| বৃহস্পতিবার, ১৩ মার্চ ২০২৫ | প্রিন্ট | 117 বার পঠিত
সব গ্রাহকের জন্য প্রাইম ব্যাংকের রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন ক্রেডিট কার্ড
বাজারে আপনাদের ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডের চাহিদা কেমন?
বাজারে প্রাইম ব্যাংকের কার্ডের চাহিদা উত্তরোত্তর বাড়ছে। তিন বছরে আমাদের ব্যাংকের কার্ডের ব্যবহার আড়াই গুণ বেড়েছে, যা ব্যাংকের ওপর গ্রাহকের আস্থা ও ডিজিটাল পেমেন্ট বৃদ্ধির প্রতিফলন। এখন অনেক গ্রাহকই আমাদের কার্ড ব্যবহারে আগ্রহী। এটি আমাদের কার্ডের সহজলভ্যতা, নিরাপত্তা ও সুবিধার প্রতিফলন। কয়েক বছরের মধ্যে শীর্ষস্থানীয় কার্ড ইস্যুকারী ব্যাংকগুলোর মধ্যে নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করার জন্য আমরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছি।
প্রাইম ব্যাংকের কর্মীরা কার্ড প্রদানের পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের ক্যাশলেস অর্থনীতি নিশ্চিত করতে একাগ্রচিত্তে কাজ করে যাচ্ছে। দৈনন্দিন অর্থনৈতিক কার্যক্রমে ক্যাশলেস লেনদেন এবং ডিজিটাল চ্যানেলের ব্যবহার নিশ্চিতকরণে আমরা প্রতিনিয়ত শিক্ষামূলক প্রচারসহ নানাবিধ উদ্যোগ গ্রহণ করে যাচ্ছি। আর্থিক স্বাক্ষরতা ও ডিজিটাল চ্যানেল ব্যবহার প্রসারণের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশ সরকারের ক্যাশলেস অর্থনীতি বাস্তবায়নে অবদান রাখতে বদ্ধপরিকর।
গ্রাহকের জন্য আপনাদের কয় ধরনের ক্রেডিট কার্ড আছে?
গ্রাহকের সর্বজনীন বিভিন্ন আর্থিক চাহিদা পূরণে আমাদের সব গ্রাহকের জন্য রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন রকমের ক্রেডিট কার্ড। পাশপাশি ইসলামী ব্যাংকিং গ্রাহকদের জন্যও রয়েছে আকর্ষণীয় ক্রেডিট কার্ড সুবিধা। আমাদের আছে বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্য জেসিবি, মাস্টারকার্ড এবং ভিসা ব্র্যান্ডের ওয়ার্ল্ড, প্লাটিনাম, গোল্ড ও ক্ল্যাসিক কার্ড, যা ব্যবহার করে আমাদের গ্রাহক বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নগদ উত্তোলন এবং কেনাকাটা করতে সক্ষম হচ্ছেন। গ্রাহকের চাহিদার কথা বিবেচনায় নিয়ে আমরা নিত্যনতুন ক্রেডিট কার্ড সেবা গ্রাহককে প্রদানের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।
কেন গ্রাহক অন্যদের কার্ড ব্যবহার না করে আপনাদেরটি ব্যবহার করবেন?
গ্রাহকের চাহিদার কথা মাথায় রেখে আমরা আমাদের ক্রেডিট কার্ডে বিভিন্ন সুবিধা দিচ্ছি। এর মধ্যে বেশকিছু স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা বাজারে অন্যদের থেকে আমাদের কার্ডকে আলাদা করেছে। আমাদের কার্ড গ্রাহক ক্রেডিট কার্ডের বিল পরিশোধে সর্বোচ্চ ৫০ দিন পর্যন্ত সুদমুক্ত সময় পেয়ে থাকেন। কার্ডের বার্ষিক ফি মওকুফের ক্ষেত্রে আমরা মাত্র ১৫টি লেনদেনের মাধ্যমেই আমাদের গ্রাহককে বার্ষিক ফি মওকুফের সুবিধা দিচ্ছি, যা তাদের কাছে আমাদের ক্রেডিট কার্ডগুলোকে আরো সাশ্রয়ী করে তুলেছে।
মাইপ্রাইমের মাধ্যমে ক্রেডিট কার্ড থেকে যেকোনো অ্যাকাউন্টে ফান্ড ট্রান্সফার করা যায় নিমিষেই। এক্ষেত্রেও আমরা সুদমুক্ত সময়সীমার সুবিধা নিশ্চিত করি। কোনো প্রকার অতিরিক্ত চার্জ ছাড়াই ওয়ালেট ট্রান্সফার ও টপ আপ সুবিধা। কার্ডভেদে আমাদের গ্রাহক দেশে-বিদেশে ১ হাজার ৪০০-এর অধিক এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ সুবিধা উপভোগ করতে পারেন।
আপনাদের কার্ডকে আরো বেশি জনপ্রিয় করে তুলতে কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন?
গ্রাহকের ক্রমবর্ধমান চাহিদা, বাংলাদেশ সরকারের ডিজিটাল ও ক্যাশলেস অর্থনীতির লক্ষ্য বিবেচনা করে কার্ডের সংখ্যা বাড়াতে আমরা বেশকিছু কৌশলগত উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আমরা আবেদন প্রক্রিয়া সাবলীল ও সরলীকরণের দিকে মনোনিবেশ করছি। উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে আমরা আমাদের মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপ, ওয়েবসাইট ও অন্যান্য অনলাইন প্লাটফর্মের মাধ্যমে কার্ড অ্যাপ্লিকেশন থেকে শুরু করে ইস্যু করা পর্যন্ত একটি নিরবচ্ছিন্ন সেবা প্রদানে কাজ করে যাচ্ছি।
ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ গ্রাহকের কথা বিবেচনা করে আমরা আমাদের নির্বাচিত অ্যাকাউন্ট হোল্ডার ও ঋণগ্রহীতাদের জন্য বান্ডেল ক্রেডিট কার্ডসহ অন্যান্য অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা প্রদান করছি। এছাড়া এমএসএমই গ্রাহকের চাহিদার কথা বিবেচনা করে আনা হয়েছে ভিন্ন ধরনের ক্রেডিট কার্ড। আমাদের বিশ্বাস, এ কার্ডগুলো গ্রাহকের কার্ডের ব্যবহার বাড়াতে এবং সন্তুষ্টি অর্জনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। এছাড়া সর্বোচ্চ আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার জন্য আমরা প্রতিটি অ্যাকাউন্টের সঙ্গে ডেবিট কার্ড দিচ্ছি, যা গ্রাহকের ডিজিটাল লেনদেনের প্রতি আরো বেশি সক্ষম ও আগ্রহী করে তুলছে।
সমাজের সব শ্রেণীর লোকের জন্য ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিতকরণে আমরা করপোরেট প্রিপেইড কার্ড প্রদান করছি, বিশেষ করে সেসব গার্মেন্টস কর্মীদের, যারা নগদ অর্থে মজুরি পেয়ে আসছেন। গার্মেন্টস কারখানার সঙ্গে পার্টনারশিপের মাধ্যমে আমরা কর্মীদের সর্বজনীন ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসছি। এছাড়া যেসব অঞ্চলে সীমিত ব্যাংকিং সেবা বিদ্যমান, সেখানে আমাদের এজেন্ট ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক ডেবিট কার্ড ইস্যু এবং অন্যান্য ব্যাংকিং সেবা সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এজেন্ট ব্যাংকিং, দুর্গম অঞ্চলে আর্থিক সেবা প্রসারণের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত জনসাধারণকে ব্যাংকিং সেবা এবং ডিজিটাল পেমেন্টের আওতাভুক্ত করছে।
বাংলাদেশের মানুষ এখনো নগদ লেনদেনে বেশি অভ্যস্ত। এ অভ্যাস পরিবর্তন করা যায় কীভাবে?
বাংলাদেশে জনসংখ্যার অনুপাতে ডিজিটাল পেমেন্ট সুবিধা ব্যবহারকারীর সংখ্যা তুলনামূলক কম। প্রথমত, দেশজুড়ে কার্ডের (এটিএম, পিওএস) ব্যবহারে কাঠামোগত কিছু সীমাবদ্ধতা বিগত বছরগুলোয় বিদ্যমান ছিল। উপরন্তু, ক্রেডিট কার্ডের সুবিধা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে গ্রাহকের মধ্যে কিছু ভ্রান্ত ধারণা বিরাজ করত, ফলে ক্রেডিট কার্ডের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যহারে বাড়েনি।
সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন সময় উপযোগী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দেশজুড়ে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে। এ ব্যবস্থাপনায় বাংলা কিউআর ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) ভিত্তিক লেনদেন বিশেষ ভুমিকা রাখছে। এছাড়া সরকার ডিজিটাল চ্যানেলভিত্তিক লেনদেন উন্নয়নে ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ (এনপিএসবি) এবং ডিজিটাল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (ডিএফএস) পলিসির মতো অসংখ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এরই মধ্যে ব্যাংকগুলো অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তিকরণের লক্ষ্যে যোগ্যতার মানদণ্ডকে আরো উপযোগী করে তুলেছে। আমাদের বিশ্বাস শিগগিরই আমরা জনগণের মধ্যে ক্রেডিট কার্ডের নিরাপত্তা ও সুবিধার প্রতি আস্থা তৈরি করতে পারব।
পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গ্রাহককে কী ধরনের অফার দিচ্ছেন?
এ বিশেষ সময়ে গ্রাহকের চাহিদা মাথায় রেখে আমরা বিভিন্ন খাতে বিশেষ মূল্যছাড় ও ক্যাশব্যাক প্রদান করছি। ইফতার ও সেহরির জন্য শীর্ষস্থানীয় রেস্তোরাঁগুলোয় এক্সক্লুসিভ ডাইনিং অফারের পাশাপাশি রয়েছে বাই-ওয়ান-গেট-ওয়ান/টু/থ্রি সুবিধা। এছাড়া গ্রোসারি ও রিটেইল দোকানগুলোয় রয়েছে বিশেষ মূল্যছাড় এবং ক্যাশব্যাক।
আমাদের কার্ডহোল্ডারা যাতে ঈদের এ আনন্দঘন মুহূর্ত তাদের পরিবারের সঙ্গে উদযাপন করতে পারে, তাই প্রধান টিকিটিং প্লাটফর্মগুলোয় রয়েছে প্রাইম ব্যাংক কার্ডে এক্সক্লুসিভ ক্যাশব্যাক অফার। সামগ্রিকভাবে আমাদের ব্যাংক গ্রাহককে বিভিন্ন সুবিধা দেয়ার মাধ্যমে রমজান ও ঈদের এ উৎসবের অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা বিশ্বাস করি গ্রাহকের প্রয়োজনীয়তা অনুসারে সেবা প্রদানের মাধ্যমে আমরা গ্রাহকের সঙ্গে শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারব।
Posted ৪:২৯ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৩ মার্চ ২০২৫
bankbimarkhobor.com | Mr. Islam