পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দশটি ব্যাংক টানা দুই অর্থবছর লভ্যাংশ ঘোষণা করতে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের শ্রেণি ‘এ’ ক্যাটাগরি থেকে অবনমিত হয়ে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নেমে গেছে। এই পরিবর্তন বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে, কারণ ‘জেড’ ক্যাটাগরির কোম্পানিগুলো সাধারণত দুর্বল আর্থিক পারফরম্যান্স বা নীতিমালা অনুসরণে ব্যর্থতার ইঙ্গিত দেয়।
এই তালিকায় থাকা ব্যাংকগুলো হলো—এবি ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, এনআরবি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক এবং ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা গেছে, রোববার (৩ মে) থেকে এসব ব্যাংকের শেয়ার ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে লেনদেন শুরু হয়েছে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিধি অনুযায়ী, কোনো তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান পরপর দুই বছর লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ হলে তাকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করা হয়। সেই নিয়ম অনুসারেই ২০২৪ ও ২০২৫ অর্থবছরে লভ্যাংশ ঘোষণা না করায় ব্যাংকগুলোকে এই নিম্ন শ্রেণিতে নামানো হয়েছে।
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্দেশনা অনুযায়ী, ‘জেড’ ক্যাটাগরির শেয়ার কেনাবেচায় বিনিয়োগকারীরা কোনো প্রকার মার্জিন ঋণ সুবিধা পাবেন না। ফলে এই শেয়ারগুলোর লেনদেনে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হয় এবং বিনিয়োগ ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে।
এছাড়া ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে করপোরেট গভর্ন্যান্স, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং পরিচালন দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তাই এই শ্রেণিতে অবনমন শুধু সাময়িক আর্থিক ব্যর্থতা নয়, বরং প্রতিষ্ঠানগুলোর সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা ও কার্যক্রমের ওপরও প্রভাব ফেলে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, তালিকাভুক্তির পর এই প্রথমবারের মতো উল্লিখিত ব্যাংকগুলো একসঙ্গে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নেমে এসেছে, যা দেশের ব্যাংকিং খাত ও পুঁজিবাজারের জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য ব্যাংকগুলোর আর্থিক পুনর্গঠন, মুনাফা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।