শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের কারণেই সিটি ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড দেশসেরা

  |   বৃহস্পতিবার, ১৩ মার্চ ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   87 বার পঠিত

স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের কারণেই সিটি ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড দেশসেরা

স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের কারণেই সিটি ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড দেশসেরা

এবারের রমজান ও ঈদে সিটি ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডে চমক কী?

প্রতি রমজানে সিটি ব্যাংক তার কার্ডের অফারে স্বকীয়তার দিক দিয়ে যেমন চমক রাখে, ঠিক তেমনই এ রমজান ও ঈদ উপলক্ষে গ্রোসারি এবং নতুন জামা-কাপড়সহ সব কেনাকাটায় ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীদের জন্য দারুণ সব অফার রেখেছে। এবার আমরা এ অফারগুলো শুধু ঢাকায় সীমাবদ্ধ না রেখে সারা দেশে বিস্তৃত করেছি, যার মধ্যে আছে ৫০০-এর বেশি মার্চেন্ট এবং ৩ হাজার ৩০০-এর বেশি দোকান বা আউটলেট।

এবারের ঈদ ক্যাম্পেইনে আমরা প্রধান যে অফারগুলো দিচ্ছি তা হলো দেশের শীর্ষস্থানীয় লাইফস্টাইল ও গ্রোসারি আউটলেটে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ক্যাশব্যাক। ৪৫০টিরও বেশি রিটেইল স্টোরে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ডিসকাউন্ট, যা সারা দেশে বিস্তৃত। ১০০টিরও বেশি রেস্টুরেন্টে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ডিসকাউন্ট। বিভিন্ন জনপ্রিয় অনলাইন মার্চেন্ট ও ফুড ডেলিভারিতে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ডিসকাউন্ট। ৪০টিরও বেশি রেস্টুরেন্টে রয়েছে বাই ওয়ান গেট ওয়ান (BOGO) ইফতার ও ডিনার অফার, যার মধ্যে পাঁচ তারকা হোটেলগুলোয় অভিজাত ডাইনিংও রয়েছে।

গত এক বছর ক্রেডিট কার্ডের বাজার কেমন ছিল?

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী গত এক বছরে ক্রেডিট কার্ডের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ২ লাখ ৭৬ হাজার। আর ক্রেডিট কার্ডে ঋণ স্থিতি বেড়েছে ১ হাজার ৩৭৫ কোটি টাকা। দেশে ক্রেডিট কার্ডের বার্ষিক বিলিং নিয়ে যদি বলেন, তাহলে তা ৩১ হাজার ৭৫৪ কোটি থেকে বেড়ে ৩৫ হাজার ৯৯৪ কোটি টাকা হয়েছে, এক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩ শতাংশ। সার্বিক বিচারে বলা যায়, গত বছর ক্রেডিট কার্ডের বাজার বেশ ভালোই ছিল। তবে এ ভালোয় আমরা সন্তুষ্ট নই; আমাদের প্রত্যাশা আরো বেশি।

ক্রেডিট কার্ডের বাজার সম্প্রসারণে বেশকিছু বাধার কথা বলে আসছিলেন। সেগুলোর কোনোটির সমাধান হলো কি?

ক্রেডিট কার্ডের বাজার সম্প্রসারণে সবচেয়ে বড় বাধা হলো পিএসআর বা আয়কর দেয়ার প্রমাণপত্র জমাদানের বাধ্যবাধকতা। ২০২২ জুলাই থেকে এ নিয়ম মেনে চলতে হচ্ছে, ফলে এ খাতে আমরা আশানুরূপ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারছি না। সম্প্রতি এনবিআরের চেয়ারম্যান মহোদয় এ ব্যাপারে আশার বাণী শুনিয়েছেন। আশা করছি শিগগিরই আমরা এ বিষয়ে একটি সমাধান পাব। বিষয়টা এনবিআর পুরো উঠিয়ে দিলে সবচেয়ে ভালো। তা যদি তারা না উঠান তো অন্তত আমাদের প্রত্যাশা যে সাধারণ ঋণের মতো ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ক্রেডিট কার্ডের লিমিটের ক্ষেত্রে এ রিটার্ন জমাদানের বাধ্যবাধকতা উঠে যাক। একইভাবে আনসিকিউরড ক্রেডিট কার্ডের লিমিট যেন ১০ লাখ থেকে ২০ লাখে উন্নীত করা হয়। ছাত্র ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য ক্রেডিট কার্ড প্রদানের নীতিমালা এভাবেই আরো সহজ করা দরকার, যাতে বাজারে ক্রেডিট কার্ডের সংখ্যা এক থেকে দেড় কোটিতে পোঁছানো যায়। এছাড়া করপোরেট ক্রেডিট কার্ডের জন্যও আমরা সুনির্দিষ্ট আলাদা নীতিমালা আশা করি।

অনিয়ম-দুর্নীতির লাগাম টানতে সরকার ক্যাশলেস সোসাইটির কথা বলে আসছে। কিন্তু ক্যাশলেস সোসাইটি গড়ে তোলার কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখছেন কি?

শতভাগ ক্যাশলেস সোসাইটি গড়তে পারলে মানুষের লুক্কায়িত অর্থ আর লুক্কায়িত থাকবে না। পুরো দেশের সার্বিক অর্থনীতির একটা সঠিক ধারণা উন্মোচন থাকবে, যা সঠিক রাজস্ব আদায়কেও সহজতর করবে। বাংলাদেশ ব্যাংক ‘‌ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ প্রকল্পে কিউআর সম্প্রসারণ ও ক্যাশলেস পেমেন্টকে উৎসাহিত করার জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং এমএফএস কোম্পানিগুলোর সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে, যাতে সিটি ব্যাংক শুরু থেকেই সক্রিয় অংশগ্রহণ করে আসছে। যথাযথ পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোতে পারলে আশা করা যাচ্ছে ২০২৭-এর মধ্যে ৫০ শতাংশের অধিক লেনদেন ক্যাশলেস করা সম্ভব হবে।

wef

ক্যাশলেস সোসাইটি গড়ে তুলতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া দরকার বলে মনে করেন?

নতুন কিছু এলে সেটা গ্রহণ করতে মানুষের কিছুটা সময় লাগে। ক্যাশলেস লেনদেন মার্চেন্ট ও গ্রাহক দুয়ের জন্যই নতুন মাধ্যম, তাই এ সোসাইটি গড়ে তুলতে হলে সর্বক্ষেত্রে আস্তে আস্তে অনেক কিছুকে বাধ্যতামূলক করে তুলতে হবে। ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে নগদ লেনদেন কমানোর ক্ষেত্রে ক্রেডিট কার্ড একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বর্তমানে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীর সংখ্যা মাত্র ২৬ লাখ হলেও তারা কার্ডের মাধ্যমে তাদের মোট কেনাকাটার প্রায় ৫০ শতাংশ সম্পন্ন করে। তাই একটি ক্যাশলেস সোসাইটি গড়ে তোলার জন্য ক্রেডিট কার্ড ইস্যু করার প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে। POS পিওএস মেশিন আমদানির ওপরে ট্যাক্স কমিয়ে একে আরো জনপ্রিয় করা যায়। বাংলা কিউআর কেন জনপ্রিয় হয়নি, তা আমাদের বোঝা দরকার। যাতায়াত ব্যবস্থায় ডিজিটাল লেনদেন কোথায়? কেন ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে আমি ক্যাশে পেমেন্ট করি? দেশে ফোনের মধ্যে বসানো ভার্চু়য়াল কার্ড আরো ভালোভাবে আসতে হবে। মাত্র দুই-তিনটা ব্যাংকের এ সুবিধা আছে। সব পেমেন্ট, স্কুল বা হাসপাতাল বিলসহ সবকিছুকে বাধ্যতামূলকভাবে ডিজিটাল করতে হবে।

সিটি ব্যাংক কীভাবে ক্রেডিট কার্ডের মার্কেট লিডার হলো?

দেশের ক্রেডিট কার্ড বাজারে মোট ক্রেডিট কার্ডের প্রায় ২৫ শতাংশ সিটি ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড। আর দোকানে কার্ড অ‍্যাকুয়ারিংয়ের ১৭ ভাগ আমরা। আমাদের এ মার্কেট লিডার হওয়ার পেছনে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে আমেরিকান এক্সপ্রেসের সঙ্গে সিটি ব্যাংকের সম্পৃক্ততা। আমরাই দেশের একমাত্র ব্যাংক যারা আমেরিকান এক্সপ্রেস কার্ড ইস্যু এবং অ্যাকুয়ার করতে পারি। এছাড়া গ্রাহক চাহিদাকে অগ্রাধিকার দেয়া, বেস্ট ইন ক্লাস কাস্টমার সার্ভিস ও লয়্যাল্টি প্রোগ্রাম, কম্পিটিটিভ ভ্যালু পিলার, বিস্তৃত মার্চেন্ট নেটওয়ার্ক, সর্বাধিক কাস্টমার টাচপয়েন্ট, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও সমসাময়িক প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে স্থাপিত দেশের প্রথম ব্যাংক চালিত লাউঞ্জ, স্টেট অব দি আর্ট সিটিটাচ ইন্টারনেট ব্যাংকিং অ্যাপ, সুদক্ষ সেলস টিম, ব্র্যান্ড ভ্যালু এবং সবচেয়ে বড় কথা গ্রাহক সন্তুষ্টি আমাদের এগিয়ে নিতে সহায়তা করেছে।

বর্তমানে গ্রাহককে কয় ধরনের ক্রেডিট কার্ড দিচ্ছেন?

আমরা যেহেতু আমেরিকান এক্সপ্রেসের (অ্যামেক্স) একমাত্র লাইসেন্স প্রাপ্ত ব্যাংক, তাই আমাদের প্রডাক্ট অফারিংয়ের সবচেয়ে বড় অংশই হলো এ নেটওয়ার্কে। অ্যামেক্স সেঞ্চুরিয়ন লাইনে আমাদের ধনী সব গ্রাহকের জন্য রয়েছে অ্যামেক্স প্লাটিনাম কার্ড, এরপর সুপার ফ্লুয়েন্ট গ্রুপের জন্য রয়েছে অ্যামেক্স গোল্ড কার্ড, আর আপার মাচ সেগমেন্টের জন্য রয়েছে অ্যামেক্স ব্লু কার্ড। অ্যামেক্স সেঞ্চুরিয়ন বাদে আমাদের অ্যামেক্স ব্লু বক্স লাইনে আছে নারীদের জন্য স্পেশালাইজড কার্ড সিটি আলো অ্যামেক্স কার্ড, গ্রোসারি শপারদের জন্য অ্যামেক্স আগোরা কোব্রান্ড কার্ড, ফ্রিকোয়েন্ট ফ্লাইয়ারদের জন্য বিমান অ্যামেক্স কোব্রান্ড কার্ড এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই ও শিক্ষকদের জন্য ঢাবি অ্যামেক্স কোব্রান্ড কার্ড। আর ভিসা নেটওয়ার্কে আমাদের রয়েছে ভিসা ইনফিনিট ও ভিসা প্লাটিনাম ক্রেডিট কার্ড। ভিসা ইনফিনিট ক্রেডিট কার্ডটি আমরা গত বছর সুপার ফ্লুয়েন্ট গ্রাহকদের জন্য সংযোজন করেছি।

সিটি ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যগুলো কী?

আমাদের কার্ডের একটি প্রধান বৈশিষ্ট হলো প্রডাক্ট ও সেগমেন্টের যথাযথ ম্যাচিং। প্রত্যেকটি সেগমেন্টের ইউনিক চাহিদাকে বিবেচনা করে আমাদের প্রডাক্টগুলো ডিজাইন করা। আমরা হিসাব করে দেখেছি যে যথাযথভাবে ব্যবহার করলে আমাদের প্রত্যেকটি ক্রেডিট কার্ডের গ্রাহক যে অ্যানুয়াল ফি প্রদান করেন, তার থেকে বছরে চার-পাঁচ গুণ বেশি বেনিফিট অর্জন করতে পারেন। আমাদের কার্ডের দেশসেরা গ্রাহকসেবার মানের কথা বলতেই হয়, যার কারণে আমাদের নেট প্রোমোটার স্কোর (এনপিএস) ঈর্ষণীয় মাত্রায় রয়েছে। জেনে অবাক হবেন, শুধু কার্ডের সেবা দেয়ার জন্যই আমাদের রয়েছে ছয়টি সার্ভিস সেন্টার, যা দেশের অন্য কোনো ব্যাংকের নেই। এর বাইরে দেশব্যাপী ২৮টি শাখায় রয়েছে আমাদের ডেডিকেটেড কার্ড অ্যাম্বাসেডর এবং বিশ্বমানের তিনটি এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ। মূলত এসব বৈশিষ্ট্যের কারণেই আমরা ক্রেডিট কার্ডে শীর্ষস্থানে থাকতে সক্ষম হয়েছি।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৪:২৬ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৩ মার্চ ২০২৫

bankbimarkhobor.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

[abm_bangladesh_map]
advertisement
advertisement
advertisement
সম্পাদক
মোঃ ইসলাম শেখ
কার্যালয়

৭৯, সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোড, (৩য় তলা, বাম দিক), সিদ্ধেশ্বরী, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭

01760742336

bankbimarkhobor@gmail.com