| বৃহস্পতিবার, ১৩ মার্চ ২০২৫ | প্রিন্ট | 82 বার পঠিত
ক্রেডিট কার্ডধারীদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে মিডল্যান্ড ব্যাংক
বাংলাদেশের আর্থিক খাত ধীরে ধীরে ডিজিটাল পরিসরে প্রবেশ করছে। নগদ লেনদেনের প্রচলন কমিয়ে ক্যাশলেস অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় মিডল্যান্ড ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড ও ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থাকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলতে বিশেষ অফার ও নতুন প্রযুক্তির সংযোজন করছে।
ডিজিটাল পেমেন্টের অন্যতম মাধ্যম ক্রেডিট কার্ড হলেও দেশের মোট টিআইএনধারী লোকের সংখ্যার তুলনায় ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীর সংখ্যা অনেক কম। এর অন্যতম কারণ ক্রেডিট কার্ড সম্পর্কে মানুষের পরিপূর্ণ ধারণা না থাকা। আর্থিক সচেতনতার অভাবও ক্রেডিট কার্ডধারীর সংখ্যা কম হওয়ার আরেকটি কারণ। একই সঙ্গে সাধারণ ঋণের সুদহারের চেয়ে ক্রেডিট কার্ডে ঋণের সুদহার বেশি। এটি কমলেও হয়তো ক্রেডিট কার্ডধারীর সংখ্যা বাড়তে পারে। ক্রেডিট কার্ডধারীর সংখ্যা বাড়াতেও নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে মিডল্যান্ড ব্যাংক।
তবে সুদহার কমলে ব্যবহার বাড়বে কিনা, তা গ্রাহকের আচরণ এবং ব্যাংকের গ্রাহক সেবা কীভাবে সংশোধন করে তার ওপর নির্ভর করে। কারণ অতীতে দেখা গেছে, যখন সুদহার বাড়ানো হয়েছে, তখন ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার কমেনি বরং বেড়েছে। মূলত, ক্রেডিট কার্ডের ব্যবসায় তুলনামূলক ঝুঁকি বেশি, কারণ এটি সহজে পাওয়া যায় এবং এজন্য ঝুঁকি প্রিমিয়াম বেশি ধরা হয়। অন্যদিকে ক্রেডিট কার্ডে ছোট ছোট অনেক আয়ের উৎস রয়েছে, যা আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে লাভবান করে। তাই যখন সুদহার বেশি থাকে, তখন আর্থিক প্রতিষ্ঠান আর্থিক অন্তর্ভুক্তির জন্য যথেষ্ট সময় ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনা করে, ফলে কার্ডের গ্রাহক সংখ্যা যেমন বাড়ে, তেমন ব্যবহারও বাড়ে।
আমরা মনে করি, ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার বাড়াতে হলে সবার আগে প্রয়োজন গ্রাহকের মধ্যে আর্থিক সচেতনতা বাড়ানো। এক্ষেত্রে মিডল্যান্ড ব্যাংক গ্রাহকের আর্থিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে। ব্যাংকটি ৫০-৩০-২০ মডেল অনুসরণ করার পরামর্শ দেয়। এতে মাসিক আয়ের ৫০ শতাংশ মৌলিক চাহিদায়, ৩০ শতাংশ বিনোদন ও অন্যান্য খরচে এবং ২০ শতাংশ সঞ্চয় ও বিনিয়োগে ব্যয় করার পরামর্শ দেয়া হয়। আমি মনে করি, এতে গ্রাহক তাদের ব্যয় ব্যবস্থাপনা আরো দক্ষতার সঙ্গে করতে পারবেন।
এছাড়া বাংলাদেশে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের প্রবণতা বাড়াতে কিছু নীতিগত পরিবর্তন প্রয়োজন। এক্ষেত্রে ট্যাক্স রিটার্নের বাধ্যবাধকতা পুনর্বিবেচনা, কার্ড পেমেন্টের ওপর আয়কর রেয়াত এবং ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণের খরচ কমানো গেলে কার্ড ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। সেই সঙ্গে সরকারি ফি ও বিল পেমেন্টে বিশেষ সুবিধা দেয়া হলে জনগণ আরো বেশি ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকবে। পাশাপাশি লেনদেনের নিরাপত্তা বাড়াতে আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন ও সচেতনতা বৃদ্ধিরও প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
ডিজিটাল লেনদেন এখন শুধু ব্যাংকিং ব্যবস্থার উন্নয়নেই নয়, বরং অর্থনীতির সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মোবাইল ব্যাংকিং ও অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থার ফলে ব্যবসা এবং ব্যক্তিগত লেনদেন দ্রুত, সাশ্রয়ী ও সহজতর হচ্ছে। এটি অর্থনীতির আনুষ্ঠানিক খাতে আরো বেশি লেনদেন অন্তর্ভুক্ত করছে, যা দীর্ঘমেয়াদে রাজস্ব আয় বাড়াতে সহায়ক হবে।
তবে সমস্যা হলো বাংলাদেশের মানুষ এখনো নগদ লেনদেনের প্রতি বেশি নির্ভরশীল। মিডল্যান্ড ব্যাংক মনে করে, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও ডিজিটাল সুবিধার প্রচার-প্রসারের মাধ্যমে এ অভ্যাস পরিবর্তন করা সম্ভব। ব্যাংকগুলো সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা, ও ব্যবসায়ীদের কার্ড গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করার মাধ্যমে ক্যাশলেস অর্থনীতির দিকে আরো দ্রুত অগ্রসর হতে পারে।
বাংলাদেশে ক্রেডিট কার্ড, ক্যাশলেস সোসাইটির প্রবর্তন ও মানুষের আর্থিক সচেতনতা বাড়াতে যারা কাজ করে যাচ্ছে তাদের মধ্যে অন্যতম অন্যতম মিডল্যান্ড ব্যাংক। মিডল্যান্ড ব্যাংক বর্তমানে দুই ধরনের ক্রেডিট কার্ড বাজারে চালু করেছে গোল্ড ও প্লাটিনাম। এ কার্ডগুলোর মাধ্যমে গ্রাহক বিভিন্ন অর্থনৈতিক সুবিধা ও ক্যাশব্যাক সুবিধা উপভোগ করতে পারেন। বিশেষত, ডিজিটাল অভিজ্ঞতা উন্নত করতে ব্যাংকটি তাদের অনলাইন প্লাটফর্ম ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে গ্রাহককে সহজেই কার্ড ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছে। পাশাপাশি তাদের অনলাইন অ্যাপে দেশের প্রায় সব মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) প্লাটফর্ম সংযুক্ত রয়েছে। এতে গ্রাহক যেকোনো সময়, যেকোনো স্থান থেকে লেনদেন করতে পারছেন। এছাড়া উৎসব আয়োজনে ডিজিটাল পেমেন্টকে উৎসাহিত করতে আমরা এবারের ঈদকে কেন্দ্র করে বেশকিছু অফার দিয়েছি গ্রাহককে। পবিত্র রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে মিডল্যান্ড ব্যাংক তার ক্রেডিট কার্ডধারীদের জন্য আকর্ষণীয় অফার চালু করেছে। গ্রাহক পাবেন ১০ শতাংশ ক্যাশব্যাক এবং সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ডিসকাউন্ট। বিশেষ করে গহনা, লাইফস্টাইল পণ্য এবং ইফতার ও ডিনারে বিশেষ অফার রাখা হয়েছে। এছাড়া গ্রোসারি শপে সাত গুণ রিওয়ার্ড পয়েন্ট এবং ৫০ টাকার প্রতিটি কেনাকাটার জন্য দ্বিগুণ রিওয়ার্ড পয়েন্ট প্রদান করা হচ্ছে। এ অফারগুলো গ্রাহককে ঈদ কেনাকাটায় বাড়তি স্বাচ্ছন্দ্য এনে দেবে এবং তাদের খরচকে আরো সাশ্রয়ী করবে।
মিডল্যান্ড ব্যাংকের মতো আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো যদি ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকে আরো সহজ ও গ্রাহকবান্ধব করে তোলে, তাহলে বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুতই একটি ক্যাশলেস মডেলের দিকে এগিয়ে যাবে। ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও সচেতনতার মাধ্যমে ভবিষ্যতে একটি আধুনিক এবং স্মার্ট অর্থনীতি গড়ে উঠবে, যেখানে নগদ লেনদেনের প্রয়োজনীয়তা কমে আসবে।
Posted ৪:৫১ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৩ মার্চ ২০২৫
bankbimarkhobor.com | Mr. Islam