| সোমবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ | প্রিন্ট | 233 বার পঠিত
ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালকরা জড়িয়ে পড়েছেন অনিয়মে
আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বেসরকারি খাতের শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলো পরিচালনার জন্য যে স্বতন্ত্র পরিচালকদের নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক, ছয় মাসের মধ্যেই তারা জড়িয়ে পড়েছেন নানা রকম অনিয়মে। পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে ঋণ প্রদান, জনবল নিয়োগ, বদলি ও পদায়নসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে কয়েকটি ব্যাংকের কর্মকর্তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংক এসব ব্যাংক পরিদর্শন শুরু করেছে। গত ছয় মাসে নিয়োগ, বিনিয়োগ, আদায়, ঋণ পুনঃতফসিলের তথ্য চেয়েছে ব্যাংকগুলোর কাছে।
একইভাবে পছন্দের ২১ কর্মকর্তাকে নিয়োগ দিয়েছে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খাজা শাহরিয়ার ও পরিচালক মো. আবদুল ওয়াদুদ। তারা দুজন মিলে প্রায় অর্ধশত কর্মী নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানা গেছে। ইতোমধ্যে প্রথম দফায় ২১ জনকে নিয়োগ দিয়েছেন। যোগদান করেছেন ১৩ জন। এদের মধ্যে ৬টি ইনক্রিমেন্টসহ একজন ইভিপি, ১২টি ইনক্রিমেন্টসহ একজন এসভিপি, ১৩টি ইনক্রিমেন্টসহ তিনজন এসভিপি, ৯টি ইনক্রিমেন্টসহ দুজন ভিপি, আটটি ইনক্রিমেন্টসহ একজন ভিপি, দুজন এভিপি ও তিনজন এসএভিপি নিয়োগ দিয়েছেন। এতে ব্যাংকটির খরচ বেড়েছে প্রায় ৫০ লাখ টাকা। এ ছাড়াও সুহি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান প্রিতি কম্পোজিট টেক্সটাইল লিমিটেড, অক্সফোর্ড কালারস লিমিটেড ও প্রিতি ওয়াশিং লিমিটেডের ৮৭৫ কোটি টাকার ঋণ ১৫ শতাংশের পরিবর্তে ৭ শতাংশ সুদে পুনঃতফসিল করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে ব্যাংকের ৫০০ কোটি টাকা আয় কম হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটি অ্যান্ড কাস্টমার সার্ভিসেস ডিপার্টমেন্ট থেকে পর্ষদ পুনর্গঠন করা ব্যাংকগুলোর কাছে তথ্য চেয়েছে। বিগত ছয় মাসে অনুষ্ঠিত পর্ষদ সভার কার্যবিবরণী, জনবল নিয়োগের তালিকা, বিনিয়োগ আদায়ের পরিমাণ ও তালিকা চেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ছাড়াও ব্যাংকের মোট যানবাহনের সংখ্যা ও ব্যবহারকারীর তালিকা চাওয়া হয়েছে। সম্প্রতি আল-আরাফাহ ব্যাংক পরিদর্শন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি দল। এ বিষয়ে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক আবদুল ওয়াদুদ গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা ব্যাংকটি বাঁচানোর চেষ্টা করছি। জনবল নিয়োগের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। এটা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ দেখভাল করেন। স্বতন্ত্র পরিচালকদের অনিয়ম ও হস্তক্ষেপের বিষয়টি সামনে এসেছে ইসলামী ব্যাংকের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান মো. আবদুল জলিলকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর। পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে ঋণ প্রদান ও নিজের জামাতাকে ইসলামী ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংক সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগে তাকে সরিয়ে দেয় ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ। এ বিষয়ে ব্যাংক খাত সংস্কারে গঠিত টাস্কফোর্সের সদস্য ও বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন গণমাধ্যমে বলেন, যদি এ ধরনের অনিয়ম চলতে থাকে তাহলে আর্থিক সংস্কার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হবে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত দ্রুত এসব বিষয়ে তদন্ত করে দেশবাসীর কাছে পরিষ্কার বক্তব্য তুলে ধরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের চুপ থাকলে হবে না।
Posted ৫:০৩ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
bankbimarkhobor.com | Mr. Islam