শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

ব্যাংকের পর্ষদে অভিজ্ঞতা ছাড়া কাউকে বসানো যাবে না

  |   বুধবার, ০৫ মার্চ ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   56 বার পঠিত

ব্যাংকের পর্ষদে অভিজ্ঞতা ছাড়া কাউকে বসানো যাবে না

ব্যাংকের পর্ষদে অভিজ্ঞতা ছাড়া কাউকে বসানো যাবে না

ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে অভিজ্ঞতা ছাড়া কাউকে আর বসানো যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। রাজধানীর ইস্কাটনে গতকাল ‘‌ব্যাংকিং খাত পুনরুদ্ধারের উপায়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এ কথা বলেন গভর্নর। ইংরেজি দৈনিক দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের কার্যালয়ে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের চেয়ারম্যান শরীফ জহির, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মান্নান, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মো. ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদসহ বিভিন্ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা সভায় অংশগ্রহণ করেন।

বৈঠকে গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘যোগ্যতা যাচাই-বাছাই ছাড়া ব্যাংকের পরিচালক হিসেবে স্ত্রী, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবদের বসিয়ে দেয়া যাবে না। পরিচালক হতে ফিট অ্যান্ড প্রপার টেস্ট (অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা পরীক্ষা) পর্যালোচনা করা হচ্ছে। মালিকদেরও এ যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হবে।’

এজেন্ট ব্যাংকিং নীরব বিপ্লব করে যাচ্ছে—উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমার ধারণা এটি প্রচলিত ব্যাংকিংকে ছাড়িয়ে যাবে। এ খাতে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোর ৫০ শতাংশ এজেন্ট নারী হতে হবে।’

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে বাংলাদেশ আর্থিক সহায়তার পরিবর্তে কারিগরি সহায়তা চায় বলে জানান গভর্নর। তিনি বলেন, ‘রাজস্ব ঠিকমতো আদায় করলে আইএমএফের (ঋণ) দরকার নেই। নীতি ঠিক করতে পারলে বাইরে থেকে টাকা নেয়ার প্রয়োজন হবে না।’

বৈঠকে উপস্থিত ব্যাংকারদের কাছে প্রশ্ন রেখে গভর্নর বলেন, ‘সুদহার বাড়ানোর পরও কেন আমানত প্রবৃদ্ধি পাচ্ছে না? খেলাপি ঋণের সমাধান করতে হলেও আমানত বাড়াতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাকে ব্যবসায়ীরা ঋণের সুদহার কমানোর জন্য চাপ দেবে, আর আমি কমিয়ে দেব? অবশ্যই না। মূল্যস্ফীতি কমলে, বাজারভিত্তিক ব্যাংকের ঋণ কমলে তখন আমি নীতিসুদহার কমিয়ে দেব। এটা একদম পরিষ্কার। যতক্ষণ মূল্যস্ফীতি কমবে না, ততক্ষণ মুদ্রানীতি টাইট (কঠোর) থাকবে।’

দুর্বল ব্যাংকগুলোর ঘুরে দাঁড়াতে ৫ থেকে ১০ বছর সময় লাগতে পারে বলে জানান গভর্নর। তিনি বলেন, ‘‌প্রতিদিনই আমরা দুর্বল ব্যাংকগুলোর ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে বসছি, তাদের কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের পর্যাপ্ত তারল্য সহায়তা দিয়েছে।’

ড. মনসুর বলেন, ‘আমরা জুলাইয়ের মধ্যেই ব্যাংকিং রেজল্যুশন অ্যাক্ট করে ফেলতে পারব। জুলাই-আগস্টের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গঠনগত সংস্কারের কাজও গুছিয়ে নিয়ে আসব। ব্যাংক খাতে সংস্কারের শুরুটা করে দিয়ে যাব, বাকিটা নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকারের প্রচেষ্টার ওপর নির্ভর করবে।’

বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত পাওয়ার বিষয়ে গভর্নর বলেন, ‘আমরা কেবল আশা করতে পারি যে বাংলাদেশে কিছু রায় পাব এবং বিদেশে কিছু সম্পত্তি আটকানো সম্ভব হবে। অর্থ ফেরত আনা দীর্ঘ প্রক্রিয়া, তবে আশা শেষ হয়ে যায়নি।’

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৪:১৯ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ০৫ মার্চ ২০২৫

bankbimarkhobor.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

[abm_bangladesh_map]
advertisement
advertisement
advertisement
সম্পাদক
মোঃ ইসলাম শেখ
কার্যালয়

৭৯, সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোড, (৩য় তলা, বাম দিক), সিদ্ধেশ্বরী, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭

01760742336

bankbimarkhobor@gmail.com