পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির প্রসারে এই অঞ্চলে ব্যাংকিং সেবা নিয়ে আর্থিক সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে ব্র্যাক ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং।
ব্র্যাক ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং টিম খাগড়াছড়ি জেলার দিঘিনালা উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের মানুষদের নিয়ে আর্থিক সাক্ষরতা ও সচেতনতা বৃদ্ধি কর্মসূচি পরিচালনা করে। এ ধরনের সেশন পরিচালনার উদ্দেশ্য হলো স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে আর্থিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে রেমিটেন্স গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরা।
খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি জেলার সীমান্তে অবস্থিত মেরুং ইউনিয়নটি নানাবিধ ভৌগোলিক চ্যালেঞ্জে জর্জরিত, যার ফলে এই অঞ্চলের মানুষরা ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবার বাইরে রয়েছে। এলাকাটি উন্নয়নে পিছিয়ে থাকার কারণে এই অঞ্চলের মানুষ, বিশেষ করে তরুণদের বেশিরভাগই জীবিকার সন্ধানে বিদেশে পাড়ি জমায়।
উঠান বৈঠক সেশন পরিচালনা করেন ব্র্যাক ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের টিম লিড কফিল উদ্দিন, এজেন্ট রিলেশনশিপ অফিসার দিবাকর মজুমদার এবং ব্র্যাক ব্যাংক দিঘিনাল এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের এজেন্ট মো. ইউসুফ হোসেন। তারা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, সঞ্চয়ের গুরুত্ব, আধুনিক ব্যাংকিং সেবা, নিরাপদ ও কার্যকর উপায়ে রেমিটেন্স ট্রান্সফার এবং সর্বোপরি আর্থিক সাক্ষরতার গুরুত্ব নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
এমন উদ্যোগ সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে ব্র্যাক ব্যাংকের হেড অব অল্টারনেট ব্যাংকিং চ্যানেল নাজমুর রহিম বলেন, ‘আর্থিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রান্তিক অঞ্চলে এ ধরনের কর্মসূচি পরিচালনা করতে পেরে আমরা বেশ গর্বিত। আমরা বিশেষ করে প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষদের জন্য সহজ ও আধুনিক ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করে তাদের আর্থিক সেবার আওতায় নিয়ে আসতে চাই। আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের এজেন্ট ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে স্থানীয় জনগোষ্ঠী মূলধারার আর্থিক সেবার সঙ্গে যুক্ত হতে পেরেছে। তারা এখন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে সঞ্চয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাসেও মনোযোগী হচ্ছে। এ সবকিছুই দেশে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির প্রসারে ভূমিকা রাখছে।’
ব্র্যাক ব্যাংকের দ্রুত বর্ধনশীল এজেন্ট ব্যাংকিং চ্যানেল এখন দেশব্যাপী ৪ লাখেরও বেশি মানুষকে ব্যাংকিং সেবা দিয়ে যাচ্ছে। ব্র্যাক ব্যাংকের মোট এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের ৮০ শতাংশই গ্রামীণ অঞ্চলে অবস্থিত। এখানে গ্রাহকরা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা থেকে শুরু করে নগদ উত্তোলন, ঋণের কিস্তি ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধসহ রেমিটেন্স সার্ভিসও গ্রহণ করতে পারছে। ফলে, স্থানীয়দের কাছে এটি এখন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।