শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

বিশ্বব্যাংকের প্রথম ৫০ বছর

  |   মঙ্গলবার, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   89 বার পঠিত

বিশ্বব্যাংকের প্রথম ৫০ বছর

আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা হ্যারি ডেক্সটার হোয়াইট ও জন মেনার্ড কেইনস ছবি: আইএমএফ

১৯৪৪ সালের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ হ্যাম্পশায়ারের ব্রেটন উডসে অনুষ্ঠিত এক ঐতিহাসিক সম্মেলনে বিশ্বব্যাংকের ভিত্তি স্থাপন হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী ধ্বংসস্তূপ থেকে বিশ্ব অর্থনীতিকে পুনর্গঠন, মুদ্রা স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকরণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সমন্বয় সাধনই ছিল এ সম্মেলনের মূল লক্ষ্য। ৪৪টি মিত্ররাষ্ট্রের অংশগ্রহণে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দুটি প্রতিষ্ঠান গঠিত হয়: আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং আন্তর্জাতিক পুনর্গঠন ও উন্নয়ন ব্যাংক (আইবিআরডি)। আইবিআরডিই পরে ‘বিশ্বব্যাংক’ নামে পরিচিতি পায়। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে এটি বিশ্বব্যাংক গ্রুপের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি (অন্যান্য প্রতিষ্ঠান: আইডিএ, আইএফসি, মিগা, আইসিএসআইডি)।

প্রাথমিকভাবে আইবিআরডির মূল ভূমিকা ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউরোপ ও এশিয়ার অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে ঋণ প্রদান। তবে শিগগিরই এর কার্যক্রম উন্নয়নশীল দেশগুলোর দারিদ্র্য বিমোচন, কৃষি আধুনিকায়ন ও শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাতের সম্প্রসারণ হয়।
স্নায়ুযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে, যুক্তরাষ্ট্র ট্রুম্যান নীতির আওতায় বিশ্বব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করে দরিদ্র দেশগুলোয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা প্রদান করে। উন্নয়নশীল দেশগুলোকে শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, বরং একটি নির্দিষ্ট নীতিগত দিকনির্দেশনাও দেয়া হয়। ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের আওতায় আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ) গঠনের মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অবকাঠামো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগের প্রক্রিয়া আরো জোরদার করা হয়।

তবে এ কথা অনস্বীকার্য যে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা এ প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থরক্ষার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। আইডিএর ক্ষেত্রে ঋণের শর্তে আমদানীকৃত পণ্য ও পরিষেবার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বাধ্যবাধকতা আরোপের মাধ্যমে অনেক উন্নয়নশীল দেশ এক ধরনের আর্থিক নির্ভরশীলতায় আবদ্ধ হয়ে পড়ে। অন্যদিকে এ প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তি স্থানান্তর ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মতো ইতিবাচক প্রভাবও ধরা পড়ে।

১৯৬০-এর দশকে বিশ্বব্যাংক অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পায়ন ও কৃষি আধুনিকায়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার ওপর জোর দেয়। উন্নয়নের জন্য বৃহৎ পরিসরের ঋণ প্রদান ও বিনিয়োগের ব্যবস্থা গ্রহণ করে, যা পরবর্তী সময়ে ঋণ প্রদানের নীতিতে মৌলিক পরিবর্তন নিয়ে আসে। একই সময়ে সামাজিক খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রয়াস চালু হয়। প্রাথমিক শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে ঋণের শর্তাবলি নির্ধারণ করা হয়। ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলোয় কেবল অবকাঠামো উন্নয়ন নয়, বরং মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে গুরুত্ব দেয়া হয়।

বিশ্বব্যাংক ব্যবস্থাপনা ও কার্যকারিতায় নতুন ধারণা প্রবর্তন করে। যার মধ্যে কর্মক্ষমতা মূল্যায়ন, প্রকল্পের ফলপ্রসূতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধির পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত ছিল। এ নীতিগত সিদ্ধান্তগুলো ঋণ প্রদানের প্রক্রিয়ায় আধুনিকতা ও কার্যকারিতা নিয়ে আসে। পরবর্তী সময়ে এগুলো গ্লোবাল অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।

The_Gold_Room_Bretton_Woods_Reverse_Angle

মাউন্ট ওয়াশিংটন হোটেলের গোল্ডরুম। এ টেবিলেই বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ গঠনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়

বিশ্বব্যাংকের ইতিহাসে ১৯৬৮-৮১ পর্যন্ত রবার্ট ম্যাকনামারার নেতৃত্বে উন্নয়ন নীতিতে বড় পরিবর্তন আসে। তিনি উন্নয়ন ও নিরাপত্তার মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক তুলে ধরেন এবং দারিদ্র্য বিমোচনের ওপর জোর দেন। ম্যাকনামারার বক্তব্য ছিল, ন্যূনতম উন্নয়ন ছাড়া স্থিতিশীলতা ও শৃঙ্খলা সম্ভব নয়।

১৯৬৮ সালে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেয়া রবার্ট ম্যাকনামারা সংস্থাটির নীতিতে পরিবর্তন আনেন। তিনি প্রচলিত ‘ট্রিকল-ডাউন’ তত্ত্ব (অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দারিদ্র্য কমাবে) প্রত্যাখ্যান করে সরাসরি দারিদ্র্য বিমোচনের ধারণাকে গুরুত্বের সঙ্গে সামনে আনার চেষ্টা করেন। তার বিশ্বাস ছিল, কেবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দারিদ্র্য দূর করতে যথেষ্ট নয়; বরং কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নগর আবাসন, পুষ্টি ও পরিবার পরিকল্পনার মতো মৌলিক সামাজিক খাতে বিনিয়োগ ও নীতিগত সংস্কারের মাধ্যমে দারিদ্র্য মোকাবেলা করা যেতে পারে। তার প্রশাসনের মূল স্লোগান ‘দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে অভিযান’ এ নীতির স্পষ্ট পরিচয় বহন করে। তার দায়িত্বে ১৯৬৮-৬৯ সালে বিশ্বব্যাংকের ঋণ কার্যক্রম প্রায় দ্বিগুণ বাড়ে।

ম্যাকনামারার সময়ে বিশ্বব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সংস্কৃতিতে ‘অর্থ স্থানান্তর করা’ ধারণাটি কেন্দ্রীয় নীতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়। বার্ষিক ঋণের লক্ষ্য নির্ধারণ এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কর্মীদের পারফরম্যান্স মূল্যায়নের ব্যবস্থা চালু করা হয়। এতে ঋণ ও বিনিয়োগের কার্যকারিতা বাড়ে। বিশেষভাবে কৃষি খাতে বিনিয়োগের প্রসারের উদ্দেশ্যে ফোর্ড ও রকফেলার ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রগুলোর নেটওয়ার্ক গঠন করা হয়। এর মাধ্যমে সবুজ বিপ্লবের প্রযুক্তি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে, যা কৃষিক্ষেত্রে আধুনিকায়ন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। অবশ্য এ বিপ্লব নিয়ে সমালোচনা আছে।

কিছু ক্ষেত্রে ম্যাকনামারার এ উদ্যোগগুলো রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। ভিয়েতনাম যুদ্ধ ও মার্কিন অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকটের সময় কংগ্রেস বিদেশী সহায়তার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র বহুপক্ষীয় সহায়তা কার্যক্রম, বিশেষ করে বিশ্বব্যাংকের মাধ্যমে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

১৯৭০ সালে বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ হিসেবে হলিস চেনারি যোগদান করেন। তিনি দারিদ্র্য গবেষণার ওপর গুরুত্ব আরোপ শুরু করেন, যা আগে অর্থনৈতিক তত্ত্বের প্রেক্ষাপটে অবহেলিত ছিল।

১৯৬৮-৮১ সাল পর্যন্ত বিশ্বব্যাংকের নীতিমালায় ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। ১৯৭১-৭৪ সালের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ব্রেটন উডস ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে, ডলারের স্বর্ণ ভিত্তিকে (গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড) পরিত্যাগ করে নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সূচনা করে। ১৯৭৯ সালে দ্বিতীয় তেল সংকট ঘটে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মার্কিন ট্রেজারি সুদহার বাড়ায়। ফলে একদিকে যেমন ডলারের মূল্য বাড়ে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে মার্কিন আধিপত্য পুনরায় সুদৃঢ় হয়।

১৯৮০ সালে বিশ্বব্যাংক ‘স্ট্রাকচারাল অ্যাডজাস্টমেন্ট লোন’ (এসএএল) চালু করে। এটি প্রকল্পভিত্তিক না হয়ে নীতিভিত্তিক ঋণের মাধ্যমে দ্রুত বিতরণযোগ্যতা নিশ্চিত করেছিল। এসএএলের শর্ত অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে আইএমএফের নির্দেশনা মেনে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োগ করতে বাধ্য করা হয়। তুরস্ক ১৯৮০ সালে এ ঋণ গ্রহণ করে এবং পরবর্তী সময়ে তা অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রে নীতিগত মডেল হিসেবে বিবেচিত হয়।

১৯৮০-এর দশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে যথাক্রমে রোনাল্ড রিগ্যান ও মার্গারেট থ্যাচারের নেতৃত্বে উদার অর্থনৈতিক নীতির প্রবর্তন ঘটে। সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার সংকোচন ও বেসরকারীকরণের প্রবণতা বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের নীতিমালার সঙ্গে খাপ খায়। বিশ্বব্যাংক মুদ্রানীতির সংকোচন, বাজারমুখী অর্থনৈতিক সংস্কার, বাণিজ্য উদারীকরণ, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও বিদেশী বিনিয়োগের প্রসারে বিশেষ গুরুত্ব দেয়।

১৯৮২ সালের লাতিন ঋণ সংকট বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। এ সংকট মোকাবেলায় ১৯৮৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন ট্রেজারি সেক্রেটারি জেমস বেকার ‘বেকার প্ল্যান’ উত্থাপন করেন। এতে সংকটাপন্ন দেশগুলোকে ঋণ পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক সংস্কারের শর্ত মেনে চলার পরামর্শ দেয়া হয়। তবে এসব কঠোর আর্থিক নীতিমালা অনেক দেশে সামাজিক বৈষম্য বাড়িয়ে দেয়। এ সমস্যা উপলব্ধি করে ১৯৮৯ সালে প্রণীত ওয়াশিংটন কনসেনসাস উদার অর্থনীতির বৈশ্বিক মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। বিশ্বব্যাংক এ নীতির বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যার মূল লক্ষ্য ছিল মুক্ত বাণিজ্য, পুঁজির প্রবাহ, রাষ্ট্রের ভূমিকা হ্রাস করে বেসরকারি খাতের অগ্রাধিকার প্রদান ও আর্থিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা।

১৯৯১ সালে স্নায়ুযুদ্ধের অবসান ও সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর বিশ্বব্যাংক একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। পূর্ব ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন দেশে কার্যক্রম সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি হয়। ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে এ অঞ্চলের ২০টিরও অধিক দেশ বিশ্বব্যাংকের গ্রাহক হয়ে ওঠে। এ সময়ে বিশ্বব্যাংক তাদের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নীতিকে পুনর্নির্মাণের লক্ষ্যে চারটি কৌশলগত অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে।

১. দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক নীতির রূপান্তর: ১৯৯০ সালে বিশ্বব্যাংক দারিদ্র্য বিমোচনকে তাদের অগ্রাধিকারের কেন্দ্রে স্থান দেয়। ওয়ার্ল্ড ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট ১৯৯০-এ দারিদ্র্য, বৈষম্য ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার আন্তঃসম্পর্ক তুলে ধরা হয়। এতে বাজারভিত্তিক অর্থনৈতিক নীতিমালার পাশাপাশি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য নির্দিষ্ট সামাজিক প্রোগ্রাম চালুর সুপারিশ করা হয়, যদিও আয়ের অসমতা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া যায়নি।

২. ম্যাক্রোইকোনমিক স্থিতিশীলতা ও নীতিসহায়তা: ১৯৯১ সালের প্রতিবেদনে ‘মার্কেট-ফ্রেন্ডলি’ পন্থা গ্রহণ করা হয়, যেখানে রাষ্ট্রকে অর্থনীতির সহযোগী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এতে রাষ্ট্রের দায়িত্ব, প্রাথমিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের ওপর বিশেষ জোর দেয়া হয়। এ নীতিমালা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

৩. পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়ন: ১৯৯২ সালের রিও আর্থ সামিটের প্রাক্কালে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে ‘টেকসই উন্নয়ন’ ধারণা প্রবর্তন হয়। বিশ্বব্যাংক দাবি করে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পরিবেশ সংরক্ষণে অপরিহার্য। তবে এ ‘সবুজায়ন’ কার্যক্রম মূলত বাজারভিত্তিক নীতির সঙ্গে পরিবেশ রক্ষাকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার প্রয়াস ছিল, যা দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্য রাখে।

৪. শাসন ব্যবস্থা ও উন্নয়ন নীতি সংহতকরণ: ১৯৮৯ সালে প্রথমবারের মতো ‘সুশাসন’-এর ধারণা উপস্থাপন হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯২ সালে বিশ্বব্যাংক রাষ্ট্রীয় কাঠামো সংস্কার, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং এনজিওসহ বিভিন্ন সামাজিক সংস্থার অংশগ্রহণের ওপর জোর দেয়। এ নীতিমালার মাধ্যমে শাসন ব্যবস্থা ও উন্নয়নের সংহতকরণে গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

১৯৯৪ সালে বিশ্বব্যাংক তাদের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে দারিদ্র্য বিমোচন, সুশাসন ও টেকসই উন্নয়নের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকার কথা বলা হয়। তবে সে সময়ও তাদের কার্যক্রম অনেকটাই বাজারভিত্তিক নীতিমালার সম্প্রসারণেই সীমাবদ্ধ ছিল। ঋণ প্রদান কৌশল বিশ্বব্যাংকের মূল শক্তি। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির সামাজিক ও পরিবেশগত ক্ষতির দায়, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ঘাটতি ইত্যাদি বিষয়ে রাজনৈতিক মহলে সমালোচনা ওঠে। এসব প্রশ্ন আজও আলোচিত।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৫:৫১ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

bankbimarkhobor.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

[abm_bangladesh_map]
advertisement
advertisement
advertisement
সম্পাদক
মোঃ ইসলাম শেখ
কার্যালয়

৭৯, সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোড, (৩য় তলা, বাম দিক), সিদ্ধেশ্বরী, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭

01760742336

bankbimarkhobor@gmail.com