মূলধন সংকটে ইউএইতে জনতা ব্যাংকের চার শাখা বন্ধের শঙ্কা

  |   বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   24 বার পঠিত

মূলধন সংকটে ইউএইতে জনতা ব্যাংকের চার শাখা বন্ধের শঙ্কা

মূলধন সংকটের কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) শাখাগুলোর কার্যক্রম বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক (সিবিইউএই) প্রয়োজনীয় মূলধন ঘাটতি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ব্যাংকটির চারটি শাখায় নতুন গ্রাহক হিসাব খোলা বন্ধ, ডেবিট লেনদেনে নিয়ন্ত্রণ এবং ধাপে ধাপে বিদ্যমান কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

সিবিইউএইর সহকারী গভর্নর আহমেদ সাঈদ আল কামজি গত ৮ জুলাই জনতা ব্যাংকের ইউএই প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ কামরুজ্জামানকে পাঠানো এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেন। একইসঙ্গে বিষয়টি দ্রুত জনতা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকে জানিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরদিন ৯ জুলাই এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছেও পৃথক চিঠি পাঠানো হয়।

ইউএইর ব্যাংকিং বিধিমালা অনুযায়ী, সেখানে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য জনতা ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ৪০০ মিলিয়ন দিরহাম হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধন রয়েছে মাত্র ১০০ মিলিয়ন দিরহাম। অর্থাৎ প্রায় ৩০০ মিলিয়ন দিরহাম বা প্রায় এক হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ মূলধন ঘাটতি রয়েছে। এ ঘাটতি পূরণ না হলে শাখাগুলোর কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সিবিইউএই জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় মূলধন ধরে রাখতে না পারা এবং বাংলাদেশে জনতা ব্যাংকের সামগ্রিক আর্থিক অবস্থার অবনতির কারণে এই নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, গ্রাহকদের দাবির বাইরে কোনো অর্থ উত্তোলন করা যাবে না এবং প্রতিটি ডেবিট লেনদেনের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হবে। পাশাপাশি নতুন গ্রাহক গ্রহণ বন্ধ রেখে বিদ্যমান দায়-দেনা নিষ্পত্তির দিকে গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ে গত ১৪ জুলাই জনতা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ৮৮৪তম সভায় আলোচনা হয়। সভায় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সমন্বয়ে জরুরি বৈঠক আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই দিন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি অবহিত করেন এবং দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানান।

এ বিষয়ে জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান বলেন, ইউএই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে তিন বছরে ধাপে ধাপে পরিশোধিত মূলধন ৪০০ মিলিয়ন দিরহামে উন্নীত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যদি এ প্রস্তাব গ্রহণ না করা হয়, তাহলে সরকারের সহায়তায় প্রয়োজনীয় মূলধন জোগানের চেষ্টা করা হবে।

তিনি বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাতের উচ্চ খেলাপি ঋণ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ রয়েছে। জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হারও অনেক বেশি হলেও ব্যাংকটির স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। কৃষি ও ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ, এলসি খোলা, রেমিট্যান্স সেবা এবং অন্যান্য ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু রয়েছে। বড় ঋণ বিতরণ আপাতত সীমিত রাখা হয়েছে এবং খেলাপি ঋণ আদায়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে জনতা ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৫২ হাজার ৮৯১ কোটি টাকা। চলতি বছরের মার্চ শেষে ব্যাংকটির নিরাপত্তা সঞ্চিতির ঘাটতি ৫০ হাজার ১৩১ কোটি টাকা এবং খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে ৭৪ হাজার ৯৯৬ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা মোট ঋণের প্রায় ৭৪ শতাংশ।

১৯৭৬ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে কার্যক্রম শুরু করে জনতা ব্যাংক। বর্তমানে আবুধাবি, দুবাই, শারজাহ ও আল-আইনে ব্যাংকটির চারটি শাখা রয়েছে। এসব শাখা মূলত প্রবাসীদের রেমিট্যান্স, আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য, ট্রেড ফাইন্যান্স, আমানত গ্রহণ এবং বিভিন্ন ব্যাংকিং সেবা দিয়ে থাকে।

তবে প্রয়োজনীয় মূলধন জোগান না হলে ইউএই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী শাখাগুলোর কার্যক্রম ধাপে ধাপে বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং প্রয়োজনীয় মূলধন জোগানই এখন জনতা ব্যাংকের ইউএই কার্যক্রম টিকিয়ে রাখার প্রধান শর্ত।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৫:৩৩ এএম | বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

bankbimarkhobor.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

[abm_bangladesh_map]
advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

সম্পাদক
মোঃ ইসলাম শেখ
কার্যালয়

৭৯, সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোড, (৩য় তলা, বাম দিক), সিদ্ধেশ্বরী, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭

01760742336

bankbimarkhobor@gmail.com