শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের সামনে গ্রাহকদের জমায়েত

  |   সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   41 বার পঠিত

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের সামনে গ্রাহকদের জমায়েত

রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের প্রধান কার্যালয়ের সামনে গ্রাহকদের একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে ব্যাংক খাতে অনিয়ম, লুটপাট ও অর্থপাচারের অভিযোগের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয় এবং পাঁচ দফা দাবি আদায়ে টানা ১৫ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে এই সমাবেশ শুরু হয়। এতে বিপুল সংখ্যক ব্যবসায়ী, শেয়ারহোল্ডার এবং সাধারণ গ্রাহক অংশ নেন।

সমাবেশে বক্তব্য দেন ভুক্তভোগী গ্রাহক সমন্বয় পরিষদের সভাপতি নুরুন নবি মানিক। তিনি বলেন, দেশের প্রথম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক হিসেবে ইসলামী ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে শিল্প, ব্যবসা ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। তবে একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে ব্যাংকটিকে দুর্বল করে দিয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তার দাবি, ঋণখেলাপি ও অর্থপাচারের মাধ্যমে বিপুল অর্থ দেশের বাইরে পাচার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ব্যাংকের পরিচালনা কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং জোরপূর্বক নেতৃত্ব বদল করা হয়েছে। পরবর্তীতে আইন সংশোধনের মাধ্যমে ঋণখেলাপিদের আবারও ব্যাংকের মালিকানায় ফেরার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা তিনি জনস্বার্থবিরোধী বলে মন্তব্য করেন।

নুরুন নবি মানিক অভিযোগ করেন, একটি গোষ্ঠী আবারও ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে এবং পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ব্যাংকের স্বার্থবিরোধী কোনো অপচেষ্টা সফল হতে দেওয়া হবে না।

তিনি আরও জানান, সম্প্রতি কিছু ব্যক্তি ব্যাংকের সামনে অবস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

সমাবেশ থেকে পাঁচ দফা দাবি ঘোষণা করা হয়। এগুলো হলো—
১. ব্যাংক লুটপাট ও ঋণখেলাপিদের গ্রেফতার, সম্পদ বাজেয়াপ্ত এবং বিদেশে পাচারকৃত অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা।
২. লুটেরাদের পুনর্বাসনের সুযোগ দেয় এমন আইনগত ধারা (১৮/ক) বাতিল করা।
৩. ব্যাংকের সামনে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটলে সরকারকে দায় নিতে হবে।
৪. কোনো অবৈধ দখলদার গোষ্ঠীকে ব্যাংকে প্রবেশ করতে না দেওয়া।
৫. ব্যাংকের প্রকৃত মালিকদের কাছে মালিকানা দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়া।

দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১৫ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে অনলাইন ও অফলাইনে লিফলেট বিতরণ, পোস্টারিং ও প্রচারণা, ছাত্র-যুবক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, তথ্য সংগ্রহ, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মানববন্ধন, সভা ও সেমিনার আয়োজন।

বক্তারা বলেন, দেশের কোটি কোটি আমানতকারীর স্বার্থ রক্ষায় ব্যাংক খাতকে অল্প কিছু ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে ছেড়ে দেওয়া যাবে না। তারা সংগঠিত আন্দোলনের মাধ্যমে জনমত গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

এছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিরোধ কমিটি গঠনের আহ্বান জানানো হয়, যাতে ঘোষিত কর্মসূচি আরও সংগঠিতভাবে বাস্তবায়ন করা যায়।

সম্প্রতি ব্যাংক খাতে অনিয়ম, মালিকানা বিরোধ এবং চাকরিচ্যুতি ইস্যুকে কেন্দ্র করে মতিঝিল এলাকায় একাধিক কর্মসূচি দেখা যাচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় এই গ্রাহক সমাবেশ নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৬:২৪ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

bankbimarkhobor.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

[abm_bangladesh_map]
advertisement
advertisement
advertisement
সম্পাদক
মোঃ ইসলাম শেখ
কার্যালয়

৭৯, সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোড, (৩য় তলা, বাম দিক), সিদ্ধেশ্বরী, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭

01760742336

bankbimarkhobor@gmail.com