শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

এক্সিম ব্যাংকের ৬৬ শতাংশই মন্দ ঋণ

  |   শনিবার, ২৩ মে ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   40 বার পঠিত

এক্সিম ব্যাংকের ৬৬ শতাংশই মন্দ ঋণ

এক্সিম ব্যাংকের মোট ঋণের ৬৬.৩১ শতাংশই মন্দ ঋণ এবং মোট সংরক্ষণ (প্রভিশন) ঘাটতি ৪ হাজার ২৫৯ কোটি টাকা। ব্যাংকটির ২০২৫ সালের বার্ষিক হিসাব বিবরণী পর্যালোচনায় বড় ধরনের এ ঘাটতি চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংক সুপারভিশন বিভাগ-১২ থেকে ২৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়েছে, ব্যাংকটির বিভিন্ন খাতে মোট সংরক্ষণ (প্রভিশন) ঘাটতি রয়েছে প্রায় ৪ হাজার ২৫৯ কোটি টাকা। এই ঘাটতি পূরণে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করে আর্থিক প্রতিবেদনে প্রতিফলনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের মধ্যে থাকা এক্সিম ব্যাংকের নিজেদের করা হিসাবেই দেখা যায় এনপিএল ৬৬.৩১ শতাংশ। এতে ব্যাংক সংশ্লিষ্টদের মনে প্রশ্ন এসেছে এত বড় চাপের ধকল কাটিয়ে এক্সিম ব্যাংক ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কিনা তা নিয়ে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠিতে বলা হয়, ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে মোট সংরক্ষণ ছিল ৩০ হাজার ৮২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যালোচনায় প্রয়োজনীয় সংরক্ষণ দাঁড়িয়েছে ৩৪ হাজার ৩৪১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। ফলে অতিরিক্ত ৪ হাজার ২৫৯ কোটি টাকা সংরক্ষণ রাখতে হবে।

বিনিয়োগ ও অগ্রিম খাতে ব্যাংকটির সংরক্ষণ ঘাটতি ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৭৮৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। এ খাতে ব্যাংক ২৯ হাজার ৩০ কোটি ৩১ লাখ টাকা সংরক্ষণ দেখালেও বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে প্রয়োজন ৩২ হাজার ৮১৫ কোটি ৭ লাখ টাকা।

এ ছাড়া সাধারণ সংরক্ষণে ১৪ কোটি ২৪ লাখ, বিবিধ বহির্ভূত খাতে ৮৮ কোটি ১৭ লাখ, অন্যান্য সম্পদে ৫ কোটি ৬৩ লাখ, শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগে ২২০ কোটি এবং আরও ৬ কোটি ২০ লাখ টাকার ঘাটতি চিহ্নিত হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও জানিয়েছে, কিছু বিনিয়োগ পুনঃশ্রেণিকরণ করতে হবে এবং ১ হাজার ৩০ কোটি ১৬ লাখ টাকা কমিশন/সাসপেন্স হিসাবে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, এসব সমন্বয় ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর ভিত্তিক আর্থিক প্রতিবেদনে প্রতিফলিত করতে হবে ( যেহেতু ২৯ ডিসেম্বর থেকে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক যাত্রা শুরু করেছে)। ব্যাংক খাতের বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্দেশনা এক্সিম ব্যাংক কীভাবে প্রতিপালন করে তাই দেখার বিষয়। এছাড়া ব্যাংকটির বর্তমান পরিস্থিতি তার আর্থিক অবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।

এক্সিম ব্যাংক আর্থিক প্রতিবেদন জমার আইনি বাধ্যবাধকতাও মানতে পারেনি। বছর শেষে সব ব্যাংককেই নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন জমা দিতে কয়েকটি আইনি বাধ্যবাধকতা মানতে হয়। যেমন, ১. (বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা) ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, আর্থিক বছর শেষের দুই মাসের মধ্যে নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী, ব্যালেন্সশিট ও নিরীক্ষকের প্রতিবেদন তিন কপি জমা দিতে হবে। প্রয়োজনে সময় আরও দুই মাস বাড়ানো যেতে পারে। তবে প্রতিবেদন অবশ্যই এফআরসি নিবন্ধিত নিরীক্ষকের হতে হবে। ২. (রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজে জমা) একই নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী ও নিরীক্ষকের প্রতিবেদনের তিন কপি রেজিস্ট্রারের কাছেও জমা দিতে হবে। এখানেও এফআরসি নিবন্ধিত নিরীক্ষকের প্রতিবেদন বাধ্যতামূলক। ৩. (এফআরসিতে জমা) বাংলাদেশ ব্যাংক বা অন্য সরকারি সংস্থায় বার্ষিক নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী জমা দেওয়ার সময় একইসঙ্গে তার একটি কপি এফআরসিতেও পাঠাতে হয়। ৪. বিএসইসি ও স্টক এক্সচেঞ্জে জমা (তালিকাভুক্ত ব্যাংকের জন্য): আর্থিক বছর শেষের ১২০ দিনের মধ্যে নিরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে এবং নিরীক্ষা শেষের ১৪ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন বিএসইসি ও স্টক এক্সচেঞ্জে জমা দিতে হবে।

উল্লেখ্য, প্রথম তিনটি বাধ্যবাধকতা সব ব্যাংকের জন্য প্রযোজ্য, আর বিএসইসি ও স্টক এক্সচেঞ্জে জমা দেওয়ার নিয়ম শুধু পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কিন্তু এক্সিম ব্যাংক অডিটেড রিপোর্টই তৈরী করেনি।

এ বিষয়ে এক্সিম ব্যাংকের প্রশাসক বা কোন উর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে কাউকে ফোনে পাওয়া যায়নি। মোবাইলে ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও দু’দিনে তার কোন উত্তর মেলেনি।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৪:৪৯ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

bankbimarkhobor.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

[abm_bangladesh_map]
advertisement
advertisement
advertisement
সম্পাদক
মোঃ ইসলাম শেখ
কার্যালয়

৭৯, সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোড, (৩য় তলা, বাম দিক), সিদ্ধেশ্বরী, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭

01760742336

bankbimarkhobor@gmail.com