| সোমবার, ০২ জুন ২০২৫ | প্রিন্ট | 56 বার পঠিত
মার্কেন্টাইল ব্যাংক গত ২৬ বছরে ব্র্যান্ড হিসেবে দাঁড়াতে পেরেছে
মতিউল হাসান। দায়িত্ব পালন করছেন মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে। দীর্ঘ ৪১ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এ ব্যাংকার বিদেশেও বিভিন্ন ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্বে ছিলেন। মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ২৬ বছরের পথচলা, সমস্যা, সম্ভাবনাসহ দেশের ব্যাংক খাতের নানা দিক নিয়ে সম্প্রতি তিনি কথা বলেছেন।
মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ২৬ বছরের পথচলা কেমন ছিল? দীর্ঘ এ সময়ে ব্যাংকটির প্রধান অর্জন কী?
ব্যাংক খাতের সংকটের মধ্যেও মার্কেন্টাইল ব্যাংক সুদৃঢ় অবস্থানে আছে। আমরা সব গ্রাহকের আমানতের দাবি পরিপূর্ণভাবে পালন করতে পেরেছি। প্রায় ২০০ শাখা-উপশাখায় কোনো আমানতকারীর বিগত দুই যুগ সময়ে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি, যা এ মুহূর্তে ব্যাংক খাতে অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে।
করপোরেট থেকে বের হয়ে মার্কেন্টাইল ব্যাংক গত কয়েক বছর সিএমএসএমই, কৃষিসহ ছোট ঋণে গুরুত্ব দিয়েছে। এক্ষেত্রে অগ্রগতি কতটা হলো?
মার্কেন্টাইল ব্যাংক প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে করপোরেট ফোকাসড ব্যাংক হিসেবে পরিচিত। তবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ব্যাংকমুখী করার লক্ষ্যে কয়েক বছর ধরে আমরা বৃহৎ শিল্পের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প তথা সিএমএসএমই খাত ও কৃষি ঋণকে গুরুত্ব দিয়ে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছি। গ্রাহকদের চাহিদার কথা বিবেচনায় নিয়ে মার্কেন্টাইল ব্যাংক পণ্য ও সেবা, যেমন চাকা, নারী উদ্যোক্তা ঋণ—অনন্যা, সমৃদ্ধি, মৌসুমি, সঞ্চালক, উন্মেষ, উদয়ন, কৃষি ঋণ—নবান্ন ইত্যাদি চালু করেছে। ২০২৪ সালে এসএমই এবং কৃষি খাতে ঋণ বিতরণের পরিমাণ ২০২৩ সালের তুলনায় যথাক্রমে ১২২ ও ২২ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। ব্যাংকগুলোর ঋণ পোর্টফোলিওর ২৫ শতাংশ এসএমই খাতে বিতরণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নির্দেশনা রয়েছে। আমরা সে লক্ষ্যে পৌঁছার চেষ্টা করছি। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক কৃষি খাতে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে যে লক্ষ্য দিয়েছিল, মার্কেন্টাইল ব্যাংক তা ১০২ শতাংশ অর্জন করেছে।
এ মুহূর্তে ব্যাংকের কোন দিকগুলোর অগ্রগতিকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন?
ব্যাংকের মূল লক্ষ্য হলো দেশের আপামর জনসাধারণকে সেবার আওতায় এনে দেশের অর্থনীতির গতিকে বেগবান করা। সে লক্ষ্যে শুরু থেকেই আমরা অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে কাজ করছি। মার্কেন্টাইল ব্যাংককে আরো এগিয়ে নিতে আমাদের যেসব নতুন পরিকল্পনা রয়েছে, তার মধ্যে অগ্রাধিকার খাত হলো শ্রেণীকৃত ঋণ আদায় জোরদার করা। আর্থিক খাতে বিদ্যমান ঝুঁকি মোকাবেলায় দক্ষতার সঙ্গে ব্যাংক তহবিল ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। অত্যাধুনিক ডিজিটাল পণ্য ও সেবার মাধ্যমে ব্যাংকিং সেবা সহজীকরণ। ঋণ বিতরণে কৃষি ও এসএমই খাতকে অগ্রাধিকার প্রদান। প্রান্তিক এলাকায় উপশাখা ও এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনা।
খেলাপি ঋণের উচ্চহার দেশের ব্যাংক খাতের বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক্ষেত্রে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের অবস্থা কী?
দেশের অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক নানা চ্যালেঞ্জের কারণে ২০২১ সাল থেকেই ব্যবসা-বাণিজ্য হুমকির মুখে পড়েছে। এর প্রভাবে কয়েক বছর ধরেই ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বাড়ছে। মার্কেন্টাইল ব্যাংকও এ ঝুঁকি থেকে শতভাগ মুক্ত নয়। তবে আমরা এ ঝুঁকি মোকাবেলার সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। শ্রেণীকৃত ঋণের বিপরীতে আমরা শতভাগ সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে পেরেছি। আমাদের ব্যাংকের কোনো মূলধন ঘাটতি নেই, যা ভবিষ্যৎ ব্যবসা পরিচালনায় শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে।
খেলাপি ঋণকে ভালো ঋণে রূপান্তর করতে আমরা বিভিন্ন বিভাগের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করেছি। জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে সার্বক্ষণিক তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন, নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে ঋণ আদায়, পুনঃতফসিলীকরণের মাধ্যমে ঋণের গুণগত মান ভালো রাখার লক্ষ্যে আমরা একযোগে কাজ করছি। খেলাপি ঋণ থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নানামুখী যে উদ্যোগ নিয়েছে, মার্কেন্টাইল ব্যাংক সেটি বাস্তবায়নে সদা সচেষ্ট রয়েছে।
এক দশকের বেশি সময় ধরে আপনি মার্কেন্টাইল ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন। গত বছরের শেষের দিকে এমডি পদে দায়িত্ব নিয়েছেন। ব্যাংকটিকে ঘিরে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে চাই।
মার্কেন্টাইল ব্যাংকের স্লোগান হলো ‘বাংলার ব্যাংক’। গত ২৬ বছরে ব্যাংকটি ব্র্যান্ড হিসেবে দাঁড়াতে পেরেছে। দীর্ঘ এ সময়ে ব্যাংকটি গ্রাহকদের আস্থা ও নিরাপত্তার প্রতীক হতে পেরেছে। প্রযুক্তিতে মার্কেন্টাইল ব্যাংক বড় ধরনের বিনিয়োগ করেছে। এ প্রযুক্তির ওপর দাঁড়িয়ে আমরা ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের প্রডাক্ট চালু করতে পারব। নিরবচ্ছিন্ন আইটি সার্ভিস নিশ্চিত করতে ধানমন্ডিতে নিজস্ব ভবনে এমবিএল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। ডিজিটাল অ্যাপ ‘রেইনবো’ দিয়ে আমরা গ্রাহকদের ১৬টি সেবা দিতে পারি, যা বাংলাদেশে শীর্ষ ডিজিটাল ব্যাংকগুলোর সেবার সমকক্ষ। আমাদের পরিকল্পনা হলো সারা দেশের আনাচে-কানাচে তথা সব এলাকার মানুষ যেন ব্যাংকিং সেবা পায় সেই প্রচেষ্টা চালু রাখা। এটি এ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই স্বপ্ন ছিল। আগামীতে তার সফল বাস্তবায়ন হবে। ২০২৫ সালের মধ্যেই আমরা মার্কেন্টাইল ব্যাংককে পুরোপুরি সেন্ট্রালাইজেশন মডেলে নিয়ে আসতে চাই।
মার্কেন্টাইল ব্যাংকের আমানতকারীসহ গ্রাহকদের উদ্দেশে আপনার বার্তা কী?
২০২৫ সালে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ থাকলেও আমরা আশাবাদী। আমাদের কর্মকৌশলের মূলে থাকবে সর্বাধুনিক সেবা নিশ্চিত করা, গ্রাহককেন্দ্রিকতা, পরিচালন দক্ষতা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও ডিজিটাল রূপান্তর। দক্ষ মানবসম্পদ বৃদ্ধির মাধ্যমে ঝুঁকি ও মুনাফার মধ্যে সামঞ্জস্য রেখে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের সুদৃঢ় অবস্থান আরো সুসংহত করার প্রয়াস চালিয়ে যাব। এ লক্ষ্যে ঋণ ও অগ্রিমের ক্ষেত্র বিকেন্দ্রীকরণ নীতি অনুসরণ অব্যাহত থাকবে। তারল্য ব্যবস্থাপনায় ব্যাংক সুষম আমানত কাঠামো মজবুত করার চেষ্টা চালিয়ে যাবে। এক্ষেত্রে রিটেইল আমানত বৃদ্ধির মাধ্যমে করপোরেট আমানতের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোয় জোর দেয়া হবে। আমরা ব্যাংকের যেসব ব্যয় নিয়ন্ত্রণের কথা বলেছিলাম, তা কমিয়েছি এবং ফি ও কমিশন-ভিত্তিক ব্যবসার ওপর জোর দিয়েছি। আমরা বিশ্বাস করি, শুরু থেকেই মার্কেন্টাইল ব্যাংকের সাফল্য ও প্রবৃদ্ধির পেছনে গ্রাহকই অগ্রগামী ভূমিকা পালন করেছেন এবং সামনের দিনগুলোয় তাদের এ সহযোগিতা ও আস্থা অব্যাহত থাকবে।
Posted ৪:৫৮ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ০২ জুন ২০২৫
bankbimarkhobor.com | Mr. Islam