| বৃহস্পতিবার, ১৩ মার্চ ২০২৫ | প্রিন্ট | 104 বার পঠিত
১০ হাজারের বেশি মার্চেন্ট ও ই-কমার্স প্লাটফর্মে ৫০% পর্যন্ত ছাড় মিলছে ঢাকা ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডে
গ্রাহক কোন কোন সুবিধার জন্য ঢাকা ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড নিচ্ছেন?
আমাদের সবক’টি ক্রেডিট কার্ড কন্টাক্টলেস ও ডুয়াল কারেন্সির। কার্ড প্রচলনে আমরা সর্বাধিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করি। বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ক্যাশব্যাক ও ডিসকাউন্ট অফার প্রদান করি, যা গ্রাহকের জন্য আকর্ষণীয়। আমরা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ক্যাশব্যাক ও ডিসকাউন্ট অফার প্রদান করি, যা গ্রাহকের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয়। প্রতি লেনদেনে রিওয়ার্ড পয়েন্ট অর্জনের সুযোগ রয়েছে, যা পরে ক্যাশব্যাক হিসেবে রিডিম করা যায়। আমাদের ক্রেডিট কার্ডের অন্যতম সুবিধা হলো কম বা শূন্য বার্ষিক ফি। সহজ ও দ্রুত অনলাইনে আবেদন করার সুযোগ থাকায় গ্রাহক খুব অল্প সময়ের মধ্যেই কার্ড পেয়ে যান। এছাড়া ২৪/৭ কাস্টমার কেয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে যেকোনো অভিযোগ বা সমস্যার দ্রুত সমাধান করা সম্ভব। আমাদের মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে গ্রাহক সহজেই কার্ড-সংক্রান্ত তথ্য ও লেনদেনের বিবরণ পেতে পারেন। আমরা বিভিন্ন উৎসব ও ঋতুভিত্তিক বিশেষ অফার ও প্রচার চালু রাখি। জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ও মার্চেন্টদের সঙ্গে পার্টনারশিপের মাধ্যমে বিশেষ ছাড় ও অফার দেয়া হয়। আগে থেকেই বাজারে ঢাকা ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডের চাহিদা বেশ ভালো। কয়েক বছর ধরে এ চাহিদা ক্রমাগত বেড়েছে।
সম্প্রতি, আমরা বিভিন্ন সামাজিক ক্লাব, অ্যাসোসিয়েশন, মাল্টিন্যাশনাল ও স্থানীয় কোম্পানির সঙ্গে কো-ব্র্যান্ডেড ক্রেডিট কার্ড চালু করেছি। আমাদের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে বিশ্বব্যাপী ১ হাজার ৫০০-এর বেশি এয়ারপোর্ট লাউঞ্জে প্রবেশের সুবিধা রয়েছে। নতুন গ্রাহক আকৃষ্ট করতে আমরা প্রিন্ট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারমূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। গ্রাহকের আস্থা ও বিশ্বাসের কারণে আমাদের কার্ডের চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে। আমরা নিয়মিত আমাদের সেবা ও সুবিধার উন্নতি করছি, যাতে গ্রাহকের প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব হয়।
গ্রাহকের জন্য আপনাদের কত ধরনের ক্রেডিট কার্ড রয়েছে?
আমরা গ্রাহকের বিভিন্ন চাহিদা ও ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী একাধিক ধরনের ক্রেডিট কার্ড অফার করি। আমাদের ক্রেডিট কার্ডগুলো ভিসা ও মাস্টারকার্ড ব্র্যান্ডের অধীনে ইস্যু করা হয়। এসব কার্ড বিভিন্ন সেগমেন্টের গ্রাহকের জন্য একাধিক সিরিজে ইস্যু করা হয়। আমাদের ইস্যুকৃত কার্ডগুলোর মধ্যে রয়েছে ভিসা গোল্ড, ভিসা প্লাটিনাম/মাস্টারকার্ড টাইটানিয়াম, অরনি মাস্টারকার্ড টাইনানিয়াম, ভিসা ইসলামিক তায়্যিবাহ প্লাটিনাম/মাস্টারকার্ড ইসলামিক তায়্যিবাহ টাইটানিয়াম এবং ভিসা সিগনেচার/মাস্টারকার্ড ওয়ার্ল্ড। ঢাকা ব্যাংকের ১০টিরও বেশি কো-ব্র্যান্ডেড পার্টনার রয়েছে, যাদের জন্য বিশেষভাবে কাস্টমাইজড কার্ড ইস্যু করা হয়। আমাদের প্রধান কো-ব্র্যান্ডেড পার্টনাররা হলো গ্রামীণফোন, আইসিএবি, গ্রিন ডেল্টা, সিমেন্স হেলথিনিয়ার্স, গুলশান ক্লাব, ঢাকা ক্লাব, উত্তরা ক্লাব, আইসিএমএবি ও বিআইপি, উইগ্রো, সিনজেনটাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। আমাদের সব ক্রেডিট কার্ড ডুয়াল কারেন্সি সক্ষম, যা আন্তর্জাতিক লেনদেনে ব্যবহার করা যায়। এসব কার্ড ট্রাভেল কোটা, গ্রাহকের ইআরকিউ বা আরএফসিডি অ্যাকাউন্টের বিপরীতে ইস্যু করা হয়। প্রতিটি কার্ডের নিজস্ব বিশেষ সুবিধা ও বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা গ্রাহকের বিভিন্ন চাহিদা অনুযায়ী সেবা প্রদান করে।
ঢাকা ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডকে আরো জনপ্রিয় করতে কী ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছেন?
আমরা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের জনপ্রিয়তা বাড়াতে বেশকিছু কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছি। যেমন ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের সুবিধা মোবাইল ব্যাংকিং ও ই-কমার্স প্লাটফর্মে আরো সহজ ও বিস্তৃত করা হয়েছে। বিভিন্ন খাতে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করলে ক্যাশব্যাক ও ডিসকাউন্ট সুবিধা দেয়া হচ্ছে। নির্দিষ্ট দোকান ও অনলাইন শপে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে কিস্তিতে কেনাকাটার সুবিধা দেয়া হচ্ছে। নতুন ক্রেডিট কার্ড ইস্যু করা এবং ব্যবহারের শর্তগুলো আরো সহজ করা হয়েছে। গ্রাহকের জন্য নিরাপদ ও সঠিক ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের ওপর সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হচ্ছে। সহজ শর্তে ও দ্রুত অনুমোদন প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে, পাশাপাশি উন্নত সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করে গ্রাহকের আস্থা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এছাড়া সারা বছর নতুন নতুন কার্ড ইস্যু ও ব্যবহারে উৎসাহিত করার জন্য স্কিম পার্টনার ছাড়াও নিজস্ব ক্যাম্পেইন চালু করে কার্ডের আওতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নতুন সেবা ও প্রডাক্ট চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। আগামীতে পেমেন্ট গেটওয়ে, পিওএস ও কিউআর কোডের মাধ্যমে মার্চেন্ট অ্যাকুয়ারিং ব্যবসা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কাজ করছি। আমরা বিশ্বাস করি, এসব পদক্ষেপ ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের পরিধি ও জনপ্রিয়তা বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখবে।
পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গ্রাহকের জন্য কী ধরনের অফার দিচ্ছেন?
পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আমরা আমাদের কার্ড গ্রাহকের জন্য বিশেষ অফার ও বিভিন্ন সুবিধা চালু করছি। এ সময়ে গ্রাহকের জন্য আকর্ষণীয় অফারগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকা ব্যাংক গ্রাহক লাইফস্টাইল, ইলেকট্রনিকস, ফার্নিচার, গ্রোসারি, ট্রাভেল, গ্রুমিং, ডাইনিংসহ ১০ হাজারের বেশি মার্চেন্টে এবং বিভিন্ন ই-কমার্স প্লাটফর্মের মাধ্যমে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ডিসকাউন্ট পাচ্ছে। দেশের গ্রাহক স্বনামধন্য রেস্টুরেন্টে ইফতার ও ডিনার এবং সাহরিতে বাই ওয়ান, গেট আপ টু ফোর পর্যন্ত সুবিধা পাচ্ছেন। ২০ শতাংশ পর্যন্ত ক্যাশব্যাক পাওয়া যাচ্ছে আড়ং, অ্যাপেক্স, বাটা, এক্সটেসি, ক্যাটস আই, রিচম্যান, আর্টিসান, ইউনিমার্ট, মিনাবাজার, স্বপ্ন, আগোরা, ল্যাভেন্ডারসহ নির্ধারিত আউটলেটে। এছাড়া অনলাইনে দারাজ, ফুডপান্ডা, পাঠাও ও চালডাল ডটকমের মাধ্যমে কেনাকাটায়ও সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ ক্যাশব্যাক দেয়া হচ্ছে। নির্দিষ্ট দোকান ও অনলাইন শপে ক্রেডিট কার্ডে ঈদ কেনাকাটায় পাওয়া যাচ্ছে ৩-২৪ মাসে শূন্য শতাংশ ইএমআই সুবিধা। এছাড়া গ্রাহক ক্রেডিট কার্ডের লিমিটের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত সহজ শর্তে ঋণ নিতে পারছে। আমাদের গ্রাহকের ঈদ হোক আরো আনন্দময়—ঢাকা ব্যাংক ক্রেডিট কার্ডের সঙ্গে!
দুই বছর ধরেই দেশে ব্যাংক ঋণের সুদহার বাড়ছে। সুদহার বৃদ্ধির বিরূপ প্রভাব ক্রেডিট কার্ডের বাজারে কেমন পড়েছে?
উচ্চ সুদহারের ফলে ক্রেডিট কার্ড ঋণের খরচ বেড়ে যায়, যা মাসিক মিনিমাম পেমেন্টের পরিমাণ বৃদ্ধি করে এবং গ্রাহকের বাজেটে চাপ সৃষ্টি করে। বেশি সুদের কারণে গ্রাহক কম পণ্য ও সেবা কিনছেন, যা ক্রেডিট কার্ডের লেনদেন কমিয়ে দিচ্ছে। আবার ঋণ নেয়ার পরিবর্তে অনেক গ্রাহক সঞ্চয়কে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন, ফলে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার কমছে। উচ্চ সুদের কারণে কিছু গ্রাহক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হচ্ছেন, ফলে ডিফল্ট রেট বাড়ছে এবং ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ডিফল্ট ঝুঁকি মোকাবেলায় ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা কৌশল গ্রহণ করতে হচ্ছে, যা তাদের খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। উচ্চ সুদের কারণে নতুন গ্রাহক আকর্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে, যা বাজার সম্প্রসারণকে সীমিত করছে। গ্রাহক সুদের বোঝা এড়াতে ক্রেডিট কার্ডের পরিবর্তে ডেবিট কার্ড, মোবাইল পেমেন্ট বা অন্যান্য পেমেন্ট মাধ্যমের দিকে ঝুঁকছেন। এ প্রভাবগুলোর ফলে ক্রেডিট কার্ডের বাজার সংকটের মুখে পড়তে পারে ও ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন কৌশল গ্রহণ করা জরুরি হয়ে উঠছে।
বাংলাদেশের মানুষ এখনো নগদ লেনদেনে বেশি অভ্যস্ত। এ অভ্যাস পরিবর্তন করা যায় কীভাবে?
বাংলাদেশের বর্তমান জিডিপি ৫০ লাখ কোটি টাকা, যার মধ্যে ভোগ্য ব্যয় ৭০ শতাংশ হলেও ক্যাশলেস লেনদেন মাত্র ২.৫-৩ শতাংশ। আশার কথা হলো দেশে ক্যাশলেস লেনদেন বাড়ছে, কিন্তু সেই সঙ্গে নগদ লেনদেনও বেড়ে যাচ্ছে। এমএফএস, ডেবিট কার্ড ও অন্যান্য পেমেন্ট প্লাটফর্মের পাশাপাশি ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের হার বাড়ানো হলে নগদনির্ভরতা কমতে পারে। দেশে চার কোটি ডেবিট কার্ডধারীর অধিকাংশ এটিএম থেকে নগদ টাকা উত্তোলনের জন্য এটি ব্যবহার করেন। এত পরিমাণ ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে বছরে মাত্র ২২ হাজার কোটি টাকার লেনদেন পেমেন্ট ও ই-কমার্সে হয়। অন্যদিকে ২৬ লাখ ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে বছরে ৩১ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়, যা ক্যাশলেস লেনদেন বৃদ্ধির সম্ভাবনা নির্দেশ করে।
এ অভ্যাস পরিবর্তনের জন্য বিভিন্নমুখী পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে। যেমন মিডিয়া, সামাজিক প্লাটফর্ম এবং শিক্ষামূলক প্রচারণার মাধ্যমে ডিজিটাল পেমেন্টের সুবিধা ও নিরাপত্তা সম্পর্কে জানানো। গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যাংকিং ও ডিজিটাল পেমেন্ট সেবার প্রসার ঘটানো। ক্যাশব্যাক, ডিসকাউন্ট ও রিওয়ার্ড পয়েন্টের মাধ্যমে ক্যাশলেস লেনদেন উৎসাহিত করা। পিওএস, কিউআর কোড, টোকেনাইজেশন ও অনলাইন পেমেন্ট সহজ ও বিস্তৃত করা। সাইবার নিরাপত্তা ও ফ্রড প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করা। সরকারি লেনদেন (ভ্যাট, ট্যাক্স, ট্রানজিট পেমেন্ট) বাধ্যতামূলকভাবে ডিজিটাল করা এবং নীতিগত সহায়তা দেয়া। সামগ্রিকভাবে নগদ লেনদেনের অভ্যাস পরিবর্তন এবং ডিজিটাল চ্যানেলের ব্যবহার বৃদ্ধির জন্য সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। সচেতনতা, প্রণোদনা, নিরাপত্তা ও সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশের মানুষ নগদবিহীন তথা ডিজিটাল লেনদেনে আগ্রহী হয়ে উঠবেন।
Posted ৪:২৮ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৩ মার্চ ২০২৫
bankbimarkhobor.com | Mr. Islam