| মঙ্গলবার, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ | প্রিন্ট | 66 বার পঠিত
এনআইডির তথ্য ফাঁসে শোকজ পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ পাঁচটি প্রতিষ্ঠান তৃতীয় পক্ষের কাছে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য ফাঁস করেছে বলে ইসি প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পেয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোকে কারণ দর্শানোর নোটিস (শোকজ) দিয়েছে ইসি।
গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এনআইডি যাচাই সেবা গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনদিনের মতবিনিময় সভার গতকাল ছিল প্রথম দিন।
ইসি সূত্র জানায়, যে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তথ্য ফাঁস হয়েছে, সেগুলো হলো স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ইউসিবি ব্যাংকের উপায়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের আইবাস।এনআইডি সেবা দেয় নির্বাচন কমিশন। এনআইডি তথ্যভাণ্ডারও ইসির নিয়ন্ত্রণে। সরকারি-বেসরকারি ১৮২টি প্রতিষ্ঠান ইসির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ। তারা এনআইডির তথ্য যাচাইসংক্রান্ত সেবা দেয়।
এক প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব জানান, এখন পর্যন্ত তারা পাঁচটি প্রতিষ্ঠান পেয়েছেন, যেগুলোর কাছ থেকে তথ্য ফাঁস হয়েছে। কীভাবে এটি হয়েছে তা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে। তথ্য ফাঁস বা পাচারের বিষয়গুলো কারিগরি, এগুলো আরো যাচাই-বাছাই করা হবে। এ তথ্য ফাঁস ইচ্ছাকৃতভাবে হয়েছে, নাকি অসাবধানতাবশত হয়েছে, সেটা দেখা হচ্ছে। যদি কেউ স্বপ্রণোদিতভাবে এটা করে, তাহলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
আখতার আহমেদ বলেন, ‘দেখা যাচ্ছে আমাদের অগোচরেই যাদের তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ দিয়েছি তারা অন্য অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে তথ্য দিচ্ছে, যেটা কাম্য নয়। এটিকে নিয়ন্ত্রণে আনা ও ব্যবস্থাপনাটাকে উন্নত করার জন্য আমাদের যেসব গ্রাহক আছে তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। যে তথ্য যার জন্য যতটুকু প্রয়োজন ওই প্রতিষ্ঠান ততটুকু তথ্য নেবে এবং তার গ্রাহকদের সন্তুষ্ট করবে। কোন প্রতিষ্ঠানের কতটুকু তথ্য প্রয়োজন, যতটুকু দরকার তার বেশি নিচ্ছে কিনা তা পর্যালোচনা করা হবে। কী করে এ তথ্য লিক বা পাচার হয়েছে এগুলো টেকনিক্যাল বিষয়। এগুলো যাচাই-বাছাই করা হবে। একেকজনের চাহিদা একেক রকম। বাংলাদেশ পুলিশের যে ধরনের তথ্য দরকার, হয়তো পাসপোর্টের সে ধরনের নয়, আবার ভূমি মন্ত্রণালয়ের অন্য রকম তথ্য প্রয়োজন।’
এর আগে গত ৮ অক্টোবর এনামুল হক নামে এক ব্যক্তি এনআইডির তথ্য ‘বিক্রির’ অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও সাবেক তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে কাফরুল থানায় মামলা করেন। সাইবার নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা এ মামলায় আরো ১৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতপরিচয় ১৫-২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। কাফরুল থানার ওসি কাজী গোলাম মোস্তফা গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, ‘জাতীয় নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে ডিজিকন গ্লোবাল সার্ভিসেস লিমিটেডকে এনআইডির তথ্য ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসার অনুমতি দেন আসামিরা। সেসব তথ্য দেশ ও দেশের বাইরের প্রায় ১৮২টি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করা হয়। তথ্য বিক্রির প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। তৃতীয় পক্ষের কাছে তথ্য পাচার হওয়ায় জনগণের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে।
২০২৩ সালের ৬ জুলাই বাংলাদেশের সরকারি একটি ওয়েবসাইট থেকে নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের খবর প্রকাশ করেছিল আমেরিকান ওয়েবসাইট টেকক্রাঞ্চ। ওই খবরে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশী নাগরিকদের সম্পূর্ণ নাম, ফোন নম্বর, ই-মেইল ঠিকানা, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরসহ ব্যক্তিগত তথ্য উন্মুক্ত হয়ে আছে ইন্টারনেটে। ওই ঘটনার তিনদিন পর জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ জানিয়েছিল, নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সার্ভার সুরক্ষিত আছে। বিভাগটি দাবি করেছিল, তাদের সার্ভার থেকে কোনো রকম তথ্য কোথায় যায়নি। তার পরও এ বিষয়ে কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি পেলে, চুক্তিপত্র বরখেলাপ হলে তা বাতিল করা হবে।
Posted ৫:০৫ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
bankbimarkhobor.com | Mr. Islam