| বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | 91 বার পঠিত
পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে লুণ্ঠিত বেসরকারি ব্যাংকগুলোর একটি গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক। ভুয়া বিভিন্ন কোম্পানির নামে ব্যাংকটি থেকে বের করে নেয়া হয়েছে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা। এ ঋণের (বিনিয়োগ) বিপরীতে জমিসহ যেসব সম্পত্তি বন্ধক রাখা হয়েছিল, সেগুলোর বেশির ভাগই অস্তিত্বহীন। পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের পর ব্যাংকটির বন্ধকি সম্পদের নিরীক্ষা ও বাজারমূল্য নির্ধারণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। সে নিরীক্ষার তথ্য বলছে, চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংকটির হাতে জামানত হিসেবে থাকা সম্পত্তি বিক্রি করে কেবল ২৫-৩০ শতাংশ অর্থ আদায় সম্ভব।
গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের চেয়েও খারাপ পরিস্থিতি ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের। এ ব্যাংকটি থেকে যেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ বিতরণ করা হয়েছে, সেগুলোর বেশির ভাগের অস্তিত্বই নেই। বিতরণকৃত ঋণের স্থিতি এখন প্রায় ৬২ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ৩৮ হাজার কোটি টাকাই এস আলম গ্রুপসংশ্লিষ্ট বলে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। নিরীক্ষায় দেখা যায়, মাত্র ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকার মেয়াদি আমানত (এমটিডি) জামানত রেখে বিতরণ করা হয়েছে ২৬ হাজার ৬০০ কোটি টাকার ঋণ। আর জমিসহ সম্পদ বন্ধক রেখে যে ঋণ বিতরণ করা হয়েছে সেগুলোরও বেশির ভাগ অতিমূল্যায়িত কিংবা অস্তিত্বহীন।
শরিয়াহভিত্তিক এ দুটি ব্যাংকসহ মোট পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে বড় একটি ইসলামী ধারার ব্যাংক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্ষদে একীভূতকরণের রোডম্যাপ ও নতুন ব্যাংক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে। একীভূত হতে যাওয়া পাঁচ ব্যাংকেরই জামানতের মূল্যমান ঋণ স্থিতির অর্ধেকেরও কম বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে লুণ্ঠিত হওয়া এ পাঁচ ব্যাংকের পাশাপাশি জমিসহ স্থাবর সম্পদ বন্ধক রেখে ঋণ বিতরণ করা অন্য ব্যাংকগুলোর পরিস্থিতিও সন্তোষজনক নয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ঋণ বিতরণের সময় জামানতের সম্পত্তি অতিমূল্যায়ন করে দেখানো হয়েছে। আবার নদী-নালা, খাল-বিল, বন, সরকারি খাসজমি, বিতর্কিত মালিকানার জমিসহ অস্তিত্বহীন সম্পদও জামানত রেখে ঋণ দিয়েছে অনেক ব্যাংক। একই সম্পত্তি একাধিক ব্যাংকে বন্ধক রাখার ঘটনাও ঘটেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, সহায়ক জামানত হিসেবে জমি বা ফ্ল্যাটের মতো স্থাবর সম্পদ বন্ধক রেখে বিতরণকৃত ঋণের স্থিতি এখন প্রায় ১১ লাখ কোটি টাকা। যদিও এসব ঋণের বিপরীতে বন্ধক থাকা সম্পদের প্রকৃত মূল্য কত, সে তথ্য দেশের কারো কাছেই নেই।
Posted ৬:৫০ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
bankbimarkhobor.com | Mr. Islam