| বৃহস্পতিবার, ১৩ মার্চ ২০২৫ | প্রিন্ট | 64 বার পঠিত
ডিজিটাল লেনদেনকে প্রান্তিক পর্যায়ে নিতে চেষ্টা করছে এবি ব্যাংক
সব ধরনের গ্রাহকের চাহিদার কথা মাথায় রেখে এবি ব্যাংক পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এবার বাজারে সর্বাধিক ও সর্বোচ্চ অফার আনার চেষ্টা করেছে। আমরা এবার সেগমেন্টভিত্তিক ক্যাশব্যাক ও ডিসকাউন্ট অফার নিয়ে এসেছি হোটেল ও ডাইনিং সেগমেন্টে বুফে ইফতার ও ডিনারে হোটেল সারিনায় একটির সঙ্গে পাঁচটি ফ্রি, গ্রাহকের জন্য যা সর্বোচ্চ অফার এবং বাজারে যা ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এছাড়া অন্যান্য পাঁচ তারকা হোটেলে একটির সঙ্গে তিনটি ফ্রি পর্যন্ত আমাদের কার্ডে অফার রয়েছে।
লাইফস্টাইল সেগমেন্টে আড়ংয়ে আমাদের কার্ডে ২৬ শতাংশ ক্যাশব্যাক অফার রয়েছে। এছাড়া সেইলর, রিচম্যান, ইয়েলোসহ শীর্ষস্থানীয় পোশাক ব্র্যান্ড শপগুলোয় রয়েছে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ক্যাশব্যাক অফার। দেশীদশে এবি ব্যাংকের সব ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড হোল্ডারদের জন্য এক্সক্লুসিভ অফারে হিসেবে থাকছে যেকোনো মূল্যের ক্রয়ের ওপর ফ্ল্যাট ১০ শতাংশ ইনস্ট্যান্ট ডিসকাউন্ট।
গ্রোসারি সেগমেন্টে স্বপ্ন, আগোরা, ইউসনমার্ট, মীনা বাজারসহ অন্যান্য গ্রোসারিশপে রমজান মাসজুড়ে রয়েছে ১৫ শতাংশ ক্যাশব্যাক অফার।
এছাড়া বাটা, এপেক্স, বেসহ অন্যান্য ফুটওয়্যারে রমজান মাসজুড়ে রয়েছে ১৫ শতাংশ ক্যাশব্যাক অফার।
আপনাদের কার্ডকে আরো বেশি জনপ্রিয় করে তুলতে কী ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছেন?
এবি ব্যাংক কার্ডের ব্যবহার ও ডিজিটাল লেনদেনকে শুধু শহরকেন্দ্রিক না রেখে একে প্রান্তিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। সারা দেশে আমাদের প্রায় ১১ হাজারের অধিক কিউআর মার্চেন্ট রয়েছে, বছর শেষে যা ২০ হাজারে পৌঁছবে বলে আমরা আশা রাখি। এছাড়া আমরা আমাদের ডিসকাউন্ট ও ইএমআই মার্চেন্টের সংখ্যা বৃদ্ধি করছি। বর্তমানে আমাদের প্রায় এক হাজার মার্চেন্ট পার্টনার রয়েছে, যা এ বছর শেষে দেড় হাজারে পৌঁছবে। কার্ড গ্রাহকের সেবার পরিধি বাড়াতে ও আধুনিক করতে নতুন কার্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিএমএস) চালু করছে এবি ব্যাংক। যেখানে গ্রাহক আরো নতুন নতুন প্রডাক্ট যেমন প্রি-পেইড কার্ড, ভার্চুয়াল কার্ড, কো-ব্যান্ডেড কার্ডের সেবা নিতে পারবেন। এছাড়া লয়্যালিটি ফিচার, তাৎক্ষণিক ইএমআই ও লোন সুবিধা নতুন এ সফটওয়্যারের মাধ্যমে উপভোগ করতে পারবেন। পাশাপাশি বিভিন্ন উৎসবে ও দিবসে গ্রাহকের জন্য ডিসকাউন্ট, ক্যাশব্যাক, বিশেষ EMI সুবিধা প্রদান ইত্যাদি সারা বছর গ্রাহকের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে। এছাড়া সম্প্রতি আমাদের মোবাইল অ্যাপস ‘এবি ডিরেক্ট’ নতুন আঙ্গিকে বাজারে এসেছে। ফলে কার্ডের গ্রাহকসেবা ব্যবহার আরো সহজ ও দ্রুত হয়েছে।
বাজারে আপনাদের ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডের চাহিদা কেমন?
ক্রেডিট কার্ড এখন বিলাসীপণ্য থেকে মানুষের দৈনন্দিন ব্যবহার্য পণ্যে পরিণত হয়েছে। ফলে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এর ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এবি ব্যাংক নিরাপদ লেনদেনের নিশ্চয়তা, সর্বোচ্চ গ্রাহকসেবা, গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী নিত্যনতুন পরিসেবা ও কার্ড ব্যবহারে নানা রকম সুযোগ-সুবিধা প্রদান করেছে। এবি ব্যাংক বছরজুড়ে বিভিন্ন অফার প্রদান করার মাধ্যমে ক্রেডিট কার্ডে আরো জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।
কেন গ্রাহক অন্যদের কার্ড ব্যবহার না করে আপনাদেরটি ব্যবহার করবেন?
ক্রেডিট কার্ড মার্কেটে এবি ব্যাংকের প্রবেশ একটু বিলম্বিত হলেও গ্রাহকের চাহিদা মাথায় রেখে কার্ড ব্যবহারে নানা রকম অফার, সুযোগ-সুবিধা এবং সর্বোপরি সর্বোত্তম গ্রাহক সেবা প্রদানে এবি ব্যাংকের কার্ডের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবি ব্যাংকের কার্ড পোর্টফোলিও তিন বছরে তিন গুণের বেশি বেড়েছে। গ্রাহকের পছন্দের তালিকায় জায়গা করে নিতে পারায় এ সফলতা এসেছে বলে আমরা মনে করি।
গ্রাহকের জন্য আপনাদের কত ধরনের ক্রেডিট কার্ড আছে?
বর্তমানে এবি ব্যাংকের মাস্টার ওয়ার্ল্ড, টাইটেনিয়াম ও গোল্ড এ তিন ধরনের ক্রেডিট কার্ড চালু রয়েছে। তবে শিগগিরই আমরা আরো নতুন ব্র্যান্ডের বিভিন্ন প্রকার ক্রেডিট কার্ড বাজারে আনতে যাচ্ছি।
সুদহার বেড়ে যাওয়ার বিরূপ প্রভাব ক্রেডিট কার্ডের বাজারে কেমন পড়েছে?
শুধু সুদহার নয়, মূল্যস্ফীতি বাড়ার কারণেও ক্রেডিট কার্ড বাজারে কিছুটা প্রভাব পড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সুদহার বাড়ায় গ্রাহকেরা কিছুটা পরিকল্পিত ব্যয় করছেন। এতে বাজারে কার্ড ব্যবহারের পরিমাণ কিছুটা কমেছে, অন্যদিকে আবার নতুন কার্ড ব্যবহারকারীর সংখ্যাও বেড়েছে
বাংলাদেশের মানুষ এখনো নগদ লেনদেনে বেশি অভ্যস্ত। এ অভ্যাস পরিবর্তন করা যায় কীভাবে?
নগদ লেনদেন থেকে নগদহীন ও ডিজিটাল লেনদেনে রূপান্তর করতে হলে সর্বপ্রথম প্রয়োজন সাধারণ মানুষের মানসিকতা পরিবর্তন এবং এর সুফল ও সুবিধা সম্পর্কে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সচেতন করা এবং সর্বোপরি সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা করা, যাতে মানুষ নগদ লেনদেন থেকে ডিজিটাল লেনদেনে উৎসাহিত ও অভ্যস্ত হয়।
দেশের সামগ্রিক অবকাঠামো এখনো ডিজিটাল লেনদেন উপযোগী নয়। এক্ষেত্রে সরকারের কাছে আপনাদের প্রত্যাশা কী?
ডিজিটাল লেনদেনকে সামগ্রিক ও সর্বজনীন করার জন্য সরকারের অগ্রণী ভূমিকা অনস্বীকার্য। সরকারের সব সেবাকে ডিজিটাল করে যদি একই প্লাটফর্মে নিয়ে আসা যায়, তবে ডিজিটাল লেনদেনের জন্য একটি শক্ত অবকাঠামো তৈরি হবে বলে আমরা মনে করি। পাশাপাশি ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও এমএফএস পেমেন্ট ইকোসিস্টেমকে আরো সমৃদ্ধ করতে হবে। নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা কর্তৃক ডিজিটাল পেমেন্টসংক্রান্ত নীতিমালা পরিবর্তন ও সহজতর করে বেসরকারি পর্যায়ে ডিজিটাল লেনদেন অবকাঠামো তৈরি করতে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। বিভিন্ন ধরনের জনসচেতনতামূলক প্রচার এবং সরকারি প্রণোদনা ডিজিটাল লেনদেনকে আরো জনপ্রিয় করে তুলবে।
Posted ৪:৫২ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৩ মার্চ ২০২৫
bankbimarkhobor.com | Mr. Islam