| বৃহস্পতিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৫ | প্রিন্ট | 141 বার পঠিত
ভোক্তা ঋণে ব্র্যাক ব্যাংক এখন বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ প্রতিষ্ঠান
দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকগুলোর একটি ব্র্যাক। ২০০১ সালে কার্যক্রম শুরু করা ব্যাংকটি এখন এসএমই, রিটেইল ও কনজিউমার ঋণের জন্য বেশ জনপ্রিয়। ব্যাংকটির দীর্ঘ পথচলা, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও রিটেইল ব্যাংকিংয়ের প্রধান মো. মাহীয়ুল ইসলাম
আপনারা দাবি করছেন, ব্র্যাক ব্যাংক কনজিউমার লোন বা ভোক্তা ঋণে (ক্রেডিট কার্ডসহ) ১০ হাজার কোটি টাকার মাইলফলক অতিক্রম করে বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে সর্ববৃহৎ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এ সাফল্যের পেছনে কী কৌশল ছিল?
কনজিউমার লোনে ১০ হাজার কোটি টাকার পোর্টফোলিও অর্জন ব্র্যাক ব্যাংকের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। বিশেষত এমন একটি প্রতিযোগিতামূলক মার্কেটে যেখানে রয়েছে ৬০টির বেশি ব্যাংক। আমাদের গ্রাহককেন্দ্রিক প্রডাক্ট অফার, শক্তিশালী ডিজিটাল সক্ষমতা ও মানবসম্পদের দক্ষতার কারণেই এটা সম্ভব হয়েছে। ব্র্যাক ব্যাংক পারসোনাল লোন, কার লোন, হোম লোন, ক্রেডিট কার্ডসহ কনজিউমার লোনে একটি পূর্ণাঙ্গ প্যাকেজ অফার করে। এগুলোয় রয়েছে উদ্ভাবনী সব বৈশিষ্ট্য আর দ্রুততম সময়ে প্রসেসিং সুবিধা। বিভিন্ন গ্রাহক শ্রেণীর জন্য বিশেষায়িত ব্যাংকিং সেবা যেমন নারীদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির জন্য ‘তারা’, চিকিৎসকদের জন্য ‘কল্যাণ’, শিক্ষকদের জন্য ‘দিশারী’, শিক্ষার্থীদের জন্য ‘আগামী’ এবং এমপ্লয়ি ব্যাংকিং (পে-রোল) গ্রাহকদের জন্য বিশেষায়িত সেবা কনজিউমার লোন বৃদ্ধিতে অবদান রেখেছে। এর পাশাপাশি ফ্ল্যাগশিপ ডিজিটাল পার্সোনাল লোন ‘ইনস্ট্যান্ট লোন’ ব্যবসায়িক অগ্রগতিতে বড় ভূমিকা রেখেছে, যেখানে এখন পর্যন্ত ৩৬ হাজারের বেশি এ ধরনের ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। গ্রাহকরা ব্র্যাক ব্যাংকের অনলাইন ব্যাংকিং অ্যাপ ‘আস্থা’র লোন প্রসেসিং প্লাটফর্মের মাধ্যমে কয়েক মিনিটেই এ ঋণ গ্রহণ করতে পারেন। ডিজিটাল সুবিধার পাশাপাশি দেশজুড়ে ব্র্যাক ব্যাংকের রয়েছে ১৮৯টি শাখা, ৭৪টি উপশাখা, ১ হাজার ১২৩টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট, ৪৪৬টি এসএমই ইউনিট এবং সাত শতাধিক বিক্রয়কর্মীর শক্তিশালী বিতরণ চ্যানেল, যা কনজিউমার লোন ও পোর্টফোলিওকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করতে সহায়তা করেছে।
ডিপোজিটের দিক থেকে ২০২৪ সালে ব্র্যাক ব্যাংকের রিটেইল ব্যাংকিং ৩০ হাজার কোটি টাকা অতিক্রম করেছে। এ ডিপোজিট বৃদ্ধির পেছনে কী ভূমিকা রেখেছে এবং কীভাবে রিটেইল ডিপোজিট দীর্ঘদিন ধরে রাখা হয়?
গ্রাহককেন্দ্রিক ডিজিটাল ব্যাংকিং সার্ভিস ও বিতরণ চ্যানেলের ধারাবাহিক সম্প্রসারণ ডিপোজিট বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। বিশেষভাবে আমাদের শাখাগুলো রিটেইল ডিপোজিট সংগ্রহে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে। এছাড়া আমরা এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট, এটিএম, অনলাইন ব্যাংকিং (আস্থা অ্যাপ) এবং কল সেন্টারের মতো বহু অলটারনেট (বিকল্প) ব্যাংকিং চ্যানেলে ডিপোজিট সেবা বিস্তৃত করেছি, যাতে গ্রাহকরা নিরবচ্ছিন্ন ওমনি-চ্যানেল অভিজ্ঞতা উপভোগ করতে পারেন। আমাদের ডিজিটাল অ্যাকাউন্ট খোলার প্লাটফর্ম ‘ই-কেওয়াইসি’ এবং আস্থা অ্যাপে বিভিন্ন ডিপোজিট সম্পর্কিত সেবা গ্রাহকদের জন্য মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে সুবিধাজনকভাবে সার্ভিস দিচ্ছে। এখন পর্যন্ত প্রায় দেড় লাখ অ্যাকাউন্ট ই-কেওয়াইসির মাধ্যমে খোলা হয়েছে। প্রতি মাসে খোলা রিটেইল অ্যাকাউন্টগুলোর ৮০ শতাংশ ই-কেওয়াইসি অ্যাকাউন্ট। এছাড়া আমরা আস্থা অ্যাপের সক্ষমতাগুলো আর্থিক লেনদেনের বাইরেও ক্রমাগত উন্নত করছি, যাতে এটি দেশের সেরা লাইফস্টাইল অ্যাপে পরিণত হয়েছে।
ব্যাংক খাতের নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও নিরবচ্ছিন্ন সেবা, শক্তিশালী আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিং এবং সুশাসনের প্রতিশ্রুতি ব্র্যাক ব্যাংককে একটি বিশ্বস্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে, যা নিয়মিতভাবে গ্রাহক অর্জনে অবদান রাখছে।
আপনারা কীভাবে প্রযুক্তির ব্যবহার করে নতুন গ্রাহককেন্দ্রিক প্রডাক্ট চালু করছেন এবং রিটেইল ব্যাংকিং গ্রাহকদের সুবিধা উন্নত করছেন?
রিটেইল ব্যাংকিংয়ের ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে, যা ব্র্যাক ব্যাংকের জন্য নানা সুযোগ তৈরি করেছে। ব্যাংকের ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন যাত্রার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ‘আস্থা’ অ্যাপ। গ্রাহকরা এখন ই-কেওয়াইসির মাধ্যমে কয়েক মিনিটে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন এবং আস্থা অ্যাপের মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ডিপিএস ও এফডিআর অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। ফলে আরো সহজে ও সুবিধাজনকভাবে তারা সঞ্চয় করতে পারছেন। এছাড়া ই-কেওয়াইসির মাধ্যমে একক মালিকানাধীন ব্যবসায়ীরা এসএমই অ্যাকাউন্ট এবং প্রবাসী গ্রাহকরা প্রবাসী অ্যাকাউন্ট খুলতে পারছেন।
গ্রাহকরা আস্থা অ্যাপ ব্যবহার করে ডিজিটাল উপায়ে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ইনস্ট্যান্ট পারসোনাল লোন নিতে পারেন। বাংলাদেশের যেকোনো স্থান থেকে আবেদন থেকে শুরু করে বিতরণ পর্যন্ত মাত্র ১০-১৫ মিনিটের মধ্যে কয়েক ক্লিকেই সম্পন্ন হয়। শিগগিরই আমরা এ ঋণের পরিমাণ ২০ লাখ টাকায় উন্নীতকরণ এবং এ প্লাটফর্মের মাধ্যমে ক্রেডিট কার্ডের ডিজিটাল প্রসেসিং চালু করব।
আমরা ঋণ প্রক্রিয়াকরণের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য পারসোনাল লোনের আবেদন মূল্যায়নে ক্রেডিট স্কোর কার্ড এবং গ্রাহকদের সম্ভাব্য ঋণখেলাপির ঝুঁকির আগাম সংকেত পেতে আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম চালু করেছি। এমপ্লয়ি ব্যাংকিং গ্রাহকদের জন্য আমাদের করপোরেট পেমেন্ট প্লাটফর্ম ‘কর্পনেট’-এর মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় বেতন প্রদান সুবিধাও দিচ্ছি। একটি গ্রাহককেন্দ্রিক ব্যাংক হিসেবে, প্রক্রিয়ার দক্ষতা উন্নত করতে এবং রিটেইল ব্যাংকিং গ্রাহকদের সুবিধা বাড়াতে নতুন ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তি কাজে লাগাতে ব্র্যাক ব্যাংক নিরন্তর প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে।
এখন পর্যন্ত আপনাদের ইনস্ট্যান্ট ডিজিটাল লোন কতটা সাড়া পেয়েছে? ডিজিটাল লোন সম্পর্কে গ্রাহকদের প্রতিক্রিয়া কী?
সহকর্মী ও নির্বাচিত এমপ্লয়ি ব্যাংকিং গ্রাহকদের কাছ থেকে অভাবনীয় সাড়া পাওয়ার পর ব্র্যাক ব্যাংক তার ডিজিটাল ইনস্ট্যান্ট লোন সুবিধা সব এমপ্লয়ি ব্যাংকিং গ্রাহকদের জন্য সম্প্রসারণ করেছে। দ্রুত প্রসেসিং ও গ্রাহকের সুবিধাকে অগ্রাধিকার দেয়া হয় দেখে এখন পর্যন্ত ৩৬ হাজারের বেশি ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। এ সংখ্যা দ্রুতগতিতে বাড়ছে, এতে গ্রাহকদের আগ্রহ লক্ষ করা যায়।
এ ঋণের অন্যান্য দিক হলো সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি ডিজিটাল, যা গ্রাহকদের অসংখ্য সুবিধা প্রদান করে। এ সেবা ঋণের প্রসেসিং সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছে। নিজ ঘরে বসেই জরুরি ঋণ পেতে চাওয়া অসংখ্য গ্রাহকের কাছে ব্যাংকের পৌঁছার একটি নতুন পথ খুলে দিয়েছে।
‘আস্থা’ অ্যাপ রিটেইল ব্যাংকিংয়ে ও নতুন গ্রাহক আনার ক্ষেত্রে কী ভূমিকা রাখছে? এ অ্যাপে নতুন কী ফিচার যুক্ত করা হচ্ছে?
‘আস্থা’ ব্র্যাক ব্যাংকের ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনের মূল চাবিকাঠি। এ অ্যাপের মাধ্যমে নয় লাখের বেশি রিটেইল ও এসএমই গ্রাহক লেনদেন ও লাইফস্টাইল সেবা গ্রহণ করছেন। মাসিক লেনদেনের গড় সংখ্যা প্রায় ৩০ লাখে পৌঁছেছে, যা প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকার সমান। এ অ্যাপের ব্যবহারকারীর দ্রুত বৃদ্ধি প্রমাণ করে এটিকে গ্রাহকরা কতটা পছন্দ করছে এবং তাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে।
গ্রাহকরা এখন কোনো চার্জ ছাড়াই অন্য ব্যাংকে অর্থ স্থানান্তরের জন্য এনপিএসবি, বিইএফটিএন ও আরটিজিএস অপশন বেছে নিতে পারেন। ‘আস্থা’ অ্যাপ ডিজিটাল ব্যাংকিং জগতে একাধিক প্রথম ঘটনার সূচনা করে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘আস্থা লাইফস্টাইল’—যেখানে বিনোদন, সংগীত, ইসলামিক সেবা, শিক্ষা, ভ্রমণসহ নানা রকম ব্যাংকিং ও লাইফস্টাইল সুবিধা একসঙ্গে পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া গ্রাহকরা এটিএম ছাড়াই আস্থা ক্যাশআউট, ডিজিটাল রিওয়ার্ডস, ফিক্সড ডিপোজিট ও ডিপিএস খোলা ও ভাঙানো, স্বয়ংক্রিয় স্টেটমেন্ট এবং সার্টিফিকেশন তৈরি, ট্যাক্স রিটার্ন জমা, ডেবিট কার্ড অ্যাক্টিভেশন, নমিনি পরিবর্তন, ট্রাভেল কোটা অ্যাক্টিভেশনসহ সুবিধাজনক বিভিন্ন সেবা উপভোগ করতে পারেন।
রিটেইল ব্যাংকিং কীভাবে দৈনন্দিন জীবন, লাইফস্টাইল ও আর্থিক সুস্থতায় অংশীদার হতে পারে?
ব্র্যাক ব্যাংক সেভিংস অ্যাকাউন্ট, ফিক্সড ডিপোজিট রিসিপ্ট (এফডিআর), ডিপোজিট পেনশন স্কিম (ডিপিএস), রিটেইল লোন এবং ক্রেডিট কার্ডসহ গ্রাহকের বিভিন্ন প্রয়োজন মেটাতে বিস্তৃত আর্থিক ও বিনিয়োগ সুবিধা দিয়ে থাকে। বড় কোনো ব্যয় নির্বাহ করা হোক কিংবা স্বপ্নের গাড়ি বা বাড়ি কেনা হোক—গ্রাহকরা আমাদের ঋণপণ্য ও বিশেষ সুবিধাসম্পন্ন ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে নিজেদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে পারেন।
ব্র্যাক ব্যাংকের গ্রাহকভিত্তিক নির্দিষ্ট কৌশল রিটেইল ব্যাংকিংকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ ব্র্যাক বাংকের ‘তারা’ বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ নারী ব্যাংকিং সেবা, যা তাদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে সহায়তা করে। আমাদের ‘এমপ্লয়ি ব্যাংকিং’ ও ‘প্রিমিয়াম ব্যাংকিং’ সেগমেন্টে পে-রোল ও হাই-নেটওয়ার্থ গ্রাহকদের জন্য বিশেষায়িত ও সুবিধাজনক ব্যাংকিং সেবা প্রদান করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে কাস্টমাইজড ডিপোজিট ও ঋণ পণ্য এবং অন্য আনুষঙ্গিক সুবিধা। অনাবাসী বাংলাদেশীরাও (এনআরবি) আমাদের প্রবাসী ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে তাদের ব্যাংকিং চাহিদা পূরণ করতে পারেন।
খ্যাতনামা রেস্তোরাঁ, লাইফস্টাইল, চিকিৎসা, ভ্রমণ, হোটেলসহ বিভিন্ন রকম অংশীদারের সঙ্গে ব্র্যাক ব্যাংকের কৌশলগত পার্টনারশিপ গ্রাহকদের দৈনন্দিন জীবনে বহুমাত্রিক সুবিধা ও অফার নিয়ে এসেছে। পাশাপাশি ব্যাংকাস্যুরেন্স অংশীদারদের মাধ্যমে জীবন বীমা ও সাধারণ বীমা সেবা প্রদান করা হয়। এসব সেবার মাধ্যমে ব্র্যাক ব্যাংক গ্রাহকদের দৈনন্দিন ব্যাংকিং ও আর্থিক সুস্থতার অংশীদার হয়ে উঠেছে।
রিটেইল ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রটি কীভাবে বিবর্তিত হচ্ছে এবং ব্র্যাক ব্যাংক এ রূপান্তরকে নেতৃত্ব দিতে কী ভূমিকা পালন করছে?
ডিজিটাল উদ্ভাবন, গ্রাহকের প্রত্যাশার পরিবর্তন ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তির প্রবণতা দ্বারা চালিত হয়ে রিটেইল ব্যাংকিংয়ের পরিসর দ্রুত বিবর্তিত হচ্ছে। এখন গ্রাহকরা তাদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে একীভূত নিরবচ্ছিন্ন, ব্যক্তিগত চাহিদানির্ভর ও সহজলভ্য ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা চান। এ চাহিদা পূরণে ব্যাংকগুলো আরো বেশি গ্রাহককেন্দ্রিক হয়ে উঠে বিস্তৃত ওয়ান-স্টপ সেবা দিচ্ছে। ব্র্যাক ব্যাংকের ডিজিটাল ব্যাংকিং অ্যাপ ‘আস্থা’ এবং ইনস্ট্যান্ট পার্সোনাল লোন এর উজ্জ্বল উদাহরণ। ব্যাংকিং সেবা ছাড়াও গ্রাহকরা বিনোদন, শিক্ষা, ভ্রমণ ও তথ্য—সবই একটি মাত্র অ্যাপে পাচ্ছেন।
গ্রাহককেন্দ্রিক ডিজিটাল সমাধান দেয়া ছাড়াও ব্র্যাক ব্যাংক গ্রাহকদের ব্যাংকিং চাহিদা পূরণে রিলেশনশিপ ম্যানেজারের (আরএম) মাধ্যমে সহায়তা করে। গ্রাহকরা এখন তাদের নির্দিষ্ট চাহিদা অনুযায়ী ব্যক্তিগত চাহিদানির্ভর ব্যাংকিং চান। তাই ব্র্যাক ব্যাংক গ্রাহক সেগমেন্টকেন্দ্রিক কৌশল দ্বারা কাস্টমাইজড প্রডাক্ট ও সেবা অফারের মাধ্যমে দেন।
ডিপোজিট, অ্যাসেট, উদ্ভাবনী প্রডাক্ট ও প্রপোজিশনে নেতৃস্থানীয় অবস্থান আরো এগিয়ে নেয়ার জন্য ব্র্যাক ব্যাংকের রিটেইল ব্যাংকিংয়ের ভবিষ্যৎ রোডম্যাপ কী?
ব্র্যাক ব্যাংকের রিটেইল ব্যাংকিংয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় ডিজিটাল রূপান্তর ত্বরান্বিত করা, রিলেশনশিপ ব্যাংকিং, উদ্ভাবনী ও গ্রাহককেন্দ্রিক প্রডাক্ট এবং গ্রাহকের আর্থিক ব্যয়ের সর্বোচ্চ অংশ নিজেদের পণ্যে ধরে রাখতে মনোনিবেশ করছে। এ লক্ষ্য অর্জনে ব্যাংক তার ডিজিটাল প্লাটফর্মকে আরো সমৃদ্ধ করছে, যাতে গ্রাহকরা সুবিধাজনক অভিজ্ঞতা পান। সেই সঙ্গে কাস্টমাইজড সঞ্চয় প্রকল্প, ঋণসেবা ও লাইফস্টাইলভিত্তিক পণ্য চালু করা হচ্ছে। ব্র্যাক ব্যাংক গ্রাহক সম্পৃক্ততা বাড়িয়ে ডিপোজিট বৃদ্ধি করতে এবং বাড়ি, গাড়ি, ব্যক্তিগত অর্থায়ন, ক্রেডিট কার্ডসহ কাস্টমাইজড ও ঝুঁকি মূল্যায়নভিত্তিক রিটেইল ঋণের মাধ্যমে অ্যাসেট পোর্টফোলিও সম্প্রসারণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
Posted ৪:৫৮ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৫
bankbimarkhobor.com | Mr. Islam