শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

বাংলাদেশ ব্যাংকে ফের ‘মব’ তৎপরতা, শৃঙ্খলা নিয়ে নতুন প্রশ্ন

  |   শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   37 বার পঠিত

বাংলাদেশ ব্যাংকে ফের ‘মব’ তৎপরতা, শৃঙ্খলা নিয়ে নতুন প্রশ্ন

বাংলাদেশ ব্যাংকে বিক্ষোভ ও ‘মব’ সংস্কৃতি: পুরোনো সংকটের নতুন রূপ

বাংলাদেশ ব্যাংককে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা (কেপিআই) হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে যেখানে সাধারণ মানুষের কিছু সেবাও সীমিত করা হয়েছে, সেখানে বছরের পর বছর ধরে অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেই চলেছে। অভিযোগ আছে, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার কারণেই এসব ঘটনায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি অধিকাংশ ক্ষেত্রে।

সর্বশেষ ঘটনা

গত বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একদল কর্মকর্তা গভর্নরের উপদেষ্টা আহসান উল্লাহকে কার্যালয় থেকে বের করে দেন। এর আগে গভর্নর পরিবর্তনের খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নতুন নেতৃত্ব আসার প্রক্রিয়ার মধ্যেই এই ঘটনা বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

সমিতি ও দলীয় বিভাজন

বাংলাদেশ ব্যাংকে বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী সমিতি ও ক্লাব রয়েছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিচয়ভিত্তিক বিভিন্ন প্যানেল—যেমন নীল, সবুজ ও হলুদ—দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। এসব সংগঠন নির্বাচনের মাধ্যমে নেতৃত্ব গঠন করে এবং বিভিন্ন দাবি-দাওয়ায় আন্দোলনও করে থাকে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই দলীয় বিভাজন অনেক সময় প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে।

অতীতের নজির

বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাসে গভর্নরকে ঘিরে বিতর্ক ও হেনস্তার ঘটনা নতুন নয়।

  • ১৯৯৬ সালে তৎকালীন গভর্নর খোরশেদ আলমকে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই অপসারণ করা হয়। দায়িত্ব গ্রহণের দিন নতুন গভর্নরের উপস্থিতিতেই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিক্ষোভ দেখা যায়।

  • ২০০৩ সালে গভর্নর ফখরুদ্দীন আহমদের কার্যালয়ে অবরোধের ঘটনায় ১০ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়। এটি এখন পর্যন্ত শাস্তির বিরল উদাহরণ।

  • ২০০৯ সালে বিদায়ী গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ দাবি-দাওয়ার চাপে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়েন।

  • ১৯৯৭ সালে ব্যবসায়ী সোহেল এফ রহমান ও সালমান এফ রহমানের সঙ্গে গভর্নরের উত্তপ্ত বৈঠকও আলোচনায় আসে, যদিও এ ঘটনায় দৃশ্যমান কোনো শাস্তির নজির নেই।

  • ১৯৯৮ সালে এক মহাব্যবস্থাপককে মারধর ও গভর্নরকে গালিগালাজের অভিযোগে কয়েকজন সাময়িক বরখাস্ত হন; তবে পরবর্তীতে অধিকাংশই চাকরিতে ফেরেন।

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

শেখ হাসিনার পতনের পর প্রশাসনিক বিভিন্ন দপ্তরে অস্থিরতা দেখা দেয়। ২০২৪ সালের ৭ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকেও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ হয়। পরে অন্তর্বর্তী সরকার অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুরকে নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেয়।

ভাবমূর্তি ও শাসনব্যবস্থার প্রশ্ন

অর্থনীতিবিদদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানে এমন ঘটনা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে। বিশ্বের অন্যান্য দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা থাকলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক সাধারণত প্রশাসনিক স্থিতিশীলতার বাইরে থাকে। তাই বাংলাদেশ ব্যাংকে বারবার এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়া উদ্বেগজনক।

বিশ্লেষকদের মতে, শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি নিশ্চিত না করলে ভবিষ্যতেও একই ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৮:৪৬ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

bankbimarkhobor.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

[abm_bangladesh_map]
advertisement
advertisement
advertisement
সম্পাদক
মোঃ ইসলাম শেখ
কার্যালয়

৭৯, সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোড, (৩য় তলা, বাম দিক), সিদ্ধেশ্বরী, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭

01760742336

bankbimarkhobor@gmail.com