| বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই ২০২৫ | প্রিন্ট | 158 বার পঠিত
পুরুষ পরতে পারবেন না জিন্স-গ্যাবাডিন, নারীরা শর্ট স্লিভ-লেগিংস
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন ড্রেস কোড বা পোশাক বিধি নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, পুরুষ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এখন থেকে ফরমাল শার্ট ও প্যান্ট পরতে হবে। এক্ষেত্রে জিন্স বা গ্যাবাডিন প্যান্ট পরিহার করতে বলা হয়েছে। আর নারীদের ক্ষেত্রে শর্ট স্লিভ ও লেন্থের ড্রেস অর্থাৎ ছোট হাতা ও ছোট দৈর্ঘ্যের পোশাক এবং লেগিংস পরিহার করতে বলা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগ-২ থেকে পোশাক-সংক্রান্ত এসব নির্দেশনা দেয়া হয়। ওই নির্দেশনায় বলা হয়, নারীদের শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ ও ওড়না এবং অন্যান্য পেশাদার শালীন পোশাক পরে অফিসে আসতে হবে। এক্ষেত্রে পোশাক অবশ্যই সাদামাটা ও পেশাদার হতে হবে বলে নির্দেশনা দেয়া হয়।
নতুন এ পোশাক কোড নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একাধিক পুরুষ ও নারী কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের অনেক পুরুষ কর্মকর্তা পাঞ্জাবি-পায়জামা পরে অফিস করেন। গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর নিজেও বেশির ভাগ সময় পাঞ্জাবির ওপর ক’টি পরে অফিসে আসেন। নতুন নির্দেশনা মেনে চললে পুরুষ কর্মকর্তারা ফরমাল শার্ট-প্যান্ট ছাড়া ভিন্ন কিছু পরতে পারার কথা নয়। আবার নারী কর্মকর্তাদের অনেকেই বোরকা পরে অফিস করেন। নারীদের জন্য যেসব পোশাক উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে বোরকা নেই। এসব পোশাকের ক্ষেত্রে নির্দেশনা কী হবে, সেটি নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘শিক্ষাজীবন শেষ করে যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী কেন্দ্রীয় ব্যাংকে যোগদান করছেন, নতুন নির্দেশনাটি মূলত তাদের উদ্দেশ করে দেয়া হয়েছে। কারণ সদ্য যোগ দেয়া অনেকে নিজেদের ক্যাম্পাস জীবনের পোশাক ছাড়তে পারছেন না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকার হিসেবে পোশাক-আশাকে মার্জিত হওয়ার জন্যই নতুন এ নির্দেশনা।’
আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘মাঝেমধ্যে আমিও জিন্স কিংবা গ্যাবাডিন প্যান্ট পরে অফিসে যাই। এখন থেকে ফরমাল প্যান্ট পরতে হবে। নির্দেশনায় কোনোভাবেই নারীদের হিজাব পরতে বাধ্য করা হয়নি। যারা হিজাব পরেন, তাদের হিজাব যাতে সাদামাটা হয়, সেটি বলা হয়েছে।’
পোশাক বিধি-সংক্রান্ত নির্দেশনাটি এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগ-২-এর (বেনিফিটস অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন উইং) একটি বিভাগীয় মাসিক সভার এজেন্ডা ও কার্যবিবরণীতে। ২১ জুলাই থেকে নতুন এ নির্দেশনা কার্যকর হয়। ওই সভার গৃহীত সিদ্ধান্তের ১১গ নম্বরে বলা হয়, ‘ইতিবাচক কর্মপরিবেশ তৈরি করার জন্য দাপ্তরিক শিষ্টাচার ও আচরণবিধি তথা সততা, নৈতিকতা, সময়ানুবর্তিতা, শৃঙ্খলাবোধ, অর্পিত দায়িত্ব-কর্তব্য পালনে নিষ্ঠা ইত্যাদি, সহকর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণ ও আন্তরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক (পারস্পরিক সম্মান, সৌজন্যবোধ, সহযোগিতামূলক মনোভাব ইত্যাদি) মেনে চলতে হবে।’
আর ১১ঘ নম্বরে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের সব স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের (সি ও ডি শ্রেণীভুক্ত কর্মচারীদের নির্ধারিত পোশাক ব্যতীত) সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় পেশাদার ও মার্জিত পোশাক পরিধান করতে হবে। যেমন পুরুষ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ফরমাল শার্ট, লম্বা হাতা বা হাফ হাতা, ফরমাল প্যান্ট, ফরমাল জুতা পরতে হবে। জিন্স ও গ্যাবাডিন প্যান্ট পরিহার করতে হবে। নারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বলা হয়, শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ ও ওড়না, অন্যান্য পেশাদার শালীন পোশাক অবশ্যই সাদামাটা এবং পেশাদার রঙের হতে হবে। এক্ষেত্রে শর্ট স্লিভ ও লেন্থের ড্রেস, লেগিংস পরিহার করতে হবে। আর ফরমাল স্যান্ডেল বা জুতা, সাদামাটা হেডস্কার্ফ বা হিজাব হতে হবে।’
অবশ্য ১১ (ক) নম্বরে নারী কর্মীদের প্রতি আচরণের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক স্টাফ রেগুলেশন ২০০৩-এর ৩৯ ধারায় বর্ণিত নির্দেশনা মেনে চলতে বলা হয়েছে। যৌন হয়রানিসংক্রান্ত অভিযোগগুলো ঘটনা ঘটার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে মানবসম্পদ বিভাগ ১-এর নির্দিষ্ট পরিপত্রের মাধ্যমে গঠিত কমিটির কাছে পাঠাতে বলা হয়েছে। ১১ (খ) নম্বরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের বিষয়ে মানবসম্পদ বিভাগ ২-এর অফিস নির্দেশ যথাযথভাবে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
গৃহীত সিদ্ধান্তের ১২ নম্বরে বলা হয়েছে, ‘১১ নম্বর ক্রমিকে দেয়া নির্দেশনা পরিপালনের জন্য অফিস, বিভাগ, প্রকল্প, সেল, ইউনিটভিত্তিক পর্যবেক্ষণের জন্য একজন কর্মকর্তাকে মনোনয়ন দিতে হবে। ওই নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ হচ্ছে কিনা, সে বিষয়ে তদারকি করবেন মনোনীত কর্মকর্তা। এর ব্যত্যয় হলে বিভাগীয় প্রধানকে অবহিত করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে নির্দেশনা ও শৃঙ্খলাভঙ্গের বিষয়ে অভিযোগ পাঠাবেন।’
Posted ৪:৫৪ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই ২০২৫
bankbimarkhobor.com | Mr. Islam