শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

খেলাপি ঋণের হার ১০ শতাংশের বেশি হলে ব্যাংকের লভ্যাংশ ঘোষণা করা যাবে না

  |   শনিবার, ১৫ মার্চ ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   63 বার পঠিত

খেলাপি ঋণের হার ১০ শতাংশের বেশি হলে ব্যাংকের লভ্যাংশ ঘোষণা করা যাবে না

খেলাপি ঋণের হার ১০ শতাংশের বেশি হলে ব্যাংকের লভ্যাংশ ঘোষণা করা যাবে না

দেশের কোনো ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ১০ শতাংশের বেশি হলে সেটি আর লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারবে না। খেলাপি ঋণের বিপরীতে সঞ্চিতি (প্রভিশন) ঘাটতি থাকলে সে ব্যাংকের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘অফ সাইট সুপারভিশন’ বিভাগ থেকে জারীকৃত এক প্রজ্ঞাপনে এ নির্দেশনা দেয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে শেয়ারের বিপরীতে লভ্যাংশ ঘোষণার যোগ্যতা ও অযোগ্যতা নির্ধারণের পাশাপাশি এ-সংক্রান্ত বিস্তারিত নীতিমালা জারি করা হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, দেশের ব্যাংক খাতের সার্বিক পরিস্থিতি, আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা, ব্যাংকগুলোর আর্থিক সক্ষমতা এবং ব্যাংকের শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের রিটার্নের বিষয়টি সামগ্রিকভাবে বিবেচনা করে শেয়ারের বিপরীতে লভ্যাংশ বিতরণের ক্ষেত্রে ছয় ধরনের নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে। সেগুলো হলো ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১ (২০২৩ পর্যন্ত সংশোধিত)-এর ধারা ২২ ও ধারা ২৪ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের জারীকৃত এ-সংক্রান্ত নির্দেশনাগুলোর যথাযথ পরিপালন নিশ্চিত করতে হবে। কেবল বিবেচ্য পঞ্জিকাবর্ষের মুনাফা থেকে নগদ লভ্যাংশ দেয়া যাবে; আগের পুঞ্জীভূত মুনাফা থেকে কোনো নগদ লভ্যাংশ বিতরণ করা যাবে না। সিআরআর ও এসএলআর ঘাটতিজনিত আরোপিত দণ্ডসুদ ও জরিমানা অনাদায়ী থাকা যাবে না। ব্যাংকের শ্রেণীকৃত ঋণ ও বিনিয়োগের হার মোট ঋণ ও বিনিয়োগের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশের অধিক হবে না। ঋণ বা বিনিয়োগ ও অন্যান্য সম্পদের বিপরীতে কোনো প্রকার সংস্থান (প্রভিশন) ঘাটতি থাকা যাবে না। প্রভিশন সংরক্ষণসহ অন্যান্য ব্যয় মেটানোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে কোনো ধরনের ডেফারাল সুবিধা নিলে প্রদত্ত ডেফারাল সুবিধা বহাল থাকা অবস্থায় কোনো ধরনের লভ্যাংশ ঘোষণা করা যাবে না।

প্রজ্ঞাপনে ব্যাংকের লভ্যাংশ নির্ধারণের পদ্ধতিও তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, উল্লেখিত ছয়টি শর্ত সম্পূর্ণভাবে পরিপালনকারী ব্যাংকগুলোর লভ্যাংশ বিতরণের ক্ষেত্রে ঘোষিত লভ্যাংশের পরিমাণ ডিভিডেন্ড পেআউট রেশিওর হার দিয়ে নির্ধারিত হবে। এক্ষেত্রে ডিভিডেন্ড পেআউট রেশিও বলতে ব্যাংকের ঘোষিত লভ্যাংশের পরিমাণ এবং ব্যাংকের কর-পরবর্তী মুনাফার অনুপাতকে নির্দেশ করে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, শর্তপূরণকারী ব্যাংকগুলোর মধ্যে যেগুলো প্রভিশন সংরক্ষণসহ অন্যান্য ব্যয় মেটানোর পর ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে ২ দশমিক ৫ শতাংশ ক্যাপিটাল কনজারভেশন বাফারসহ ন্যূনতম ১৫ শতাংশ মূলধন সংরক্ষণ করতে সক্ষম হবে, সেসব ব্যাংক তাদের সামর্থ্য অনুসারে নগদ ও স্টক লভ্যাংশ বিতরণ করতে পারবে। সেক্ষেত্রে তাদের ডিভিডেন্ড পেআউট রেশিও সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশের বেশি হবে না। পাশাপাশি লভ্যাংশ বিতরণ-পরবর্তী মূলধন পর্যাপ্ততার হার (ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে সংরক্ষিত মূলধনের হার) কোনোভাবেই ১৩ দশমিক ৫ শতাংশের নিচে নামতে পারবে না।

অন্যদিকে যেসব ব্যাংক প্রভিশন সংরক্ষণসহ অন্যান্য ব্যয় মেটানোর পর ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে ২ দশমিক ৫ শতাংশ ক্যাপিটাল কনজারভেশন বাফারসহ ন্যূনতম ১২ দশমিক ৫ শতাংশের অধিক কিন্তু ১৫ শতাংশের কম মূলধন সংরক্ষণ করতে সক্ষম হবে, সেগুলো তাদের সামর্থ্য অনুসারে নগদ ও স্টক লভ্যাংশ বিতরণ করতে পারবে। সেক্ষেত্রে তাদের ডিভিডেন্ড পেআউট রেশিও সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশের অধিক হবে না এবং লভ্যাংশ বিতরণ-পরবর্তী মূলধন পর্যাপ্ততার হার কোনোভাবেই ১২ দশমিক ৫ শতাংশের নিচে নামতে পারবে না।

প্রভিশন সংরক্ষণসহ অন্যান্য ব্যয় মেটানোর পর যেসব ব্যাংকের ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে সংরক্ষিত মূলধনের হার ১২ দশমিক ৫ শতাংশের কম, কিন্তু ন্যূনতম রক্ষিতব্য মূলধনের (১০%) বেশি হবে সেসব ব্যাংক তাদের সামর্থ্য অনুসারে কেবল স্টক লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারবে। কোনো ব্যাংকই পরিশোধিত মূলধনের ৩০ শতাংশের বেশি লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারবে না বলেও শর্তারোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস সংক্রমণের সময় ২০২১ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে লভ্যাংশ বিতরণসংক্রান্ত একটি নীতিমালা জারি করা হয়েছিল। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে কার্যকর হওয়া ওই প্রজ্ঞাপনের শর্তগুলো এখনো ব্যাংক খাতের জন্য কার্যকর রয়েছে। গতকালের প্রজ্ঞাপনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, নতুন প্রজ্ঞাপনের শর্ত চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত বছরের লভ্যাংশ ঘোষণার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৪:৪২ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ১৫ মার্চ ২০২৫

bankbimarkhobor.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

[abm_bangladesh_map]
advertisement
advertisement
advertisement
সম্পাদক
মোঃ ইসলাম শেখ
কার্যালয়

৭৯, সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোড, (৩য় তলা, বাম দিক), সিদ্ধেশ্বরী, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭

01760742336

bankbimarkhobor@gmail.com