| সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট | 46 বার পঠিত
দেশের ব্যাংকিং খাতে সামগ্রিকভাবে নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যে শীর্ষ ঋণমান বা ‘এএএ’ (ট্রিপল এ) ক্রেডিট রেটিং ধরে রেখে নিজেদের আর্থিক সক্ষমতা, সুশাসন ও পরিচালন দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছে ছয়টি বেসরকারি ব্যাংক। ব্যাংকগুলো হলো ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক পিএলসি, পূবালী ব্যাংক লিমিটেড, ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি, সিটি ব্যাংক পিএলসি এবং প্রাইম ব্যাংক পিএলসি।
ব্যাংকিং খাতে ক্রেডিট রেটিং একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সূচক। এটি কোনো প্রতিষ্ঠানের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা, আর্থিক স্থিতিশীলতা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, তারল্য, মূলধন ভিত্তি এবং করপোরেট সুশাসনের মান বিবেচনায় নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে ‘এএএ’ সর্বোচ্চ রেটিং হিসেবে বিবেচিত হয়, যা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতি উচ্চমাত্রার আস্থা ও নির্ভরযোগ্যতার প্রতিফলন।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে দেশের ব্যাংকিং খাত খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি, তারল্য সংকট এবং মুনাফার ওপর চাপসহ নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এমন বাস্তবতায় সর্বোচ্চ ঋণমান ধরে রাখা সহজ নয়। এজন্য শক্তিশালী আর্থিক ভিত্তি, কার্যকর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, মানসম্পন্ন সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক স্থিতিশীলতা প্রয়োজন হয়।
শীর্ষ রেটিংধারী ব্যাংকগুলোর মধ্যে ইস্টার্ন ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক ও সিটি ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে করপোরেট ব্যাংকিং, বৈদেশিক বাণিজ্য, ডিজিটাল সেবা এবং উদ্ভাবনী আর্থিক পণ্যের জন্য পরিচিত। অন্যদিকে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং, এটিএম নেটওয়ার্ক এবং মোবাইল আর্থিক সেবার সম্প্রসারণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। পূবালী ব্যাংক দেশের অন্যতম প্রাচীন বেসরকারি ব্যাংক হিসেবে বিস্তৃত শাখা নেটওয়ার্ক ও গ্রাহকভিত্তির কারণে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ধরে রেখেছে। প্রাইম ব্যাংকও করপোরেট, এসএমই ও খুচরা ব্যাংকিং সেবায় ধারাবাহিক সাফল্যের মাধ্যমে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, একটি ব্যাংকের উচ্চ ক্রেডিট রেটিং শুধু ওই প্রতিষ্ঠানের সুনামই বাড়ায় না, বরং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী, আমানতকারী এবং ব্যবসায়িক অংশীদারদের আস্থাও বৃদ্ধি করে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বৈদেশিক অর্থায়ন এবং আন্তঃব্যাংক লেনদেনেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে ব্যাংকিং খাতে সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেড়েছে। তাই সর্বোচ্চ ক্রেডিট রেটিং ধরে রাখতে ব্যাংকগুলোকে শুধু আর্থিক সূচক নয়, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, সাইবার নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রক নির্দেশনা অনুসরণ এবং গ্রাহকসেবার মান উন্নয়নেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে যখন আর্থিক স্থিতিশীলতা ও আস্থা পুনরুদ্ধারের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে, তখন সর্বোচ্চ ‘এএএ’ ক্রেডিট রেটিংধারী এই ছয়টি ব্যাংকের অবস্থান খাতটির জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শক্তিশালী আর্থিক ভিত্তি, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং সুশাসনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে এসব ব্যাংক ভবিষ্যতেও দেশের ব্যাংকিং খাতের নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
Posted ১১:৩৯ এএম | সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
bankbimarkhobor.com | Mr. Islam