নিট মুনাফা অর্জন না হলেও, শুধুমাত্র পরিচালন (অপারেটিং) লাভ থাকলেই এখন থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো তাদের কর্মীদের উৎসাহমূলক বোনাস প্রদান করতে পারবে। এ সংক্রান্ত পূর্বের কঠোর বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করে বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন একটি নির্দেশনা জারি করেছে।
সম্প্রতি জারি করা ওই সার্কুলারটি দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মূলধন ঘাটতি থাকলেও নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ব্যাংকগুলো বোনাস দিতে পারবে। তবে যেসব ব্যাংকের মূলধন আগের বছরের তুলনায় কমে যায়নি, কেবল তারাই এই সুবিধার আওতায় থাকবে। পাশাপাশি যেসব ব্যাংকের ডেফারেল সুবিধা গ্রহণের প্রয়োজন নেই, তারাও এই নিয়মের অন্তর্ভুক্ত হবে।
এতে আরও বলা হয়েছে, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ সর্বোচ্চ এক মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ বোনাস অনুমোদন করতে পারবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য হলো ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উৎসাহ বৃদ্ধি করা এবং ব্যাংকিং খাতে একটি প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ বজায় রাখা। তবে গত বছরের ডিসেম্বরের আগের সার্কুলারের অন্যান্য শর্তাবলি অপরিবর্তিত থাকবে।
এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছিল, যেসব ব্যাংক নিট মুনাফা অর্জন করতে ব্যর্থ হবে, তারা কর্মীদের প্রণোদনা বোনাস দিতে পারবে না। একই সঙ্গে মূলধন ও প্রভিশন ঘাটতিতে থাকা ব্যাংকগুলোর জন্যও বোনাস প্রদানে নিষেধাজ্ঞা ছিল।
ব্যাংকারদের মতে, আগে অনেক ব্যাংক বছর শেষে বিভিন্নভাবে হিসাব সাজিয়ে বা ছাড় সুবিধা নিয়ে মুনাফা দেখিয়ে কর্মীদের বোনাস দিত। তবে ডিসেম্বরের সেই নির্দেশনার পর এ ধরনের বোনাস বন্ধ হয়ে যায়, ফলে শুধুমাত্র ভালো অবস্থানে থাকা ব্যাংকগুলোর কর্মীরাই বোনাস পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছিলেন।
চলতি মাসে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের কাছে এই বিধিনিষেধ শিথিলের অনুরোধ জানায়। তাদের দাবি ছিল, মূলধন বা প্রভিশন ঘাটতি থাকলেও ব্যাংকগুলো যেন কর্মীদের বোনাস দিতে পারে। সেই অনুরোধের প্রেক্ষিতেই নতুন এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।