| সোমবার, ১০ মার্চ ২০২৫ | প্রিন্ট | 50 বার পঠিত
আজিজ খান ও তার পরিবারের ১৯১ ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ
দুর্নীতির অভিযোগে সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আজিজ খান ও তার পরিবারের ১৯১টি ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক আলমগীর হোসেনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. জাকির হোসেন এ আদেশ দেন।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, মুহাম্মদ আজিজ খান ও তার পরিবারের সদস্য মুহাম্মদ ফয়সাল করিম খান, আঞ্জুমান আজিজ খান, আয়শা আজিজ খান, আদিবা আজিজ খান, আজিজা আজিজ খান, জাফর উদ্দিন খান, মুহাম্মদ লতিফ খান, মুহাম্মদ ফরিদ খান, সালমান খান ও মুহাম্মদ ফারুক খানের ১৯১টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। এসব ব্যাংক হিসাবে গত বছরের ৬ অক্টোবর পর্যন্ত ৪১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা জমা থাকার তথ্য জানিয়েছে দুদক।
দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর আদালতে দুদকের পক্ষে আবেদন উপস্থাপন করেন। আবেদনে দুদক উল্লেখ করেছে, সামিট গ্রুপ ও তাদের অধীন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ঘুস ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগের তদন্ত চলছে। তদন্তে দেখা গেছে, আজিজ খান ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা ব্যাংক হিসাবগুলোয় বিপুল পরিমাণ অর্থ রয়েছে, যা অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক।
দুদক আরো জানায়, এ অর্থ যেকোনো সময় তুলে ফেলা বা বিদেশে পাচারের আশঙ্কা রয়েছে। তাই অর্থপাচার বা লুকানোর সম্ভাবনা রোধে আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। আদালতের এ আদেশের পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি এ অর্থের প্রকৃত উৎস খুঁজে বের করতে এবং অন্যান্য সম্পদের বিষয়ে তদন্ত চলমান থাকবে। দুদক এ বিষয়ে আরো কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার পরিকল্পনা করছে, যাতে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ গোপন বা বিদেশে পাচার করতে না পারে।
বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) আজিজ খান ও তার পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাবের তথ্য সংগ্রহ করে এবং গত বছরের ৭ অক্টোবর ব্যাংকগুলোকে সব হিসাব জব্দের নির্দেশ দিয়েছিল।
আজিজ খান গোপালগঞ্জ-১ আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) ফারুক খানের ভাই। বাংলাদেশের অন্যতম প্রভাবশালী এ ব্যবসায়ী সিঙ্গাপুরের শীর্ষ ৫০ ব্যবসায়ীর একজন হিসেবে পরিচিত।
গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। এরপর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতা ও দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়।
Posted ৪:৪৮ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ১০ মার্চ ২০২৫
bankbimarkhobor.com | Mr. Islam