| বুধবার, ০৯ জুলাই ২০২৫ | প্রিন্ট | 174 বার পঠিত
সামাজিক ব্যবসার সঙ্গে কিছুটা পরিচিত দেশের ৬৪% ব্যাংকার
বাংলাদেশে সামাজিক ব্যবসার বিস্তৃতি ঘটলেও ব্যাংক খাতে এ বিষয়ে এখনো সচেতনতার অভাব রয়েছে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের মাত্র ৬৪ শতাংশ ব্যাংকার এ ধারণার সঙ্গে ‘কিছুটা পরিচিত’। বাকি ২৭ শতাংশ ব্যাংকার কেবল সামাজিক ব্যবসার নাম শুনলেও ৯ শতাংশ একেবারেই অপরিচিত।
বিআইবিএমের আয়োজনে ‘বাংলাদেশে সামাজিক ব্যবসার অর্থায়নে ব্যাংকের ভূমিকা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে গতকাল এ তথ্য উঠে আসে। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ড. প্রশান্ত কুমার ব্যানার্জী, সহযোগী অধ্যাপক ড. শহীদ উল্লাহ, ফ্যাকাল্টি মেম্বার ড. মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম সরকার এবং গ্রামীণ ট্রাস্টের নির্বাহী ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল হাই খান।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রবর্তিত সামাজিক ব্যবসার মডেল বিশ্বজুড়ে সফলতা পেলেও দেশে এর বাস্তবায়ন এখনো সীমিত। এ ব্যবসার জন্মস্থান বাংলাদেশ হলেও জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপসহ অনেক দেশে সরকারি সহায়তা ও নীতিগত কাঠামো তুলনামূলকভাবে বেশি শক্তিশালী হওয়ায় এসব দেশে সরকার, করপোরেট ও আর্থিক খাত যৌথভাবে এর বিস্তার ঘটাচ্ছে। বাংলাদেশে এ খাতের নেতৃত্ব সীমিত কিছু প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক। গ্রামীণ ও ব্র্যাক মিলে মাত্র ৪৮টি সামাজিক ব্যবসা পরিচালনা করছে। গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের ব্যাংকগুলোর মাত্র ১৮ শতাংশ কোনো না কোনোভাবে সামাজিক ব্যবসায় অর্থায়নে যুক্ত রয়েছে।
বিশ্বজুড়ে সামাজিক ব্যবসা এখন শুধু একটি ধারণা নয় বরং দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও সামাজিক বৈষম্য মোকাবেলার কার্যকর কৌশল। যুক্তরাষ্ট্রে সামাজিক ব্যবসা মূলত বাজারনির্ভর। একুমেন, জিআইআইএন, ব্লু-অরচার্ডের মতো শতাধিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও ইমপ্যাক্ট ইনভেস্টর প্রতিষ্ঠান এ খাতে বিনিয়োগ করছে। সোশ্যাল ইনোভেশন ফান্ডের মাধ্যমে সরকারও সীমিত সহায়তা দেয়।
ইউরোপে সামাজিক ব্যবসা পরিচালিত হয় কো-অপারেটিভ ও মিউচুয়াল মডেলে। ইউরোপিয়ান কমিশনের এন্টারপ্রাইজ ডিরেক্টরেট জেনারেল ১৯৮৯ সাল থেকেই এ খাতকে অনুদান ও নীতিগত সহায়তা দিয়ে আসছে। ভারতে আভিস্কার, ওমনিভোর, এলিভার ইকুইটির মতো প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন পর্যায়ে সামাজিক উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন ও পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করছে। দেশটিতে সামাজিক ব্যবসা এখন একটি পূর্ণাঙ্গ ইকোসিস্টেমে পরিণত হয়েছে।
গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা জানান, বাংলাদেশে সামাজিক ব্যবসায় ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি সহায়তার সঙ্গে আইন প্রণয়ন প্রয়োজন। তাদের মতে, সামাজিক ব্যবসার টেকসই বিস্তারে প্রধান বাধা অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা। মুনাফার অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকির কারণে ব্যাংক ও বিনিয়োগকারীরা এ খাতের প্রতি অনাগ্রহী। ফলে অধিকাংশ সামাজিক ব্যবসা এখনো অনুদান, দান অথবা অল্পসংখ্যক উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তির অর্থায়নের ওপর নির্ভর করে, যা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়।
বৈঠকে বিআইবিএমের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান নুরুন নাহার বলেন, ‘দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনতে সামাজিক ব্যবসা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’ তিনি জানান, বিশ্বের অনেক দেশ এরই মধ্যে এ মডেলকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকেও এ খাতে অর্থায়ন সম্ভব, তবে নিশ্চিত করতে হবে তা যেন রিটার্নভিত্তিক হয়।
শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোসলেহ উদ্দিন আহমেদের মতে, সামাজিক ব্যবসা ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে কর্মসংস্থান তৈরি সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘ব্যাংকের সিএসআর তহবিলের সবটুকু সামাজিক ব্যবসায় খরচ করা বাস্তবসম্মত নয়। বরং যৌক্তিক পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ ও অভিজ্ঞদের সম্পৃক্ত করতে পারলে সামাজিক ব্যবসায় বিনিয়োগের কার্যকারিতা আসবে।’
ব্যাংকের সিএসআর তহবিল সামাজিক ব্যবসার জন্য সম্ভাবনাময় উৎস উল্লেখ করে বিআইবিএমের মহাপরিচালক এসএম আব্দুল হাকিম বলেন, ‘তবে এর পাশাপাশি করপোরেট গ্রুপগুলোর মুনাফার নির্দিষ্ট একটি অংশ সরকারের মাধ্যমে সংগঠিতভাবে সামাজিক ব্যবসায় ব্যয় করা গেলে, সেটি সিএসআরের তুলনায় বহু গুণ বেশি প্রভাব ফেলতে পারে।’
Posted ৫:০১ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ০৯ জুলাই ২০২৫
bankbimarkhobor.com | Mr. Islam