাফার দিকে তাকাচ্ছি না, মূলধন শক্তিশালী করার দিকেও নজর দিচ্ছি। আমরা দক্ষ জনবল নিয়ে একটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে চাই, যা বর্তমান ও পরবর্তী প্রজন্মের আর্থিক চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হবে।